১১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে শিক্ষকের মান কেন এত দুর্বল: সংকটের গভীর কারণ ও বাস্তবতা বিরক্তির মৃত্যু নাকি নতুন সংকট: ব্রিটেনে কমছে একসময়ের ‘মহামারি’ অনুভূতি ইসলামাবাদে আলোচনায় ইরানের কঠোর বার্তা, এক্স বার্তায় স্পষ্ট করলেন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানি মিডিয়ার দাবি: যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবিতে’ ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা চাপ নয়, নিজের শর্তেই আলোচনা—কঠোর বার্তা ইরানের টানা সাত দিন উড়তে পারে যে বিমান, এড়াতে পারে পারমাণবিক হামলার প্রভাব পাকিস্তানে ইরান- আমেরিকা আলোচনা ব্যর্থ: ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও শান্তি চুক্তি হয়নি, জানালেন ভ্যান্স যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে সহজ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে এক গ্রাম টোকিওর পথে পুরোনো প্রেম, না কি নতুন শুরু? সম্পর্কের জটিলতায় ভরপুর এক ভিন্নধর্মী প্রেমকাহিনি

চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় গম চালান, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূতের সফর

চট্টগ্রাম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬—বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এই সফরের মূল উপলক্ষ ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বড় একটি গমের চালানকে স্বাগত জানানো এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা।

চট্টগ্রাম বন্দরে গমের ঐতিহাসিক আগমন

২৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন উচ্চমানের মার্কিন গমের চালান পৌঁছায়। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার। এই চালানটি একটি বৃহৎ সরবরাহের অংশ, যেখানে মোট গমের পরিমাণ এক লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি।

বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা পুষ্টিকর গম

এই সরবরাহের মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন, ওরেগন ও আইডাহো অঙ্গরাজ্য থেকে আসা প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সফট হোয়াইট গম এবং মন্টানা ও নেব্রাস্কা থেকে আসা প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন হার্ড রেড উইন্টার গম। এসব গম উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, যা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের গম চাহিদা ও মার্কিন বাজারের গুরুত্ব

বাংলাদেশে বছরে মোট গমের চাহিদার মাত্র ১৩ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি। এই তিনটি বড় চালান একত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরেছে।

দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ

২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের গমচাষিদের মনোনীত বাণিজ্য সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর সর্বোচ্চ সাত লাখ মেট্রিক টন মার্কিন গম কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই সমঝোতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্পের মাধ্যমে প্রায় ছয় লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন মার্কিন গম কিনেছে। এর মধ্যে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি গম ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছে গেছে।

দুই দেশের জন্যই লাভজনক উদ্যোগ

এই চুক্তি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য পুষ্টিকর গমের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করছে। ফলে এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে শিক্ষকের মান কেন এত দুর্বল: সংকটের গভীর কারণ ও বাস্তবতা

চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় গম চালান, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূতের সফর

০৮:২৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬—বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এই সফরের মূল উপলক্ষ ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বড় একটি গমের চালানকে স্বাগত জানানো এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা।

চট্টগ্রাম বন্দরে গমের ঐতিহাসিক আগমন

২৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন উচ্চমানের মার্কিন গমের চালান পৌঁছায়। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার। এই চালানটি একটি বৃহৎ সরবরাহের অংশ, যেখানে মোট গমের পরিমাণ এক লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি।

বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা পুষ্টিকর গম

এই সরবরাহের মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন, ওরেগন ও আইডাহো অঙ্গরাজ্য থেকে আসা প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সফট হোয়াইট গম এবং মন্টানা ও নেব্রাস্কা থেকে আসা প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন হার্ড রেড উইন্টার গম। এসব গম উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, যা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের গম চাহিদা ও মার্কিন বাজারের গুরুত্ব

বাংলাদেশে বছরে মোট গমের চাহিদার মাত্র ১৩ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি। এই তিনটি বড় চালান একত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরেছে।

দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ

২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের গমচাষিদের মনোনীত বাণিজ্য সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর সর্বোচ্চ সাত লাখ মেট্রিক টন মার্কিন গম কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই সমঝোতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্পের মাধ্যমে প্রায় ছয় লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন মার্কিন গম কিনেছে। এর মধ্যে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি গম ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছে গেছে।

দুই দেশের জন্যই লাভজনক উদ্যোগ

এই চুক্তি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য পুষ্টিকর গমের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করছে। ফলে এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করছে।