তামিল চলচ্চিত্র তারকা বিজয়ের বহুল আলোচিত ছবি ‘জননায়গন’–এর মুক্তি আরও পিছিয়ে গেল। মঙ্গলবার ভারতের মাদ্রাজ হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের করা আপিল গ্রহণ করে একক বিচারকের আগের নির্দেশ বাতিল করেছে। এর ফলে ছবিটির প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একক বিচারক কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডকে তাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় না দিয়েই ছবিটিকে ‘ইউ/এ’ সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মনে করে, এই প্রক্রিয়াগত ঘাটতির কারণে মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য ফেরত পাঠানো প্রয়োজন।
সার্টিফিকেশন নিয়ে আইনি জট
ভারতে ‘ইউ/এ’ সার্টিফিকেট বলতে বোঝায়—অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে সব বয়সের দর্শকের জন্য ছবি প্রদর্শনের অনুমতি। ছবির বিষয়বস্তুর ধরন অনুযায়ী বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়, যেমন ১৪+ বা ১৬+। আগের আদেশে ‘জননায়গন’ ছবিটিকে ‘ইউ/এ ১৬+’ সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা প্রযোজকদের জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছিল।

তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধেই আপিল করে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। ডিভিশন বেঞ্চ সেই আপিল শুনে একক বিচারকের আদেশ স্থগিত করে দেয় এবং মামলাটি আবারও নতুন করে শুনানির জন্য পাঠায়। আদালত একই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজনে প্রযোজক তার আবেদনের ভাষা সংশোধন করতে পারবেন।
এই আইনি জটের সূত্রপাত হয় জানুয়ারির শুরুতে। ৯ জানুয়ারি ছবিটির মুক্তির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সার্টিফিকেশন না পাওয়ায় তা আটকে যায়। বোর্ডের দাবি ছিল, ছবির কিছু দৃশ্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এরপরই প্রযোজক কে. ভেঙ্কট নারায়ণা জরুরি ভিত্তিতে মাদ্রাজ হাই কোর্টে আবেদন করেন।
রাজনীতির আগে শেষ ছবি?
পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ডিভিশন বেঞ্চে গেলে একক বিচারকের আদেশ স্থগিত হয়। এর আগেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ছবির নির্মাতাদের একটি আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানায়, যেখানে তারা সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া স্থগিতের আদেশ বাতিল চেয়েছিলেন।
‘জননায়গন’ ছবিটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি বড় কারণ হলো—এটি নাকি বিজয়ের শেষ চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে। পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে এটিই হতে পারে তার বিদায়ী সিনেমা। সম্প্রতি তিনি নিজের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে এখন প্রশ্ন একটাই—এই আইনি জট কবে কাটবে। ততদিন পর্যন্ত বিজয়ের ভক্তদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















