১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি জাতিসংঘ অধিবেশনে গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান পাকিস্তানের থার্ড পার্টি অ্যাপ হ্যাক করে বিগকমার্সের ক্রেতাদের তথ্য ফাঁস ইসলামাবাদে পিটিআই নেতাদের বাড়িতে অভিযানের অভিযোগ, এসএসপিকে তলব হাইকোর্টের পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ‘সোনালি সুযোগ’ বলছে তেহরান সিঁড়ি ভাঙার এই সহজ অভ্যাসই বাড়াতে পারে আয়ু, বলছেন চিকিৎসকেরা বিগ ফার্মার প্রবৃদ্ধির সংকট, সমাধান হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ অধিগ্রহণ ইয়েমেনের হুথিদের চাপে সৌদি আরব: তেলের পথ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি নয়, নিজেকে ভালোবাসার ১০ উপায়

বড় করপোরেট ঋণে লাগাম, বন্ড বাজারে ঝুঁকতে হবে শিল্পগোষ্ঠীগুলো: গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর

ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প পথ তৈরি করতে বড় করপোরেট ঋণ সীমিত করে বন্ড বাজার শক্তিশালী করার কৌশল ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় প্রকল্পে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর শুধু ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে থাকতে দেওয়া হবে না। বরং বন্ড বাজারের দিকে এগোতে উৎসাহিত করা হবে।

একক ঋণগ্রহীতা সীমা কঠোরভাবে কার্যকর

গভর্নর জানান, ‘সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট’ নীতিমালা কঠোরভাবে মানা হবে। এর আওতায় কোনো ব্যাংক তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি একটি প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিতে পারবে না। এর মধ্যে তহবিলভিত্তিক ঋণ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং তহবিলবহির্ভূত ঋণ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে।

তবে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সীমা কিছুটা নমনীয় রাখা হবে বলে জানান তিনি।

বন্ড বাজারে ঠেলে দেওয়ার কৌশল

এই ঋণসীমাকে গভর্নর একটি ‘পুশ ফ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, বড় করপোরেটগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অর্থের চাহিদা মেটাতে ব্যাংকের বদলে বন্ড বাজারই হওয়া উচিত মূল ভরসা। এতে ব্যাংকের ঝুঁকি কমবে, একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ব্যাংকঋণই খেলাপির মূল কারণ

সেমিনারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, সহজে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকায় এতদিন করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে যেতে আগ্রহ দেখায়নি। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংকঋণই দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, করপোরেট অর্থায়নের ভারসাম্য বদলাতে না পারলে ব্যাংক খাতের চাপ কমবে না।

নিয়ন্ত্রণ যাবে পুঁজিবাজারের হাতে

ড. মনসুর আরও বলেন, অর্থনীতিকে ধাপে ধাপে ব্যাংকনির্ভরতা থেকে পুঁজিবাজারনির্ভরতায় নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। আপাতত এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তবে ভবিষ্যতে বন্ড বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতেই দেওয়া হবে।

বন্ড ইস্যু সহজ করতে যৌথ উদ্যোগ

বন্ড ইস্যুকে আকর্ষণীয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি একসঙ্গে কাজ করছে। বন্ড ছাড়তে সময় ও খরচ কমানো, বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে বাজারকে সামঞ্জস্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সেমিনারে নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ

রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে আয়োজিত এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন অর্থসচিব খাইরুজ্জামান মজুমদার, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন করপোরেট ও ব্যাংক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির যৌথ গবেষণার ভিত্তিতে উপস্থাপিত আলোচনায় দেশের টেকসই সেকেন্ডারি বন্ড বাজার গঠনের একটি স্পষ্ট রূপরেখাও তুলে ধরা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি

বড় করপোরেট ঋণে লাগাম, বন্ড বাজারে ঝুঁকতে হবে শিল্পগোষ্ঠীগুলো: গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর

০৯:০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প পথ তৈরি করতে বড় করপোরেট ঋণ সীমিত করে বন্ড বাজার শক্তিশালী করার কৌশল ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় প্রকল্পে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর শুধু ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে থাকতে দেওয়া হবে না। বরং বন্ড বাজারের দিকে এগোতে উৎসাহিত করা হবে।

একক ঋণগ্রহীতা সীমা কঠোরভাবে কার্যকর

গভর্নর জানান, ‘সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট’ নীতিমালা কঠোরভাবে মানা হবে। এর আওতায় কোনো ব্যাংক তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি একটি প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিতে পারবে না। এর মধ্যে তহবিলভিত্তিক ঋণ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং তহবিলবহির্ভূত ঋণ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে।

তবে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সীমা কিছুটা নমনীয় রাখা হবে বলে জানান তিনি।

বন্ড বাজারে ঠেলে দেওয়ার কৌশল

এই ঋণসীমাকে গভর্নর একটি ‘পুশ ফ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, বড় করপোরেটগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অর্থের চাহিদা মেটাতে ব্যাংকের বদলে বন্ড বাজারই হওয়া উচিত মূল ভরসা। এতে ব্যাংকের ঝুঁকি কমবে, একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ব্যাংকঋণই খেলাপির মূল কারণ

সেমিনারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, সহজে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকায় এতদিন করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে যেতে আগ্রহ দেখায়নি। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংকঋণই দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, করপোরেট অর্থায়নের ভারসাম্য বদলাতে না পারলে ব্যাংক খাতের চাপ কমবে না।

নিয়ন্ত্রণ যাবে পুঁজিবাজারের হাতে

ড. মনসুর আরও বলেন, অর্থনীতিকে ধাপে ধাপে ব্যাংকনির্ভরতা থেকে পুঁজিবাজারনির্ভরতায় নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। আপাতত এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তবে ভবিষ্যতে বন্ড বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতেই দেওয়া হবে।

বন্ড ইস্যু সহজ করতে যৌথ উদ্যোগ

বন্ড ইস্যুকে আকর্ষণীয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি একসঙ্গে কাজ করছে। বন্ড ছাড়তে সময় ও খরচ কমানো, বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে বাজারকে সামঞ্জস্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সেমিনারে নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ

রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে আয়োজিত এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন অর্থসচিব খাইরুজ্জামান মজুমদার, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন করপোরেট ও ব্যাংক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির যৌথ গবেষণার ভিত্তিতে উপস্থাপিত আলোচনায় দেশের টেকসই সেকেন্ডারি বন্ড বাজার গঠনের একটি স্পষ্ট রূপরেখাও তুলে ধরা হয়।