০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী মাধবপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ভোটের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার: বিএনপির অভিযোগে নতুন উত্তাপ বগুড়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন, ভোররাতে হামলা ড্রোন কারখানা নিয়ে কে কী ভাবল তাতে কিছু যায় আসে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়াল শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, অন্তত ৩০ জন আহত উত্তরা সেক্টর-১১-এর কিচেন মার্কেটে আগুন নির্বাচন সামনে রেখে পটুয়াখালী ও খুলনা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

পারিবারিক সন্দেহ পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে সৌদি নারীর ঐতিহাসিক দৌড়

শুরুটা ছিল ঘরের ভেতর প্রশ্নে ভরা। দৌড়ানো কেন? কারও তাড়া না থাকলে মানুষ দৌড়ায় কেন—এই বিস্ময় ছিল পরিবারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সন্দেহ বদলে গেছে গর্বে। আশওয়াক আলসাইয়েরির দৌড় আজ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নারীদের সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল ঘোষণা।

গত বছর আশওয়াক আলসাইয়েরি ইতিহাস গড়েন। তিনি প্রথম সৌদি ও জিসিসি নারী হিসেবে সম্পন্ন করেন সাতটি অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজর—বোস্টন, লন্ডন, বার্লিন, নিউইয়র্ক, টোকিও, সিডনি ও শিকাগো। এই অর্জন তার কাছে কোনো পদকের চেয়েও বড়। কারণ, এটি ‘প্রথম’ হওয়ার তাগিদে নয়—এটি ছিল প্রমাণের দৌড়।

দৌড়ের পেছনের লড়াই

ছয় ভাইবোনের বড় পরিবারে বড় হওয়া আশওয়াক কখনো ভাবেননি, তিনি একদিন ইতিহাসের অংশ হবেন। শুরুতে পরিবার বুঝতেই পারেনি তার আগ্রহ। তবু ধীরে ধীরে বদল আসে। বিশ্বজুড়ে ম্যারাথনের পথে পথে পরিবারের উৎসাহই হয়ে ওঠে তার জ্বালানি। তার ভাষায়, পরিবারের বিশ্বাসই তাকে এগিয়ে রেখেছে।

সৌদি আরবে নিজের কোচের তত্ত্বাবধানে কঠোর প্রশিক্ষণ নেন আশওয়াক। এরপর একে একে বিশ্বের আইকনিক ম্যারাথনগুলোতে নামেন। গত অক্টোবরে শিকাগো ম্যারাথনের ফিনিশ লাইনে পৌঁছানোই ছিল তার যাত্রার শেষ ধাপ। শরীর তখন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ার মতো। তবু মুখে হাসি থামেনি।

তিনি বলেন, সাতটি ম্যারাথন শেষ করা পদকের চেয়েও বড় অনুভূতি। প্রতিটি শহরে তিনি যেন নিজের ঘরের এক টুকরো নিয়ে গেছেন। টোকিও থেকে নিউইয়র্ক—প্রতিটি স্টার্টিং লাইনে তার উপস্থিতি ছিল এক স্পষ্ট বার্তা। আমরা এখানে আছি। আর আমরা এখানেই belong করি।

অনুপ্রেরণার দিগন্ত

আশওয়াক চান, তার পথচলা সৌদি আরব ও আরব বিশ্বের নারীদের অনুপ্রাণিত করুক। তার মতে, প্রতিটি পদক্ষেপ ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে একটি সামষ্টিক পরিবর্তনের অংশ। খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন গল্প লেখা হচ্ছে—যেখানে আরব নারীরা শুধু অংশ নিচ্ছেন না, নেতৃত্বও দিচ্ছেন।

তিনি এখন এমন এক প্রজন্মের অংশ, যারা বৈশ্বিক মঞ্চে সৌদি নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মোটরস্পোর্টসে রীমা জুফালি, টেনিসে ইয়ারা আলহোগবানি, কিংবা জাতীয় নারী ফুটবল দলের আত্মবিশ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে তিনি দেখছেন এক সুন্দর রূপান্তর।

এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে আশওয়াক ইতিমধ্যেই নিউ ব্যালান্সের সঙ্গে চুক্তি পেয়েছেন। তার কাছে এটি ইতিহাসের ভেতর হাঁটার মতো অনুভূতি—দৌড়ের জুতো পরে। এমন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতে পারা তাকে শক্তি দেয়, যারা বিশ্বাস করে এই অঞ্চলের নারীদের দৃশ্যমানতা ও সমর্থন প্রাপ্য।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে আশওয়াক বাস্তববাদী। অলিম্পিক তার স্বপ্নে আছে। তবে তার কাছে আরও বড় লক্ষ্য হলো প্রভাব তৈরি করা। নতুন দৌড়, আরও কঠিন দূরত্ব, কিংবা অঞ্চলের তরুণ দৌড়বিদদের পথ দেখানো—সবকিছুই তার পরবর্তী অধ্যায়ের অংশ।

