কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত নির্মাণযজ্ঞের সূচনা করেছে। এই প্রযুক্তিকে ঘিরে আগামী দিনে আরও ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ডাভোস সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান জোয়ার শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শিল্প কাঠামোর আমূল রূপান্তরের পথ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়ে গেছে, তবে সামনে শক্তি, ক্লাউড প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক খাতে বিশাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে আরও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।

এআই অবকাঠামো কেন এত ব্যয়বহুল
জেনসেন হুয়াং জানান, চ্যাটভিত্তিক সেবাসহ বড় ভাষাভিত্তিক মডেল চালাতে যে প্রসেসর দরকার, তার বড় অংশই এনভিডিয়ার তৈরি। এসব প্রযুক্তি চালু রাখতে বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে, যেখানে উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স প্রসেসর ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবকাঠামো ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য স্তর কার্যকর করা সম্ভব নয়।
এনভিডিয়ার উত্থান ও বাজার বাস্তবতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহে এনভিডিয়া কার্যত আধিপত্য তৈরি করেছে। থ্রিডি গেমিংয়ের জন্য তৈরি গ্রাফিক্স প্রসেসর থেকেই শুরু হলেও, সেই পণ্যই কোম্পানির বাজারমূল্যকে একসময় পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি উচ্চতায় নিয়ে যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে বাজারমূল্যে কিছুটা পতন দেখা গেছে, তবুও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তাদের প্রভাব অটুট রয়েছে।

বুদবুদের আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া প্রধান
কিছু বিশ্লেষকের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে এই বিপুল ব্যয় একটি বুদবুদের ইঙ্গিত। তবে এই ধারণা সরাসরি নাকচ করেছেন জেনসেন হুয়াং। তার ভাষায়, বিনিয়োগ বড় বলেই একে বুদবুদ বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এই বিনিয়োগ প্রয়োজন কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিটি স্তরের জন্য শক্ত অবকাঠামো অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই খাতের সম্ভাবনা অসাধারণ এবং তা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে।
চাকরি নিয়ে শঙ্কা ও নতুন সম্ভাবনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে চাকরি নষ্ট হবে—এমন ভয়ও উড়িয়ে দিয়েছেন এনভিডিয়া প্রধান। তার মতে, এই প্রযুক্তি পুরোনো কাজের ধরন বদলে দেবে এবং নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মাইক্রোসফটের সতর্ক বার্তা
এদিকে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সাত্যা নাদেলা তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি সবার মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে এই খাতে ধস নামার ঝুঁকি থেকে যাবে। তার মতে, এই প্রযুক্তির সুফল যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, ততই এটি টেকসই হবে। তবে তিনি আশাবাদী যে, ক্লাউড ও মোবাইল প্রযুক্তির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বিস্তৃত হবে এবং সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















