দীর্ঘদিন ভোটাধিকারহীনতার অভিযোগের মধ্যেও শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ায় রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সভা থেকে বক্তব্য
সোমবার ঠাকুরগাঁও সদরের ২৯ মাইল এলাকার বিডি স্কুল মাঠে এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে আবার ভোটের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং আসন্ন নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা হতে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ধানের শীষ ও নৌকার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, এবার সেই নৌকা আর নেই।
হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মন্তব্য
বিএনপির মহাসচিব বলেন, নৌকার কাণ্ডারী হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের ফেলে ভারতে চলে গেছেন এবং দিল্লিতে অবস্থান করছেন। এতে দেশ রাজনৈতিকভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চলমান ধারা বজায় থাকত।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে সতর্কতা
মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের নির্বাচনে নতুন একটি মার্কা সামনে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, যারা স্বাধীনতার সময় বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন সরকার গঠনের চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সংখ্যালঘু ভোটারদের আশ্বাস
নির্বাচনী সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান। ভয় না পেয়ে সাহসের সঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
ভোটাধিকার ও বিএনপির অঙ্গীকার
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি রাজনীতি করে মানুষের কল্যাণের জন্য, ব্যবসার জন্য নয়। দলের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির প্রধান অঙ্গীকার।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান
স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ভয় না পেয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















