০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
সংকুচিত নাগরিক পরিসর: বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানাল অ্যামনেস্টি মায়েদের গায়ে হাত দিলে চুপ করে বসে থাকবো না: জামায়াত আমির হিন্দুরা যারা অন্যায় করেছে তাদের শুধু শাস্তি হবে – মির্জা ফখরুল জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী মাধবপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ভোটের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার: বিএনপির অভিযোগে নতুন উত্তাপ বগুড়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন, ভোররাতে হামলা ড্রোন কারখানা নিয়ে কে কী ভাবল তাতে কিছু যায় আসে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ, লাইসেন্স না থাকলে জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান

দেশে সম্প্রচার খাতকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে নতুন করে সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ–২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার চালালে জেল ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়াটি বর্তমানে অংশীজনদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

সম্প্রচার কমিশনের আওতা
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্থলভিত্তিক, স্যাটেলাইট ও কেবল টেলিভিশন, রেডিও, আইপিটিভি, ডিটিএইচ, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও, ওটিটি, স্ট্রিমিং ও ভিডিও অন ডিমান্ড প্ল্যাটফর্ম এই কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টাল, অ্যাপ ও ভিডিও স্ট্রিমিং কার্যক্রমও এর আওতায় আসবে। তবে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও শখের বশে তৈরি কনটেন্ট এই অধ্যাদেশের বাইরে থাকবে।

লাইসেন্স ও নির্দেশনা লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তি
খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। জাতীয় স্বার্থ বা জনকল্যাণে জারি করা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল তথ্য সম্প্রচার
সামরিক বা বেসামরিক কোনো গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য সম্প্রচার, যা জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

যন্ত্রপাতি আমদানি ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিধান
সরকারি অনুমোদন ছাড়া সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জুয়া, তামাক, মদ কিংবা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় স্থাপনার ছবি ব্যবহারে বিধিনিষেধ
জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয়, আদালত, সামরিক ছাউনি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ছবি বাণিজ্যিক কনটেন্টে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সব ধরনের জরিমানা আদায় হবে সরকারি দাবি আদায় আইন–১৯১৩ অনুযায়ী।

ব্রডকাস্ট ট্রাইব্যুনাল গঠন
এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত অপরাধ নিষ্পত্তির জন্য এক বা একাধিক সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে একজন জেলা বা দায়রা জজ থাকবেন এবং মামলা দায়েরের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশনা থাকবে।

কমিশন গঠন ও সদস্যদের যোগ্যতা
একটি বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেবে। কমিশনের অন্তত একজন সদস্য নারী হতে হবে। কমিশনের সদস্যরা কোনো লাভজনক পদে থাকা বা গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

কমিশনের দায়িত্ব ও ক্ষমতা
খসড়া অধ্যাদেশে কমিশনের দায়িত্ব হিসেবে সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ, আচরণবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন, সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি এবং দর্শক-শ্রোতার অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। কারিগরি বিষয়ে কমিশন বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং প্রয়োজন হলে জরিমানা আরোপ, সংশোধনী নির্দেশনা জারি বা লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা পাবে।

মতামত দেওয়ার সময়সীমা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে সব অংশীজনের মতামত আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংকুচিত নাগরিক পরিসর: বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানাল অ্যামনেস্টি

সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ, লাইসেন্স না থাকলে জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান

০৮:১০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে সম্প্রচার খাতকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে নতুন করে সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ–২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার চালালে জেল ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়াটি বর্তমানে অংশীজনদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

সম্প্রচার কমিশনের আওতা
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্থলভিত্তিক, স্যাটেলাইট ও কেবল টেলিভিশন, রেডিও, আইপিটিভি, ডিটিএইচ, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও, ওটিটি, স্ট্রিমিং ও ভিডিও অন ডিমান্ড প্ল্যাটফর্ম এই কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টাল, অ্যাপ ও ভিডিও স্ট্রিমিং কার্যক্রমও এর আওতায় আসবে। তবে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও শখের বশে তৈরি কনটেন্ট এই অধ্যাদেশের বাইরে থাকবে।

লাইসেন্স ও নির্দেশনা লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তি
খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। জাতীয় স্বার্থ বা জনকল্যাণে জারি করা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল তথ্য সম্প্রচার
সামরিক বা বেসামরিক কোনো গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য সম্প্রচার, যা জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

যন্ত্রপাতি আমদানি ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিধান
সরকারি অনুমোদন ছাড়া সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জুয়া, তামাক, মদ কিংবা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় স্থাপনার ছবি ব্যবহারে বিধিনিষেধ
জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয়, আদালত, সামরিক ছাউনি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ছবি বাণিজ্যিক কনটেন্টে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সব ধরনের জরিমানা আদায় হবে সরকারি দাবি আদায় আইন–১৯১৩ অনুযায়ী।

ব্রডকাস্ট ট্রাইব্যুনাল গঠন
এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত অপরাধ নিষ্পত্তির জন্য এক বা একাধিক সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে একজন জেলা বা দায়রা জজ থাকবেন এবং মামলা দায়েরের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশনা থাকবে।

কমিশন গঠন ও সদস্যদের যোগ্যতা
একটি বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেবে। কমিশনের অন্তত একজন সদস্য নারী হতে হবে। কমিশনের সদস্যরা কোনো লাভজনক পদে থাকা বা গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

কমিশনের দায়িত্ব ও ক্ষমতা
খসড়া অধ্যাদেশে কমিশনের দায়িত্ব হিসেবে সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ, আচরণবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন, সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি এবং দর্শক-শ্রোতার অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। কারিগরি বিষয়ে কমিশন বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং প্রয়োজন হলে জরিমানা আরোপ, সংশোধনী নির্দেশনা জারি বা লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা পাবে।

মতামত দেওয়ার সময়সীমা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে সব অংশীজনের মতামত আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে।