০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী মাধবপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ভোটের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার: বিএনপির অভিযোগে নতুন উত্তাপ বগুড়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন, ভোররাতে হামলা ড্রোন কারখানা নিয়ে কে কী ভাবল তাতে কিছু যায় আসে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়াল শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, অন্তত ৩০ জন আহত উত্তরা সেক্টর-১১-এর কিচেন মার্কেটে আগুন নির্বাচন সামনে রেখে পটুয়াখালী ও খুলনা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

মিনিয়াপোলিসে আইস গুলিবর্ষণ: ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে তীব্র প্রশ্ন

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে রাস্তার ধারে একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ। ফুল আর হাতে লেখা কার্ডে ভরা। সেখানেই গুলিতে নিহত হন অ্যালেক্স প্রেটি। তাকে আটকাতে গিয়েছিল ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টরা। একই ঘটনায় প্রাণ হারান রেনে গুড। দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দিনের আলোয় প্রকাশ্য রাস্তায় এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এনেছে মিনিয়াপোলিসে আইস গুলিবর্ষণ এবং এর পেছনের প্রস্তুতি ও নীতিগত ব্যর্থতা।

এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিকীকৃত অভিবাসন অভিযানের ধরন নিয়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, এজেন্টরা অনভিজ্ঞ, অপর্যাপ্তভাবে প্রশিক্ষিত এবং প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মানদণ্ডের বাইরে কাজ করছেন। আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি বলেন, এই দুই মৃত্যু প্রশাসনের ভেতরেই গুরুতর আত্মসমালোচনার দাবি রাখে।

অভিযানের শহর, আতঙ্কের রাস্তাঘাট

মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আর কেউ মারা যাওয়ার আগে এই তিন হাজার অপ্রশিক্ষিত এজেন্টকে মিনেসোটা থেকে সরিয়ে নিতে হবে।” মিনিয়াপোলিস এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের নতুন কেন্দ্র। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের অধীন ফেডারেল এজেন্টরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল ও অভিযান চালাচ্ছেন।

মুখোশধারী হাজারো সদস্য—যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (সিবিপি)—শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের আপত্তি সত্ত্বেও অভিযান চলছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে লেখেন, এই এজেন্টরা শহর দখল করছেন, সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করছেন।

কংগ্রেসের বাড়তি অর্থায়নের পর আইস–এ নিয়োগ অভিযান জোরদার হয়েছে। নতুনদের জন্য ৫০ হাজার ডলার বোনাসের ঘোষণাও দেওয়া হয়। এর ফলে সংস্থাটির সদস্যসংখ্যা ১০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজারে। তবে দ্রুত সম্প্রসারণের খেসারত দিতে হয়েছে প্রশিক্ষণে। পাঁচ মাসের মানক প্রশিক্ষণ কোর্স কমে এখন মাত্র ৪২ দিনে সীমিত।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর দাবি করেছে, প্রশিক্ষণ সংক্ষিপ্ত হলেও মৌলিক বিষয়বস্তু অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় সপ্তাহের কোর্সে গ্রেপ্তার কৌশল, সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, উত্তেজনা প্রশমন, অস্ত্র ব্যবহার এবং বলপ্রয়োগের নীতি শেখানো হয়। সমালোচনাকে তারা ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তবে মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক জানায়, সম্প্রসারণের আওতায় নিয়োগ পাওয়া অনেক এজেন্ট স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাদ পড়তেন। কেউ কেউ শারীরিকভাবেও এই কাজের জন্য প্রস্তুত নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বলছে, গুলি চালানো এজেন্টরা অভিজ্ঞ ছিলেন। তবুও সাবেক ভারপ্রাপ্ত আইস পরিচালক জন স্যান্ডউইগ সতর্ক করেন, বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে সীমান্তরক্ষীদের মোতায়েন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, মরুভূমি বা সীমান্ত এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতা শহরের ভিড় ও নাগরিক প্রতিবাদের বাস্তবতায় কার্যকর হয় না।

