০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু শেখ হাসিনা থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলত: মির্জা ফখরুল সাদ্দামের জামিন: এবার স্ত্রী ও সন্তানের নীরব কবর দেখবে! পাকিস্তান–ভারত ম্যাচ বয়কটের ইঙ্গিত, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া অবস্থানে পিসিবি বাংলাদেশ প্রশাসন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি কানিজ মৌলা ও মহাসচিব বাবুল মিয়া সমালোচনার ঝড়ে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ ভারতের মুসলমানদের কাছে সংস্কার আজ কোনো বিভ্রান্তি নয়, ন্যায়ের লড়াইয়েরই অংশ ইইউ চুক্তি কেন ভারতীয় কৃষকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি লাভজনক সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা অপরিহার্য রিপাবলিক ডে প্যারেডে অপারেশন সিঁদুর: ভারতের প্রতিরক্ষা ভাবনায় এক নতুন অধ্যায়

মিয়ানমারে সেনাশাসনের ভোট শেষ, সেনাঘনিষ্ঠ দলের নিরঙ্কুশ জয়ের পথে দেশ

মিয়ানমারে মাসব্যাপী সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। জান্তা সরকারের তত্ত্বাবধানে হওয়া এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীঘনিষ্ঠ দলগুলোর নিরঙ্কুশ জয়ের দিকেই দেশ এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সমালোচকেরা বলছেন, এই নির্বাচন মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি আয়োজন, যেখানে প্রকৃত গণতন্ত্রের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

নির্বাচনের শেষ ধাপ ও সামরিক সরকারের অবস্থান

পঁচিশ জানুয়ারি মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাজধানীসহ বড় বড় শহরে ভোটকেন্দ্র খোলা থাকলেও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বহু এলাকায় ভোট হয়নি। সামরিক সরকারের দাবি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে বাস্তবে বিরোধী কণ্ঠ দমন, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাহীন পরিবেশ এই ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

A voter casts his ballot at a polling station during the third and final phase of Myanmar’s general election in Mandalay on Jan 25, 2026. — AFP

অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা

দীর্ঘ সময়ের সামরিক শাসনের পর এক দশক বেসামরিক সরকারের অধীনে সংস্কারের পথ ধরেছিল মিয়ানমার। কিন্তু দুই হাজার একুশ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায় শেষ হয়। গণতন্ত্রের প্রতীক অং সান সু চিকে আটক করা হয়, তার দল বিলুপ্ত করা হয় এবং দেশ জুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। মানবিক সংকটে পড়ে সাধারণ মানুষ।

সেনাপ্রধানের ভূমিকা ও বক্তব্য

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ভোটের দিন মান্দালয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, জনগণ যে পথ বেছে নিয়েছে, তিনি তারই অংশ। তবে তার সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

Military chief Min Aung Hlaing (R) visits a polling station during the third and final phase of Myanmar’s general election in Mandalay on Jan 25, 2026. — AFP

ভোটকেন্দ্রের বাস্তব চিত্র

সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভোট হলেও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সেখানে বিরোধী মত দমন ও চাপ প্রয়োগ ছিল স্পষ্ট। মান্দালয়ের এক শিক্ষক জানান, বড় প্রত্যাশা না থাকলেও নাগরিক দায়িত্ব পালনের অনুভূতি থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন।

সেনাঘনিষ্ঠ দলের এগিয়ে থাকা

সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সেনাঘনিষ্ঠ দল নিম্নকক্ষের অধিকাংশ আসন এবং উচ্চকক্ষের বড় অংশে জয় পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক চতুর্থাংশ আসন আগেই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সামরিক প্রভাব নিশ্চিত থাকছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও মানবাধিকার উদ্বেগ

From Coup to Ballot: The Limits of Electoral Legitimacy in Myanmar

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি দিলে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার দায় নিতে হবে। বিরোধী রাজনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে, যেখানে নির্বাচন বিঘ্নিত করার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গৃহযুদ্ধ ও মানবিক সংকট

অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে সংঘর্ষ চলছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা, অবরোধ এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থার ধারণা।

