ভারতের অর্থনীতি এখন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার চাপের মুখে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার ঘোষিত হতে যাওয়া নতুন বাজেটে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং বহিরাগত ধাক্কা সামাল দেওয়াই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সময় নির্ধারিত হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে।
চলতি অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে। অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয় এবং আয়কর ও ভোগকর ছাড়ের কারণে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭.৪ শতাংশে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। তবে এই কর ছাড়ই এখন সরকারের রাজস্বের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।
রাজস্ব সংকোচন, বিনিয়োগের চাপ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর ছাড়ের কারণে সরকারের হাতে নতুন করে ভোগব্যয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদ আস্থা গুদওয়ানির মতে, আগের বছর সরাসরি কর ও পণ্য ও পরিষেবা কর কমানোর পর নতুন বাজেটে ভোক্তাদের জন্য বড় প্রণোদনার জায়গা নেই।
এর মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা আর্থিক বাজারকে অস্থির করেছে। এর প্রভাব পড়েছে রুপির ওপরও, যা রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২০২৫ সালে বড় অঙ্কে শেয়ার বিক্রির পর এখনও বাজার ছাড়ছেন। উচ্চ মূল্যায়ন, দুর্বল আয় প্রবৃদ্ধি ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এই প্রবণতা বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী সীতারামনের সামনে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই ধরনের আস্থা ফেরানোর কঠিন দায়িত্ব। বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ না থাকায় সরকার নিয়মকানুন সহজ করা ও কাঠামোগত সংস্কারের দিকেই বেশি জোর দেবে, যাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আসে।
ঘাটতির সীমা, উৎপাদনে নতুন চেষ্টা
২০২৫ সালের কর ছাড়ের ফলে সরকার বছরে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন রুপি রাজস্ব হারাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই চলতি অর্থবছরে জিডিপির ৪.৪ শতাংশ ঘাটতির লক্ষ্য পূরণে সামগ্রিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন বাজেটে ঘাটতি কমিয়ে ৪.২ শতাংশে নামানোর চেষ্টা থাকবে।
এতে সরকারি ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে মূলধনী ব্যয় খুব বেশি বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ঋণ–জিডিপি অনুপাতও ধীরে ধীরে কমানোর রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে।
ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যে শ্রম আইনে বড় সংস্কার করেছে এবং পারমাণবিক খাত আংশিকভাবে খুলে দিয়েছে। নতুন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করার পদক্ষেপ আসতে পারে। প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর আরেকটি প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে। যদিও আগের দুই দফা উদ্যোগ প্রত্যাশিত সাফল্য আনতে পারেনি, তবু সরকার স্থানীয় শিল্পকে চাঙা করতে নতুন করে বাজিতে নামছে। এই বাজেট তাই শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির দিশা ঠিক করার পরীক্ষাও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















