মিয়ানমারে মাসব্যাপী সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। জান্তা সরকারের তত্ত্বাবধানে হওয়া এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীঘনিষ্ঠ দলগুলোর নিরঙ্কুশ জয়ের দিকেই দেশ এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সমালোচকেরা বলছেন, এই নির্বাচন মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি আয়োজন, যেখানে প্রকৃত গণতন্ত্রের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
নির্বাচনের শেষ ধাপ ও সামরিক সরকারের অবস্থান
পঁচিশ জানুয়ারি মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাজধানীসহ বড় বড় শহরে ভোটকেন্দ্র খোলা থাকলেও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বহু এলাকায় ভোট হয়নি। সামরিক সরকারের দাবি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে বাস্তবে বিরোধী কণ্ঠ দমন, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাহীন পরিবেশ এই ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা
দীর্ঘ সময়ের সামরিক শাসনের পর এক দশক বেসামরিক সরকারের অধীনে সংস্কারের পথ ধরেছিল মিয়ানমার। কিন্তু দুই হাজার একুশ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায় শেষ হয়। গণতন্ত্রের প্রতীক অং সান সু চিকে আটক করা হয়, তার দল বিলুপ্ত করা হয় এবং দেশ জুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। মানবিক সংকটে পড়ে সাধারণ মানুষ।
সেনাপ্রধানের ভূমিকা ও বক্তব্য
সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ভোটের দিন মান্দালয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, জনগণ যে পথ বেছে নিয়েছে, তিনি তারই অংশ। তবে তার সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

ভোটকেন্দ্রের বাস্তব চিত্র
সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভোট হলেও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সেখানে বিরোধী মত দমন ও চাপ প্রয়োগ ছিল স্পষ্ট। মান্দালয়ের এক শিক্ষক জানান, বড় প্রত্যাশা না থাকলেও নাগরিক দায়িত্ব পালনের অনুভূতি থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন।
সেনাঘনিষ্ঠ দলের এগিয়ে থাকা
সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সেনাঘনিষ্ঠ দল নিম্নকক্ষের অধিকাংশ আসন এবং উচ্চকক্ষের বড় অংশে জয় পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক চতুর্থাংশ আসন আগেই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সামরিক প্রভাব নিশ্চিত থাকছে।
আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও মানবাধিকার উদ্বেগ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি দিলে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার দায় নিতে হবে। বিরোধী রাজনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে, যেখানে নির্বাচন বিঘ্নিত করার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গৃহযুদ্ধ ও মানবিক সংকট
অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে সংঘর্ষ চলছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা, অবরোধ এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থার ধারণা।
ভোটার উপস্থিতি ও আস্থাহীনতা
সরকারি হিসাবে ভোটার উপস্থিতি আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম। ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা বলেন, এই নির্বাচনে তার কোনো প্রত্যাশা নেই, পরিস্থিতি আগের মতোই চলবে বলে তিনি মনে করেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















