পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চুরির অভিযোগ তুলে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি রবিবার বিকেলে উপজেলার কলাগাছিয়া চরে ঘটে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার শিকার শিশুরা হলো শামীম (৭) ও তার ছোট ভাই জিহাদ (৫)। তারা স্বপন দালালের দুই ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, একটি দোকানে চুরির অপবাদ দিয়ে প্রথমে শিশু দুটিকে মারধর করা হয়, পরে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শামীমের মাথার কিছু চুলও কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিশুদের মা লাইলী বেগম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন তার দুই সন্তান গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় কান্না করছে। তিনি বলেন, কেন এমন করা হয়েছে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, শিশুরা নাকি চুরি করেছে। তবে তার দাবি, তার ছেলেরা সেখানে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিল এবং দোকানের কাছে একটি দড়ি পেয়ে সেটি নেওয়ার সময় ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের বাবা স্বপন দালালও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের হুমকি দেয়। পরে সোমবার রাতে রাঙ্গাবালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত আল আমিন একটি দোকানের কর্মচারী, যার মালিক তোফায়েল দালাল। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দোকান মালিক দাবি করেন, শিশুরা আগেও তার দোকানে ঢুকে চুরির চেষ্টা করেছিল এবং ঘটনার দিনও একই চেষ্টা করে। তিনি স্বীকার করেন, শিশুদের গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল, তবে মারধর ও জোর করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে রাঙ্গাবালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন মুন্সী জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
পটুয়াখালীতে শিশু নির্যাতনের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগের সত্যতা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা নিয়ে নজর এখন প্রশাসনের দিকে।
পটুয়াখালীতে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
পটুয়াখালীতে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দুই ভাইকে গাছে বেঁধে শাস্তি, পরিবারে ক্ষোভ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