ভোটার উপস্থিতি ও আস্থাহীনতা

সরকারি হিসাবে ভোটার উপস্থিতি আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম। ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা বলেন, এই নির্বাচনে তার কোনো প্রত্যাশা নেই, পরিস্থিতি আগের মতোই চলবে বলে তিনি মনে করেন।

Neither free nor fair: What Myanmar's 'sham' elections mean for the country  and its neighbors - Atlantic Council

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু

মিয়ানমারে সেনাশাসনের ভোট শেষ, সেনাঘনিষ্ঠ দলের নিরঙ্কুশ জয়ের পথে দেশ

০৫:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমারে মাসব্যাপী সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। জান্তা সরকারের তত্ত্বাবধানে হওয়া এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীঘনিষ্ঠ দলগুলোর নিরঙ্কুশ জয়ের দিকেই দেশ এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সমালোচকেরা বলছেন, এই নির্বাচন মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি আয়োজন, যেখানে প্রকৃত গণতন্ত্রের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

নির্বাচনের শেষ ধাপ ও সামরিক সরকারের অবস্থান

পঁচিশ জানুয়ারি মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাজধানীসহ বড় বড় শহরে ভোটকেন্দ্র খোলা থাকলেও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বহু এলাকায় ভোট হয়নি। সামরিক সরকারের দাবি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে বাস্তবে বিরোধী কণ্ঠ দমন, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাহীন পরিবেশ এই ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

A voter casts his ballot at a polling station during the third and final phase of Myanmar’s general election in Mandalay on Jan 25, 2026. — AFP

অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা

দীর্ঘ সময়ের সামরিক শাসনের পর এক দশক বেসামরিক সরকারের অধীনে সংস্কারের পথ ধরেছিল মিয়ানমার। কিন্তু দুই হাজার একুশ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায় শেষ হয়। গণতন্ত্রের প্রতীক অং সান সু চিকে আটক করা হয়, তার দল বিলুপ্ত করা হয় এবং দেশ জুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। মানবিক সংকটে পড়ে সাধারণ মানুষ।

সেনাপ্রধানের ভূমিকা ও বক্তব্য

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ভোটের দিন মান্দালয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, জনগণ যে পথ বেছে নিয়েছে, তিনি তারই অংশ। তবে তার সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

Military chief Min Aung Hlaing (R) visits a polling station during the third and final phase of Myanmar’s general election in Mandalay on Jan 25, 2026. — AFP

ভোটকেন্দ্রের বাস্তব চিত্র

সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভোট হলেও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সেখানে বিরোধী মত দমন ও চাপ প্রয়োগ ছিল স্পষ্ট। মান্দালয়ের এক শিক্ষক জানান, বড় প্রত্যাশা না থাকলেও নাগরিক দায়িত্ব পালনের অনুভূতি থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন।

সেনাঘনিষ্ঠ দলের এগিয়ে থাকা

সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সেনাঘনিষ্ঠ দল নিম্নকক্ষের অধিকাংশ আসন এবং উচ্চকক্ষের বড় অংশে জয় পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক চতুর্থাংশ আসন আগেই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সামরিক প্রভাব নিশ্চিত থাকছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও মানবাধিকার উদ্বেগ

From Coup to Ballot: The Limits of Electoral Legitimacy in Myanmar

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি দিলে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার দায় নিতে হবে। বিরোধী রাজনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে, যেখানে নির্বাচন বিঘ্নিত করার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গৃহযুদ্ধ ও মানবিক সংকট

অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে সংঘর্ষ চলছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা, অবরোধ এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থার ধারণা।

ভোটার উপস্থিতি ও আস্থাহীনতা

সরকারি হিসাবে ভোটার উপস্থিতি আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম। ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা বলেন, এই নির্বাচনে তার কোনো প্রত্যাশা নেই, পরিস্থিতি আগের মতোই চলবে বলে তিনি মনে করেন।

Neither free nor fair: What Myanmar's 'sham' elections mean for the country  and its neighbors - Atlantic Council