তিনি আরও বলেন, ‘পূর্ণ দায়মুক্তি’ এবং ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ বয়ান পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। মিনিয়াপোলিসে আজ প্রশ্ন শুধু দুই প্রাণহানির নয়। প্রশ্ন, মিনিয়াপোলিসে আইস গুলিবর্ষণ কি ভবিষ্যতে আরও গভীর অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী

মিনিয়াপোলিসে আইস গুলিবর্ষণ: ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে তীব্র প্রশ্ন

০৭:৪১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে রাস্তার ধারে একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ। ফুল আর হাতে লেখা কার্ডে ভরা। সেখানেই গুলিতে নিহত হন অ্যালেক্স প্রেটি। তাকে আটকাতে গিয়েছিল ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টরা। একই ঘটনায় প্রাণ হারান রেনে গুড। দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দিনের আলোয় প্রকাশ্য রাস্তায় এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এনেছে মিনিয়াপোলিসে আইস গুলিবর্ষণ এবং এর পেছনের প্রস্তুতি ও নীতিগত ব্যর্থতা।

এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিকীকৃত অভিবাসন অভিযানের ধরন নিয়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, এজেন্টরা অনভিজ্ঞ, অপর্যাপ্তভাবে প্রশিক্ষিত এবং প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মানদণ্ডের বাইরে কাজ করছেন। আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি বলেন, এই দুই মৃত্যু প্রশাসনের ভেতরেই গুরুতর আত্মসমালোচনার দাবি রাখে।

অভিযানের শহর, আতঙ্কের রাস্তাঘাট

মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আর কেউ মারা যাওয়ার আগে এই তিন হাজার অপ্রশিক্ষিত এজেন্টকে মিনেসোটা থেকে সরিয়ে নিতে হবে।” মিনিয়াপোলিস এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের নতুন কেন্দ্র। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের অধীন ফেডারেল এজেন্টরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল ও অভিযান চালাচ্ছেন।

মুখোশধারী হাজারো সদস্য—যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (সিবিপি)—শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের আপত্তি সত্ত্বেও অভিযান চলছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে লেখেন, এই এজেন্টরা শহর দখল করছেন, সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করছেন।

কংগ্রেসের বাড়তি অর্থায়নের পর আইস–এ নিয়োগ অভিযান জোরদার হয়েছে। নতুনদের জন্য ৫০ হাজার ডলার বোনাসের ঘোষণাও দেওয়া হয়। এর ফলে সংস্থাটির সদস্যসংখ্যা ১০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজারে। তবে দ্রুত সম্প্রসারণের খেসারত দিতে হয়েছে প্রশিক্ষণে। পাঁচ মাসের মানক প্রশিক্ষণ কোর্স কমে এখন মাত্র ৪২ দিনে সীমিত।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর দাবি করেছে, প্রশিক্ষণ সংক্ষিপ্ত হলেও মৌলিক বিষয়বস্তু অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় সপ্তাহের কোর্সে গ্রেপ্তার কৌশল, সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, উত্তেজনা প্রশমন, অস্ত্র ব্যবহার এবং বলপ্রয়োগের নীতি শেখানো হয়। সমালোচনাকে তারা ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তবে মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক জানায়, সম্প্রসারণের আওতায় নিয়োগ পাওয়া অনেক এজেন্ট স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাদ পড়তেন। কেউ কেউ শারীরিকভাবেও এই কাজের জন্য প্রস্তুত নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বলছে, গুলি চালানো এজেন্টরা অভিজ্ঞ ছিলেন। তবুও সাবেক ভারপ্রাপ্ত আইস পরিচালক জন স্যান্ডউইগ সতর্ক করেন, বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে সীমান্তরক্ষীদের মোতায়েন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, মরুভূমি বা সীমান্ত এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতা শহরের ভিড় ও নাগরিক প্রতিবাদের বাস্তবতায় কার্যকর হয় না।

তিনি আরও বলেন, ‘পূর্ণ দায়মুক্তি’ এবং ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ বয়ান পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। মিনিয়াপোলিসে আজ প্রশ্ন শুধু দুই প্রাণহানির নয়। প্রশ্ন, মিনিয়াপোলিসে আইস গুলিবর্ষণ কি ভবিষ্যতে আরও গভীর অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।