০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
হজ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি রোডম্যাপ অনুযায়ী এগোচ্ছে: উপদেষ্টা খালিদ ছয় দফা দাবিতে রাজবাড়ীতে ভূমি কর্মকর্তাদের মানববন্ধন ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে পারে গোয়া সরকার ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশের মরদেহ সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ, লাইসেন্স না থাকলে জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাজেটে প্রবৃদ্ধি জোরদারে কঠিন পরীক্ষায় মোদি সরকার আবার পিছোল বিজয়ের ‘জননায়গন’, আদালতের সিদ্ধান্তে মুক্তি অনিশ্চিত পারিবারিক সন্দেহ পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে সৌদি নারীর ঐতিহাসিক দৌড় কেন টানা দুর্বল হচ্ছে ভারতীয় রুপি, কোথায় গিয়ে থামতে পারে পতন মিনিয়াপোলিসে আইস গুলিবর্ষণ: ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে তীব্র প্রশ্ন

বিশ্বকাপ বয়কট করলে গভীর সংকটে পড়তে পারে পাকিস্তান

আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করলেও টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পুরো বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই অবস্থান ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ ইস্যুতে শুরু সংকট

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

সরকার ও বোর্ডের আলোচনা

সোমবার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন। বোর্ড সূত্র জানায়, আগামী শুক্রবার অথবা তার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। তবে ভেতরে ভেতরে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো পাকিস্তানের জন্য সহজ কোনো পথ নয়।

চুক্তি ভঙ্গের ঝুঁকি

আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোকে বড় টুর্নামেন্টের অনেক আগেই একটি আইনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়, যা টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ চুক্তি নামে পরিচিত। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে পাকিস্তান সরাসরি এই চুক্তি লঙ্ঘন করবে। এর ফলে আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা

চুক্তি ভঙ্গ হলে পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব অংশ স্থগিত করা হতে পারে। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় তিন কোটি পঁয়তাল্লিশ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চারশ একুশ কোটি টাকার বেশি। আইসিসির মোট রাজস্ব পুলের প্রায় ছয় শতাংশ হারানো পিসিবির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে, বিশেষ করে বর্তমান নড়বড়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতায়।

নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা

বিশ্বকাপ বয়কট যদি সরাসরি সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে আইসিসি এটিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান বরাবরই কঠোর। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান এশিয়া কাপ থেকেও বাদ পড়তে পারে। অনেক সময় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে, ফলে ভবিষ্যৎ এশিয়া কাপগুলোতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড় সংকট

পাকিস্তান সুপার লিগ দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। পাকিস্তান যদি কোনো আইসিসি ইভেন্ট বয়কট করে, তাহলে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো দেশের বোর্ডগুলো তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। এতে করে পিএসএলের মান ও আকর্ষণ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং আর্থিক, ক্রীড়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিক থেকেও বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হজ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি রোডম্যাপ অনুযায়ী এগোচ্ছে: উপদেষ্টা খালিদ

বিশ্বকাপ বয়কট করলে গভীর সংকটে পড়তে পারে পাকিস্তান

০৬:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করলেও টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পুরো বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই অবস্থান ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ ইস্যুতে শুরু সংকট

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

সরকার ও বোর্ডের আলোচনা

সোমবার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন। বোর্ড সূত্র জানায়, আগামী শুক্রবার অথবা তার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। তবে ভেতরে ভেতরে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো পাকিস্তানের জন্য সহজ কোনো পথ নয়।

চুক্তি ভঙ্গের ঝুঁকি

আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোকে বড় টুর্নামেন্টের অনেক আগেই একটি আইনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়, যা টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ চুক্তি নামে পরিচিত। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে পাকিস্তান সরাসরি এই চুক্তি লঙ্ঘন করবে। এর ফলে আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা

চুক্তি ভঙ্গ হলে পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব অংশ স্থগিত করা হতে পারে। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় তিন কোটি পঁয়তাল্লিশ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চারশ একুশ কোটি টাকার বেশি। আইসিসির মোট রাজস্ব পুলের প্রায় ছয় শতাংশ হারানো পিসিবির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে, বিশেষ করে বর্তমান নড়বড়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতায়।

নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা

বিশ্বকাপ বয়কট যদি সরাসরি সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে আইসিসি এটিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান বরাবরই কঠোর। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান এশিয়া কাপ থেকেও বাদ পড়তে পারে। অনেক সময় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে, ফলে ভবিষ্যৎ এশিয়া কাপগুলোতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড় সংকট

পাকিস্তান সুপার লিগ দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। পাকিস্তান যদি কোনো আইসিসি ইভেন্ট বয়কট করে, তাহলে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো দেশের বোর্ডগুলো তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। এতে করে পিএসএলের মান ও আকর্ষণ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং আর্থিক, ক্রীড়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিক থেকেও বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।