১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
আমেরিকার দাবি: নিজের পাতা মাইনই সরাতে পারছে না ইরান, হরমুজ প্রণালীতে জট ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস, আলোচনা নিয়ে সতর্ক বার্তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নির্মম মূল্য: ব্রিটেনের বেসামরিক জীবনের করুণ ইতিহাস ইরানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় নতুন প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঙ্গিত ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দল, অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি বিশ্বজুড়ে সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে, প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি: জাতিসংঘের প্রতিবেদন ইরান যুদ্ধবিরতি টালমাটাল, শান্তি আলোচনায় নতুন অনিশ্চয়তা লন্ডনের শেষ রাত: বিধ্বংসী বোমাবর্ষণে শেষ হলো ব্লিটজ, তবু ভাঙেনি ব্রিটেনের মনোবল গোলাবারুদ নাকি বাটার? ব্রিটেনের শেল সংকটের ইতিহাস আর্কটিকে ঠান্ডা যুদ্ধ

চাঁদের পথে আমেরিকার নতুন দৌড়, অর্ধশতাব্দী পর আবার মানুষ ফিরছে মহাকাশ অভিযানে

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের পথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শেষবার মানুষের পা পড়েছিল চাঁদের মাটিতে উনিশশো বাহাত্তর সালে। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারিত রয়েছে আর্টেমিস টু মিশনের যাত্রা, যা চাঁদে অবতরণ না করলেও মানুষসহ মহাকাশযানের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরীক্ষামূলক যাত্রা, লক্ষ্য চাঁদের চারপাশে

এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের চারদিকে ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে তারা এক ধরনের ঘূর্ণিপথে যাত্রা করবেন, যা সফল হলে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের পথ আরও মসৃণ হবে। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য মানুষ নিয়ে নতুন রকেট ব্যবস্থা ও ক্যাপসুলের কার্যকারিতা যাচাই করা।

রাজনীতি থেকে প্রতিযোগিতা

শুরুতে এই কর্মসূচি ছিল মূলত দেশীয় মহাকাশ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখার প্রয়াস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। চীন ঘোষণা দিয়েছে, ত্রিশ সালের মধ্যে তারা মানুষকে চাঁদে পাঠাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অভিযান এখন কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, কৌশলগত ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বও বহন করছে।

For the first time in half a century, astronauts are going back to the Moon  | The Economist

বিলম্ব ও ঝুঁকির ছায়া

এই মিশনের পথে রয়েছে একাধিক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তাপঢালে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। যদিও সংশোধিত পথে পুনঃপ্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

চাঁদে নামার লড়াই

পরবর্তী ধাপে পরিকল্পিত আর্টেমিস থ্রি অভিযানে চাঁদে মানুষের অবতরণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে চীনের কর্মসূচি তুলনামূলক সরল ও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই প্রতিযোগিতায় কারা আগে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে, তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

চাঁদের পর কী

চাঁদে ফেরা শুধু শুরু। উভয় দেশই ভবিষ্যতে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার কথা বলছে। এমনকি চাঁদের কক্ষপথে নতুন মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, অতীতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষকে চাঁদে ধরে রাখার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার দাবি: নিজের পাতা মাইনই সরাতে পারছে না ইরান, হরমুজ প্রণালীতে জট

চাঁদের পথে আমেরিকার নতুন দৌড়, অর্ধশতাব্দী পর আবার মানুষ ফিরছে মহাকাশ অভিযানে

০৭:০০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের পথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শেষবার মানুষের পা পড়েছিল চাঁদের মাটিতে উনিশশো বাহাত্তর সালে। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারিত রয়েছে আর্টেমিস টু মিশনের যাত্রা, যা চাঁদে অবতরণ না করলেও মানুষসহ মহাকাশযানের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরীক্ষামূলক যাত্রা, লক্ষ্য চাঁদের চারপাশে

এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের চারদিকে ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে তারা এক ধরনের ঘূর্ণিপথে যাত্রা করবেন, যা সফল হলে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের পথ আরও মসৃণ হবে। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য মানুষ নিয়ে নতুন রকেট ব্যবস্থা ও ক্যাপসুলের কার্যকারিতা যাচাই করা।

রাজনীতি থেকে প্রতিযোগিতা

শুরুতে এই কর্মসূচি ছিল মূলত দেশীয় মহাকাশ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখার প্রয়াস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। চীন ঘোষণা দিয়েছে, ত্রিশ সালের মধ্যে তারা মানুষকে চাঁদে পাঠাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অভিযান এখন কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, কৌশলগত ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বও বহন করছে।

For the first time in half a century, astronauts are going back to the Moon  | The Economist

বিলম্ব ও ঝুঁকির ছায়া

এই মিশনের পথে রয়েছে একাধিক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তাপঢালে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। যদিও সংশোধিত পথে পুনঃপ্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

চাঁদে নামার লড়াই

পরবর্তী ধাপে পরিকল্পিত আর্টেমিস থ্রি অভিযানে চাঁদে মানুষের অবতরণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে চীনের কর্মসূচি তুলনামূলক সরল ও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই প্রতিযোগিতায় কারা আগে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে, তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

চাঁদের পর কী

চাঁদে ফেরা শুধু শুরু। উভয় দেশই ভবিষ্যতে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার কথা বলছে। এমনকি চাঁদের কক্ষপথে নতুন মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, অতীতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষকে চাঁদে ধরে রাখার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।