০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি টিসিবির পণ্য না পেয়ে ক্ষোভে ফুটছে কুড়িগ্রামের কার্ডধারীরা, তিন দিন লাইনে থেকেও মিলছে না সহায়তা গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ: জাহেদ উর রহমান নিজামীর ছেলের এনসিপিতে যোগ, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত ব্যাংককে তাপমাত্রা নয়, তাপ অনুভূতি ৫২ ডিগ্রি ছাড়াল, চরম বিপদের সতর্কতা জারি

ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা দেশটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ ৪৩ হাজার এবং ২০২৩ সালে ছিল ৪ লাখ ১৮ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংক্রমণ বাড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন মানুষের ব্যাপক চলাচল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। উষ্ণতা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত মশার বংশবিস্তারকে সহজ করছে, ফলে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।

পাপুয়া অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি
দেশটির ৫১৪টি জেলার মধ্যে ৪১২টি জেলা ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা হলেও পূর্বাঞ্চলের পাপুয়া এলাকায় এখনো পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। মোট সংক্রমণের ৯৫ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলের ছয়টি প্রদেশেই পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাপুয়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক মানুষ বনভূমিতে কাজ করেন বা বসবাস করেন, যা ম্যালেরিয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত ভারী বৃষ্টিপাত মশার প্রজননের জন্য নতুন নতুন জায়গা তৈরি করছে। জলাবদ্ধতা ও ছোট ছোট পানির উৎস বাড়ায় অ্যানোফিলিস মশার বিস্তার সহজ হয়ে যায়, যা ম্যালেরিয়ার প্রধান বাহক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি জটিল সংকট।

Malaria hits record high in Indonesia as elimination challenges persist |  The Star

অর্থায়নের সংকট ও চ্যালেঞ্জ
ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে অর্থায়নও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে এই খাতে বরাদ্দ কমে গেছে, ফলে কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু রাখতে খরচও তুলনামূলক বেশি।

মানুষের চলাচলও সংক্রমণের বড় কারণ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের চলাচল ম্যালেরিয়া বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যারা ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা থেকে অন্যত্র যাচ্ছেন, তারা অজান্তেই রোগ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এমনকি আগে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা কিছু এলাকাতেও আবার সংক্রমণ ফিরে এসেছে।

প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে সরকার
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ, মশারি ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, পরিবেশ, জ্বালানি ও মানবসম্পদ নীতির সমন্বয় ছাড়া ম্যালেরিয়া নির্মূল করা কঠিন হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কৌশল জরুরি।

ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে, কারণ এতে কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের চলাচল বাড়াচ্ছে ঝুঁকি।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি

ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

০৮:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা দেশটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ ৪৩ হাজার এবং ২০২৩ সালে ছিল ৪ লাখ ১৮ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংক্রমণ বাড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন মানুষের ব্যাপক চলাচল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। উষ্ণতা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত মশার বংশবিস্তারকে সহজ করছে, ফলে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।

পাপুয়া অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি
দেশটির ৫১৪টি জেলার মধ্যে ৪১২টি জেলা ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা হলেও পূর্বাঞ্চলের পাপুয়া এলাকায় এখনো পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। মোট সংক্রমণের ৯৫ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলের ছয়টি প্রদেশেই পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাপুয়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক মানুষ বনভূমিতে কাজ করেন বা বসবাস করেন, যা ম্যালেরিয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত ভারী বৃষ্টিপাত মশার প্রজননের জন্য নতুন নতুন জায়গা তৈরি করছে। জলাবদ্ধতা ও ছোট ছোট পানির উৎস বাড়ায় অ্যানোফিলিস মশার বিস্তার সহজ হয়ে যায়, যা ম্যালেরিয়ার প্রধান বাহক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি জটিল সংকট।

Malaria hits record high in Indonesia as elimination challenges persist |  The Star

অর্থায়নের সংকট ও চ্যালেঞ্জ
ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে অর্থায়নও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে এই খাতে বরাদ্দ কমে গেছে, ফলে কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু রাখতে খরচও তুলনামূলক বেশি।

মানুষের চলাচলও সংক্রমণের বড় কারণ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের চলাচল ম্যালেরিয়া বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যারা ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা থেকে অন্যত্র যাচ্ছেন, তারা অজান্তেই রোগ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এমনকি আগে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা কিছু এলাকাতেও আবার সংক্রমণ ফিরে এসেছে।

প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে সরকার
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ, মশারি ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, পরিবেশ, জ্বালানি ও মানবসম্পদ নীতির সমন্বয় ছাড়া ম্যালেরিয়া নির্মূল করা কঠিন হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কৌশল জরুরি।

ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে, কারণ এতে কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের চলাচল বাড়াচ্ছে ঝুঁকি।