১১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
স্যামসাং স্মার্ট টিভির অ্যাপ নিয়ে নতুন কড়াকড়ি, ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ সাদা রঙের নতুন গেমিং ল্যাপটপ আনল এমএসআই, সঙ্গে মিলবে বিশেষ আনুষঙ্গিক সামগ্রী ইউরোপজুড়ে তীব্র খরায় রাইন নদীর পানি ইতিহাসের সর্বনিম্নে, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে বাড়ছে সংকট গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে ডেনমার্ক, বাড়ছে আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা সিলিকন ভ্যালির লবিং কি যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কে নতুন অবিশ্বাস তৈরি করছে? যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত বিষয় দিয়েগো গার্সিয়া, বাস্তুচ্যুত চাগোসবাসী ও ভূরাজনীতি: বার্নহামের সামনে কঠিন পরীক্ষা হামের চিকিৎসায় ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% বাড়ির অতিরিক্ত জায়গা কাজে লাগানোর ৫টি সেরা এবং ৩টি খারাপ উপায়, জানালেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা: যে কথাগুলো না বললে প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের অঙ্ক দুই বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক দায়ের চাপের মধ্যে সরকারকে এই বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঋণ পরিশোধের সাম্প্রতিক চিত্র
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ মূল ও সুদ মিলিয়ে মোট দুই দশমিক এক নয় বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এই অঙ্কটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দুইশ দশ মিলিয়ন ডলার বেশি।

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। শুধু গত অর্থবছরেই দেশকে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হয়েছে। এতে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য নতুন অর্থের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ভারসাম্য
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে প্রায় দুই দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে একই সময়ে আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রাপ্ত অর্থের বড় অংশ নতুন উন্নয়ন কার্যক্রমে নয়, বরং পুরোনো ঋণ শোধেই ব্যয় হয়েছে।

নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতির হ্রাস
এই সময়ে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছে মোট এক দশমিক নয় নয় বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের দুই দশমিক তিন শূন্য বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম। ডিসেম্বর মাসে একাই সাতশ সত্তর মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধান ঋণদাতা দেশ ও সংস্থা
জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে রাশিয়া ছিল শীর্ষে, দেশটি পাঁচশ ছিয়াত্তর মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। এর পরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যারা পাঁচশ পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ছাড় করেছে পাঁচশ বিশ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া চীন থেকে এসেছে দুইশ বিশ মিলিয়ন ডলার, ভারত দিয়েছে একশ পাঁচ মিলিয়ন ডলার এবং জাপান ছাড় করেছে একশ বিশ মিলিয়ন ডলার।

নতুন প্রতিশ্রুতির ঘাটতি
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সূত্র জানায়, ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানের মতো প্রধান দ্বিপক্ষীয় অংশীদাররা এই ছয় মাসে কোনো নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আওতায় অর্থ ছাড় অব্যাহত রেখেছে তারা। একইভাবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও এই সময়ে বাংলাদেশকে নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ
কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ ছাড় ও ঋণ পরিশোধের ব্যবধান ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসায় দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ অব্যাহত রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্যামসাং স্মার্ট টিভির অ্যাপ নিয়ে নতুন কড়াকড়ি, ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

০৯:১৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের অঙ্ক দুই বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক দায়ের চাপের মধ্যে সরকারকে এই বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঋণ পরিশোধের সাম্প্রতিক চিত্র
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ মূল ও সুদ মিলিয়ে মোট দুই দশমিক এক নয় বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এই অঙ্কটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দুইশ দশ মিলিয়ন ডলার বেশি।

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। শুধু গত অর্থবছরেই দেশকে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হয়েছে। এতে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য নতুন অর্থের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ভারসাম্য
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে প্রায় দুই দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে একই সময়ে আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রাপ্ত অর্থের বড় অংশ নতুন উন্নয়ন কার্যক্রমে নয়, বরং পুরোনো ঋণ শোধেই ব্যয় হয়েছে।

নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতির হ্রাস
এই সময়ে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছে মোট এক দশমিক নয় নয় বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের দুই দশমিক তিন শূন্য বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম। ডিসেম্বর মাসে একাই সাতশ সত্তর মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধান ঋণদাতা দেশ ও সংস্থা
জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে রাশিয়া ছিল শীর্ষে, দেশটি পাঁচশ ছিয়াত্তর মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। এর পরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যারা পাঁচশ পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ছাড় করেছে পাঁচশ বিশ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া চীন থেকে এসেছে দুইশ বিশ মিলিয়ন ডলার, ভারত দিয়েছে একশ পাঁচ মিলিয়ন ডলার এবং জাপান ছাড় করেছে একশ বিশ মিলিয়ন ডলার।

নতুন প্রতিশ্রুতির ঘাটতি
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সূত্র জানায়, ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানের মতো প্রধান দ্বিপক্ষীয় অংশীদাররা এই ছয় মাসে কোনো নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আওতায় অর্থ ছাড় অব্যাহত রেখেছে তারা। একইভাবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও এই সময়ে বাংলাদেশকে নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ
কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ ছাড় ও ঋণ পরিশোধের ব্যবধান ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসায় দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ অব্যাহত রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।