১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

চাঁদের পথে আমেরিকার নতুন দৌড়, অর্ধশতাব্দী পর আবার মানুষ ফিরছে মহাকাশ অভিযানে

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের পথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শেষবার মানুষের পা পড়েছিল চাঁদের মাটিতে উনিশশো বাহাত্তর সালে। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারিত রয়েছে আর্টেমিস টু মিশনের যাত্রা, যা চাঁদে অবতরণ না করলেও মানুষসহ মহাকাশযানের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরীক্ষামূলক যাত্রা, লক্ষ্য চাঁদের চারপাশে

এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের চারদিকে ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে তারা এক ধরনের ঘূর্ণিপথে যাত্রা করবেন, যা সফল হলে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের পথ আরও মসৃণ হবে। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য মানুষ নিয়ে নতুন রকেট ব্যবস্থা ও ক্যাপসুলের কার্যকারিতা যাচাই করা।

রাজনীতি থেকে প্রতিযোগিতা

শুরুতে এই কর্মসূচি ছিল মূলত দেশীয় মহাকাশ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখার প্রয়াস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। চীন ঘোষণা দিয়েছে, ত্রিশ সালের মধ্যে তারা মানুষকে চাঁদে পাঠাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অভিযান এখন কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, কৌশলগত ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বও বহন করছে।

For the first time in half a century, astronauts are going back to the Moon  | The Economist

বিলম্ব ও ঝুঁকির ছায়া

এই মিশনের পথে রয়েছে একাধিক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তাপঢালে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। যদিও সংশোধিত পথে পুনঃপ্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

চাঁদে নামার লড়াই

পরবর্তী ধাপে পরিকল্পিত আর্টেমিস থ্রি অভিযানে চাঁদে মানুষের অবতরণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে চীনের কর্মসূচি তুলনামূলক সরল ও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই প্রতিযোগিতায় কারা আগে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে, তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

চাঁদের পর কী

চাঁদে ফেরা শুধু শুরু। উভয় দেশই ভবিষ্যতে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার কথা বলছে। এমনকি চাঁদের কক্ষপথে নতুন মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, অতীতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষকে চাঁদে ধরে রাখার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

চাঁদের পথে আমেরিকার নতুন দৌড়, অর্ধশতাব্দী পর আবার মানুষ ফিরছে মহাকাশ অভিযানে

০৭:০০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের পথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শেষবার মানুষের পা পড়েছিল চাঁদের মাটিতে উনিশশো বাহাত্তর সালে। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারিত রয়েছে আর্টেমিস টু মিশনের যাত্রা, যা চাঁদে অবতরণ না করলেও মানুষসহ মহাকাশযানের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরীক্ষামূলক যাত্রা, লক্ষ্য চাঁদের চারপাশে

এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের চারদিকে ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে তারা এক ধরনের ঘূর্ণিপথে যাত্রা করবেন, যা সফল হলে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের পথ আরও মসৃণ হবে। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য মানুষ নিয়ে নতুন রকেট ব্যবস্থা ও ক্যাপসুলের কার্যকারিতা যাচাই করা।

রাজনীতি থেকে প্রতিযোগিতা

শুরুতে এই কর্মসূচি ছিল মূলত দেশীয় মহাকাশ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখার প্রয়াস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। চীন ঘোষণা দিয়েছে, ত্রিশ সালের মধ্যে তারা মানুষকে চাঁদে পাঠাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অভিযান এখন কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, কৌশলগত ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বও বহন করছে।

For the first time in half a century, astronauts are going back to the Moon  | The Economist

বিলম্ব ও ঝুঁকির ছায়া

এই মিশনের পথে রয়েছে একাধিক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তাপঢালে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। যদিও সংশোধিত পথে পুনঃপ্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

চাঁদে নামার লড়াই

পরবর্তী ধাপে পরিকল্পিত আর্টেমিস থ্রি অভিযানে চাঁদে মানুষের অবতরণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে চীনের কর্মসূচি তুলনামূলক সরল ও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই প্রতিযোগিতায় কারা আগে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে, তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

চাঁদের পর কী

চাঁদে ফেরা শুধু শুরু। উভয় দেশই ভবিষ্যতে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার কথা বলছে। এমনকি চাঁদের কক্ষপথে নতুন মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, অতীতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষকে চাঁদে ধরে রাখার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।