১১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শ্রীলঙ্কা’তে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঘোষণা: কর ছাড় সহ আর্থিক কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থনীতি শক্তিশালী এবং ত্বরান্বিত বৃদ্ধির পথে অ্যারুন্ধতী রায় বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিরতি: গাজা নিয়ে জুরি সভাপতি মন্তব্যের প্রতিবাদ বগুড়ার শেরপুরে বাসের ধাক্কায় ফায়ার স্টেশনে ঢুকে নিহত ফায়ারফাইটার বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আসছে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুক রমজানে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ তিতাস এলাকায় গ্যাসের তীব্র চাপ সংকট, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ভোগান্তির আশঙ্কা প্রাইম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হাসান ও. রশিদের পদত্যাগ, কার্যকর হবে ৩১ মার্চ ২০২৬ সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষ: ৫ শতাধিকের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩ নতুন সরকারের অধীনে ছয় মাসেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে পুঁজিবাজার: বিসিআইএ’র প্রত্যাশা

সমালোচনার ঝড়ে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ ও জিমনেসিয়ামে কিশোর ও তরুণদের কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। একই সঙ্গে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

গত কয়েক দিনে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে দুটি ভিডিও। একটিতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কিশোর ও তরুণদের কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, জিমনেসিয়ামের ভেতরে লাঠি হাতে ঘোরাফেরা করে একইভাবে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে এবং শাস্তির সংখ্যা গোনা হচ্ছে। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান

সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠ মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বহিরাগতদের কারণে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরি, সাইকেল চুরির মতো ঘটনা ঘটছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেন, এসব সমস্যা নিয়ে বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখা যায়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা ও অসহযোগিতাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুঃখপ্রকাশ ও পদত্যাগের ঘোষণা

নিজের আচরণ নিয়ে বক্তব্যে সর্বমিত্র চাকমা স্বীকার করেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হন। তবে এটি কোনোভাবেই তাঁর প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া তাঁর উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। একই সঙ্গে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন।

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে ব্যাখ্যা

পদত্যাগ প্রসঙ্গে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, এটি তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারও প্রতি ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়েই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কা’তে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঘোষণা: কর ছাড় সহ আর্থিক কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ

সমালোচনার ঝড়ে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ

০৬:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ ও জিমনেসিয়ামে কিশোর ও তরুণদের কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। একই সঙ্গে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

গত কয়েক দিনে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে দুটি ভিডিও। একটিতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কিশোর ও তরুণদের কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, জিমনেসিয়ামের ভেতরে লাঠি হাতে ঘোরাফেরা করে একইভাবে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে এবং শাস্তির সংখ্যা গোনা হচ্ছে। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান

সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠ মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বহিরাগতদের কারণে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরি, সাইকেল চুরির মতো ঘটনা ঘটছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেন, এসব সমস্যা নিয়ে বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখা যায়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা ও অসহযোগিতাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুঃখপ্রকাশ ও পদত্যাগের ঘোষণা

নিজের আচরণ নিয়ে বক্তব্যে সর্বমিত্র চাকমা স্বীকার করেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হন। তবে এটি কোনোভাবেই তাঁর প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া তাঁর উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। একই সঙ্গে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন।

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে ব্যাখ্যা

পদত্যাগ প্রসঙ্গে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, এটি তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারও প্রতি ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়েই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।