০৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সিলেটে গাছ থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত মুম্বাইয়ের গল্পে গুলজারের ৭৬ বছর: যে শহর এক কিশোর অভিবাসীকে কবি বানিয়েছে পাঁচ বইয়ে পাঁচ ভুবনের যাত্রা, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ—পাঠকের জন্য নতুন পাঁচ ঠিকানা সৌদি আরবকে পরমাণু জ্বালানি সমৃদ্ধকরণে ছাড়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশ্ন—‘আমাদের নয় কেন?’ ছোট ফ্ল্যাটে বড় স্বপ্ন, অবসরে ঘর সাজাতে লাখ লাখ টাকা খরচ চোখের সামনে যা দেখছেন, সব সত্য নয়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বাড়ছে ভয়ংকর প্রতারণা ফিলিপাইনে ‘চীনা গুপ্তচর’ বিতর্কের আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা ও মানবপাচারের জাল জলবায়ু পরিবর্তনে কফি বিলুপ্তির শঙ্কা, হারিয়ে যাওয়া এক উদ্ভিদেই আশার আলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন পথে বাংলাদেশ, সুদের হারভিত্তিক নীতি থেকে সরে আসার ভাবনা গ্যাস সংকট আরও তীব্র, ঢাকার লাখো চুলায় আগুন জ্বলছে না

এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এনজি সরকার’ আখ্যা দিয়ে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেছেন, এই সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়নি। তাঁর দাবি, যেহেতু সরকারের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এনজিও খাত থেকে এসেছেন, তাই তারা এনজিওগুলোর মাধ্যমেই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছেন।

সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন
দেশে আদৌ কোনো সংস্কার হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে আজম জে চৌধুরী বলেন, জমির মিউটেশন করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এখনও চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চাঁদাবাজি। এই চাঁদাকে কখনও এলআর ফান্ড বলা হয়। আগে যেখানে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন সেখানে ১০ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে বক্তব্য
বুধবার ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার ও ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বিনিয়োগ ও অর্থনীতির বাস্তব চিত্র
আজম জে চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জানা উচিত দেশের অর্থনীতি বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি কেমন। আইএমএফের অনেক সুপারিশ গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে ম্যাক্রো ও মাইক্রো—কোনো স্তরেই কার্যকর সংস্কার হয়নি। বন্দরে এখনো একদিনে পণ্য খালাস হয় না। অনেক সময় দেড় মাস পর্যন্ত পণ্য আটকে থাকে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি চলছে।

আমদানি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পণ্য আমদানির পর একদিনের মধ্যে কর পরিশোধ করলে তা খালাস পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। অনেক সময় আমদানিকৃত পণ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত হতে না পেরে তা বুয়েটে পাঠান। সেখানে যাচাই শেষে এক মাস বা দেড় মাস পরে পণ্য ছাড় হয়। এই মাইক্রো পর্যায়ের ভোগান্তি ম্যাক্রো পর্যায়ের সংস্কারের অংশ নয়।

ম্যাক্রো ও মাইক্রো সংস্কারের ফারাক
এই ব্যবসায়ী বলেন, ম্যাক্রো লেভেলে অর্থনীতি কীভাবে চলছে, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে—এটা সবাই দেখছে। কিন্তু অর্থনীতির দৈনন্দিন অপারেশনাল কার্যক্রম হয় মাইক্রো লেভেলে, যেখানে কোনো দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি।

এনজিও দিয়ে দেশ চলে না
আজম জে চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। শুধু অন্তর্বর্তী এনজিওনির্ভর ব্যবস্থায় দেশ চালানো সম্ভব নয়। দেশে এলপিজি নেই, এলএনজি নেই, নীতিগত কোনো কার্যকর উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। সরকার প্রাইভেট খাতের সঙ্গে কাজ করেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এনজিও দিয়ে কি একটি দেশ পরিচালনা করা যায়?

অনুষ্ঠানের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল মোমেন, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামালউদ্দিন জসিমসহ আরও অনেকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে গাছ থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত

এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী

০৯:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এনজি সরকার’ আখ্যা দিয়ে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেছেন, এই সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়নি। তাঁর দাবি, যেহেতু সরকারের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এনজিও খাত থেকে এসেছেন, তাই তারা এনজিওগুলোর মাধ্যমেই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছেন।

সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন
দেশে আদৌ কোনো সংস্কার হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে আজম জে চৌধুরী বলেন, জমির মিউটেশন করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এখনও চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চাঁদাবাজি। এই চাঁদাকে কখনও এলআর ফান্ড বলা হয়। আগে যেখানে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন সেখানে ১০ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে বক্তব্য
বুধবার ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার ও ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বিনিয়োগ ও অর্থনীতির বাস্তব চিত্র
আজম জে চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জানা উচিত দেশের অর্থনীতি বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি কেমন। আইএমএফের অনেক সুপারিশ গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে ম্যাক্রো ও মাইক্রো—কোনো স্তরেই কার্যকর সংস্কার হয়নি। বন্দরে এখনো একদিনে পণ্য খালাস হয় না। অনেক সময় দেড় মাস পর্যন্ত পণ্য আটকে থাকে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি চলছে।

আমদানি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পণ্য আমদানির পর একদিনের মধ্যে কর পরিশোধ করলে তা খালাস পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। অনেক সময় আমদানিকৃত পণ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত হতে না পেরে তা বুয়েটে পাঠান। সেখানে যাচাই শেষে এক মাস বা দেড় মাস পরে পণ্য ছাড় হয়। এই মাইক্রো পর্যায়ের ভোগান্তি ম্যাক্রো পর্যায়ের সংস্কারের অংশ নয়।

ম্যাক্রো ও মাইক্রো সংস্কারের ফারাক
এই ব্যবসায়ী বলেন, ম্যাক্রো লেভেলে অর্থনীতি কীভাবে চলছে, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে—এটা সবাই দেখছে। কিন্তু অর্থনীতির দৈনন্দিন অপারেশনাল কার্যক্রম হয় মাইক্রো লেভেলে, যেখানে কোনো দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি।

এনজিও দিয়ে দেশ চলে না
আজম জে চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। শুধু অন্তর্বর্তী এনজিওনির্ভর ব্যবস্থায় দেশ চালানো সম্ভব নয়। দেশে এলপিজি নেই, এলএনজি নেই, নীতিগত কোনো কার্যকর উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। সরকার প্রাইভেট খাতের সঙ্গে কাজ করেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এনজিও দিয়ে কি একটি দেশ পরিচালনা করা যায়?

অনুষ্ঠানের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল মোমেন, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামালউদ্দিন জসিমসহ আরও অনেকে।