১১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
খোলপেটুয়া নদী: দক্ষিণ-পশ্চিমের এক জরুরি ধমনী — একটি বিস্তৃত ফিচার সংকুচিত নাগরিক পরিসর: বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানাল অ্যামনেস্টি মায়েদের গায়ে হাত দিলে চুপ করে বসে থাকবো না: জামায়াত আমির হিন্দুরা যারা অন্যায় করেছে তাদের শুধু শাস্তি হবে – মির্জা ফখরুল জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী মাধবপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ভোটের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার: বিএনপির অভিযোগে নতুন উত্তাপ বগুড়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন, ভোররাতে হামলা

সংকুচিত নাগরিক পরিসর: বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানাল অ্যামনেস্টি

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও জবাবদিহিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সংস্থাটি বলেছে, এই সময়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সন্ধিক্ষণ।

নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়
অ্যামনেস্টির মতে, বর্তমান পরিস্থিতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, সুশাসন জোরদার এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করার একটি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে এই সময়ে দেশটির গণতান্ত্রিক পথচলা নতুন করে শক্ত ভিত্তি পেতে পারে।

দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
চিঠিতে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক সরকারগুলোর সময়ে বাংলাদেশে গুরুতর ও স্থায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ইচ্ছামতো আটক, নির্যাতন এবং মতপ্রকাশ, সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধ।

সংকুচিত নাগরিক পরিসর ও ভয়ের পরিবেশ
অ্যামনেস্টি জানায়, সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিরোধী, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রায়ই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ছেন। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসা নাগরিক পরিসর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে বিরল সুযোগ
সংস্থাটির মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিরল সুযোগ পেয়েছে ভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার। যদিও জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ সনদ এবং নির্যাতনবিরোধী ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুমোদনের মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের এখনও বড় ধরনের ফারাক রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে অ্যামনেস্টি।

নির্বাচনে মৌলিক স্বাধীনতার গুরুত্ব
নির্বাচনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের আওতায় থাকা মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এসব অধিকার সীমিত হলে নির্বাচনী পরিবেশ বিকৃত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার
অ্যামনেস্টি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা আইন, বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার নিয়ে। আগস্ট মাসে সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভূতির অভিযোগে ওই আইনে গ্রেপ্তার এবং ডিসেম্বরে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারের অভিযোগে আটক করার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

সহিংস ঘটনার উদাহরণ
চিঠিতে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘটে যাওয়া কয়েকটি সহিংস ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর সহিংস হামলায় ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কার্যালয়, ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাংবাদিকদের হয়রানি করা হয়। আরেক ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও জবাবদিহি
অ্যামনেস্টির মতে, এসব ঘটনা সাংবাদিক, সংখ্যালঘু ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে অরাষ্ট্রীয় সহিংসতার একটি বড় চিত্র তুলে ধরে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেরিতে ও অকার্যকর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে সংস্থাটি বলেছে, শুধু অপরাধীদের বিচার করাই নয়, ভবিষ্যতে এমন হামলা ঠেকানোর দায়িত্বও রাষ্ট্রের।

নির্বাচনের আগে কঠিন পরীক্ষা
নির্বাচনের আগের সপ্তাহগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধ, অধিকার চর্চাকারীদের সুরক্ষা এবং সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এখন নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই আগামী বহু বছরের জন্য বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির দিকনির্দেশ ঠিক করে দেবে। তাই ভয়মুক্ত, নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশে সকল নাগরিকের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

খোলপেটুয়া নদী: দক্ষিণ-পশ্চিমের এক জরুরি ধমনী — একটি বিস্তৃত ফিচার

সংকুচিত নাগরিক পরিসর: বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানাল অ্যামনেস্টি

০৯:৪৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও জবাবদিহিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সংস্থাটি বলেছে, এই সময়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সন্ধিক্ষণ।

নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়
অ্যামনেস্টির মতে, বর্তমান পরিস্থিতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, সুশাসন জোরদার এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করার একটি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে এই সময়ে দেশটির গণতান্ত্রিক পথচলা নতুন করে শক্ত ভিত্তি পেতে পারে।

দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
চিঠিতে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক সরকারগুলোর সময়ে বাংলাদেশে গুরুতর ও স্থায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ইচ্ছামতো আটক, নির্যাতন এবং মতপ্রকাশ, সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধ।

সংকুচিত নাগরিক পরিসর ও ভয়ের পরিবেশ
অ্যামনেস্টি জানায়, সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিরোধী, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রায়ই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ছেন। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসা নাগরিক পরিসর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে বিরল সুযোগ
সংস্থাটির মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিরল সুযোগ পেয়েছে ভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার। যদিও জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ সনদ এবং নির্যাতনবিরোধী ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুমোদনের মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের এখনও বড় ধরনের ফারাক রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে অ্যামনেস্টি।

নির্বাচনে মৌলিক স্বাধীনতার গুরুত্ব
নির্বাচনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের আওতায় থাকা মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এসব অধিকার সীমিত হলে নির্বাচনী পরিবেশ বিকৃত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার
অ্যামনেস্টি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা আইন, বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার নিয়ে। আগস্ট মাসে সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভূতির অভিযোগে ওই আইনে গ্রেপ্তার এবং ডিসেম্বরে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারের অভিযোগে আটক করার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

সহিংস ঘটনার উদাহরণ
চিঠিতে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘটে যাওয়া কয়েকটি সহিংস ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর সহিংস হামলায় ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কার্যালয়, ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাংবাদিকদের হয়রানি করা হয়। আরেক ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও জবাবদিহি
অ্যামনেস্টির মতে, এসব ঘটনা সাংবাদিক, সংখ্যালঘু ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে অরাষ্ট্রীয় সহিংসতার একটি বড় চিত্র তুলে ধরে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেরিতে ও অকার্যকর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে সংস্থাটি বলেছে, শুধু অপরাধীদের বিচার করাই নয়, ভবিষ্যতে এমন হামলা ঠেকানোর দায়িত্বও রাষ্ট্রের।

নির্বাচনের আগে কঠিন পরীক্ষা
নির্বাচনের আগের সপ্তাহগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধ, অধিকার চর্চাকারীদের সুরক্ষা এবং সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এখন নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই আগামী বহু বছরের জন্য বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির দিকনির্দেশ ঠিক করে দেবে। তাই ভয়মুক্ত, নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশে সকল নাগরিকের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।