তার দৌড় তাই শুধু ফিনিশ লাইনে থামে না। এটি এগিয়ে চলে—অন্যদের সঙ্গে নিয়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী

পারিবারিক সন্দেহ পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে সৌদি নারীর ঐতিহাসিক দৌড়

০৭:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

শুরুটা ছিল ঘরের ভেতর প্রশ্নে ভরা। দৌড়ানো কেন? কারও তাড়া না থাকলে মানুষ দৌড়ায় কেন—এই বিস্ময় ছিল পরিবারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সন্দেহ বদলে গেছে গর্বে। আশওয়াক আলসাইয়েরির দৌড় আজ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নারীদের সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল ঘোষণা।

গত বছর আশওয়াক আলসাইয়েরি ইতিহাস গড়েন। তিনি প্রথম সৌদি ও জিসিসি নারী হিসেবে সম্পন্ন করেন সাতটি অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজর—বোস্টন, লন্ডন, বার্লিন, নিউইয়র্ক, টোকিও, সিডনি ও শিকাগো। এই অর্জন তার কাছে কোনো পদকের চেয়েও বড়। কারণ, এটি ‘প্রথম’ হওয়ার তাগিদে নয়—এটি ছিল প্রমাণের দৌড়।

দৌড়ের পেছনের লড়াই

ছয় ভাইবোনের বড় পরিবারে বড় হওয়া আশওয়াক কখনো ভাবেননি, তিনি একদিন ইতিহাসের অংশ হবেন। শুরুতে পরিবার বুঝতেই পারেনি তার আগ্রহ। তবু ধীরে ধীরে বদল আসে। বিশ্বজুড়ে ম্যারাথনের পথে পথে পরিবারের উৎসাহই হয়ে ওঠে তার জ্বালানি। তার ভাষায়, পরিবারের বিশ্বাসই তাকে এগিয়ে রেখেছে।

সৌদি আরবে নিজের কোচের তত্ত্বাবধানে কঠোর প্রশিক্ষণ নেন আশওয়াক। এরপর একে একে বিশ্বের আইকনিক ম্যারাথনগুলোতে নামেন। গত অক্টোবরে শিকাগো ম্যারাথনের ফিনিশ লাইনে পৌঁছানোই ছিল তার যাত্রার শেষ ধাপ। শরীর তখন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ার মতো। তবু মুখে হাসি থামেনি।

তিনি বলেন, সাতটি ম্যারাথন শেষ করা পদকের চেয়েও বড় অনুভূতি। প্রতিটি শহরে তিনি যেন নিজের ঘরের এক টুকরো নিয়ে গেছেন। টোকিও থেকে নিউইয়র্ক—প্রতিটি স্টার্টিং লাইনে তার উপস্থিতি ছিল এক স্পষ্ট বার্তা। আমরা এখানে আছি। আর আমরা এখানেই belong করি।

অনুপ্রেরণার দিগন্ত

আশওয়াক চান, তার পথচলা সৌদি আরব ও আরব বিশ্বের নারীদের অনুপ্রাণিত করুক। তার মতে, প্রতিটি পদক্ষেপ ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে একটি সামষ্টিক পরিবর্তনের অংশ। খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন গল্প লেখা হচ্ছে—যেখানে আরব নারীরা শুধু অংশ নিচ্ছেন না, নেতৃত্বও দিচ্ছেন।

তিনি এখন এমন এক প্রজন্মের অংশ, যারা বৈশ্বিক মঞ্চে সৌদি নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মোটরস্পোর্টসে রীমা জুফালি, টেনিসে ইয়ারা আলহোগবানি, কিংবা জাতীয় নারী ফুটবল দলের আত্মবিশ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে তিনি দেখছেন এক সুন্দর রূপান্তর।

এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে আশওয়াক ইতিমধ্যেই নিউ ব্যালান্সের সঙ্গে চুক্তি পেয়েছেন। তার কাছে এটি ইতিহাসের ভেতর হাঁটার মতো অনুভূতি—দৌড়ের জুতো পরে। এমন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতে পারা তাকে শক্তি দেয়, যারা বিশ্বাস করে এই অঞ্চলের নারীদের দৃশ্যমানতা ও সমর্থন প্রাপ্য।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে আশওয়াক বাস্তববাদী। অলিম্পিক তার স্বপ্নে আছে। তবে তার কাছে আরও বড় লক্ষ্য হলো প্রভাব তৈরি করা। নতুন দৌড়, আরও কঠিন দূরত্ব, কিংবা অঞ্চলের তরুণ দৌড়বিদদের পথ দেখানো—সবকিছুই তার পরবর্তী অধ্যায়ের অংশ।

তার দৌড় তাই শুধু ফিনিশ লাইনে থামে না। এটি এগিয়ে চলে—অন্যদের সঙ্গে নিয়ে।