১২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমিত মার্কিন নাগরিক শনাক্ত ইউক্রেনের ‘জীবনের সড়কে’ ড্রোন আতঙ্ক, প্রতিটি পদক্ষেপেই মৃত্যুভয় ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য ১৭৭৬ কোটি ডলারের তহবিল, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক থাইল্যান্ডে ভোক্তা আস্থার বড় পতন, বাড়ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্কুলে মোবাইল ফোনে কড়াকড়ি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ফেরাতে নতুন উদ্যোগ কোন সময় ব্যায়াম করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর কীভাবে নেওয়া হবে এআই আতঙ্কে বিক্ষোভ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তাদের হুটিং শাকিরার পক্ষে স্প্যানিশ আদালতের রায়, ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরো কঙ্গোতে ইবোলা আতঙ্কে শতাধিক মৃত্যু, সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিতে পুরো অঞ্চল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আসছে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো নির্মাণ শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত নির্মাণযজ্ঞের সূচনা করেছে। এই প্রযুক্তিকে ঘিরে আগামী দিনে আরও ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ডাভোস সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান জোয়ার শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শিল্প কাঠামোর আমূল রূপান্তরের পথ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়ে গেছে, তবে সামনে শক্তি, ক্লাউড প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক খাতে বিশাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে আরও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।

Microsoft CEO Satya Nadella wants an end to the term 'AI slop' and says  2026 will be a 'pivotal year' for the technology – but enterprises still  need to iron out key

এআই অবকাঠামো কেন এত ব্যয়বহুল

জেনসেন হুয়াং জানান, চ্যাটভিত্তিক সেবাসহ বড় ভাষাভিত্তিক মডেল চালাতে যে প্রসেসর দরকার, তার বড় অংশই এনভিডিয়ার তৈরি। এসব প্রযুক্তি চালু রাখতে বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে, যেখানে উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স প্রসেসর ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবকাঠামো ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য স্তর কার্যকর করা সম্ভব নয়।

এনভিডিয়ার উত্থান ও বাজার বাস্তবতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহে এনভিডিয়া কার্যত আধিপত্য তৈরি করেছে। থ্রিডি গেমিংয়ের জন্য তৈরি গ্রাফিক্স প্রসেসর থেকেই শুরু হলেও, সেই পণ্যই কোম্পানির বাজারমূল্যকে একসময় পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি উচ্চতায় নিয়ে যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে বাজারমূল্যে কিছুটা পতন দেখা গেছে, তবুও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তাদের প্রভাব অটুট রয়েছে।

এনভিডিয়ার শেয়ারের অবিশ্বাস্য উত্থান | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

বুদবুদের আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া প্রধান

কিছু বিশ্লেষকের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে এই বিপুল ব্যয় একটি বুদবুদের ইঙ্গিত। তবে এই ধারণা সরাসরি নাকচ করেছেন জেনসেন হুয়াং। তার ভাষায়, বিনিয়োগ বড় বলেই একে বুদবুদ বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এই বিনিয়োগ প্রয়োজন কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিটি স্তরের জন্য শক্ত অবকাঠামো অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই খাতের সম্ভাবনা অসাধারণ এবং তা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে।

চাকরি নিয়ে শঙ্কা ও নতুন সম্ভাবনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে চাকরি নষ্ট হবে—এমন ভয়ও উড়িয়ে দিয়েছেন এনভিডিয়া প্রধান। তার মতে, এই প্রযুক্তি পুরোনো কাজের ধরন বদলে দেবে এবং নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ফিলিস্তিনিদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করছে মাইক্রোসফট!

মাইক্রোসফটের সতর্ক বার্তা

এদিকে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সাত্যা নাদেলা তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি সবার মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে এই খাতে ধস নামার ঝুঁকি থেকে যাবে। তার মতে, এই প্রযুক্তির সুফল যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, ততই এটি টেকসই হবে। তবে তিনি আশাবাদী যে, ক্লাউড ও মোবাইল প্রযুক্তির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বিস্তৃত হবে এবং সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমিত মার্কিন নাগরিক শনাক্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আসছে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো নির্মাণ শুরু

০৫:৩৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত নির্মাণযজ্ঞের সূচনা করেছে। এই প্রযুক্তিকে ঘিরে আগামী দিনে আরও ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ডাভোস সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান জোয়ার শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শিল্প কাঠামোর আমূল রূপান্তরের পথ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়ে গেছে, তবে সামনে শক্তি, ক্লাউড প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক খাতে বিশাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে আরও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।

Microsoft CEO Satya Nadella wants an end to the term 'AI slop' and says  2026 will be a 'pivotal year' for the technology – but enterprises still  need to iron out key

এআই অবকাঠামো কেন এত ব্যয়বহুল

জেনসেন হুয়াং জানান, চ্যাটভিত্তিক সেবাসহ বড় ভাষাভিত্তিক মডেল চালাতে যে প্রসেসর দরকার, তার বড় অংশই এনভিডিয়ার তৈরি। এসব প্রযুক্তি চালু রাখতে বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে, যেখানে উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স প্রসেসর ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবকাঠামো ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য স্তর কার্যকর করা সম্ভব নয়।

এনভিডিয়ার উত্থান ও বাজার বাস্তবতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহে এনভিডিয়া কার্যত আধিপত্য তৈরি করেছে। থ্রিডি গেমিংয়ের জন্য তৈরি গ্রাফিক্স প্রসেসর থেকেই শুরু হলেও, সেই পণ্যই কোম্পানির বাজারমূল্যকে একসময় পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি উচ্চতায় নিয়ে যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে বাজারমূল্যে কিছুটা পতন দেখা গেছে, তবুও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তাদের প্রভাব অটুট রয়েছে।

এনভিডিয়ার শেয়ারের অবিশ্বাস্য উত্থান | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

বুদবুদের আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া প্রধান

কিছু বিশ্লেষকের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে এই বিপুল ব্যয় একটি বুদবুদের ইঙ্গিত। তবে এই ধারণা সরাসরি নাকচ করেছেন জেনসেন হুয়াং। তার ভাষায়, বিনিয়োগ বড় বলেই একে বুদবুদ বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এই বিনিয়োগ প্রয়োজন কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিটি স্তরের জন্য শক্ত অবকাঠামো অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই খাতের সম্ভাবনা অসাধারণ এবং তা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে।

চাকরি নিয়ে শঙ্কা ও নতুন সম্ভাবনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে চাকরি নষ্ট হবে—এমন ভয়ও উড়িয়ে দিয়েছেন এনভিডিয়া প্রধান। তার মতে, এই প্রযুক্তি পুরোনো কাজের ধরন বদলে দেবে এবং নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ফিলিস্তিনিদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করছে মাইক্রোসফট!

মাইক্রোসফটের সতর্ক বার্তা

এদিকে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সাত্যা নাদেলা তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি সবার মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে এই খাতে ধস নামার ঝুঁকি থেকে যাবে। তার মতে, এই প্রযুক্তির সুফল যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, ততই এটি টেকসই হবে। তবে তিনি আশাবাদী যে, ক্লাউড ও মোবাইল প্রযুক্তির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বিস্তৃত হবে এবং সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনবে।