০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘শেনলং’ মহাকাশযানের চতুর্থ মিশন কক্ষপথে মাগুরায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, জানিয়েছে সেনাবাহিনী তারেক রহমানকে ‘কাগুজে বাঘ’ বললেন নাসিরউদ্দিন, ছাত্রদল–যুবদলকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা কৃষিভিত্তিক শিল্পই বদলাতে পারে কৃষকের জীবন: তারেক রহমান পতনের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে হারাল পাকিস্তান ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান বিএনপি প্রার্থীর যাত্রাশিল্পের পথিকৃৎ মিলন কান্তি দে আর নেই বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ, অনূর্ধ্ব উনিশ সাফে চ্যাম্পিয়ন ভারত বন্ধ ছয় চিনিকল চালুর দাবিতে ৩১ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা

হার্ট অ্যাটাকে সিসিইউতে শহীদ মীর মুগ্ধর বাবা, দোয়া চাইলেন পরিবার

জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। শুক্রবার গভীর রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সেখানে জানানো হয়, হঠাৎ বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আগামী বাহাত্তর ঘণ্টা তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন চিকিৎসকেরা।

অপ্রকাশিত ব্যথার ভেতরে লুকানো সংকট
পরিবারের সদস্যরা জানান, এত বড় হৃদ্‌রোগের আঘাতের পরও তিনি তীব্র কোনো শারীরিক ব্যথা অনুভব করেননি। চিকিৎসকদের ধারণা, শেষ বাহাত্তর ঘণ্টার যেকোনো সময় এই আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে মানসিক কষ্ট এতটাই গভীর যে শারীরিক যন্ত্রণাও যেন তার কাছে ম্লান হয়ে গেছে—এমন অনুভূতির কথাও পরিবারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়।

চিকিৎসকদের সতর্কতা ও মানবিক উদ্বেগ
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে আরেকটি হৃদ্‌রোগের আক্রমণ হলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে সংকটাপন্ন অবস্থাতেও তিনি অন্য এক ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং পরিবারের সদস্যদের সেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরোপকার ও মানবিকতার যে শিক্ষা মুগ্ধ বহন করতেন, তার মূল উৎস ছিলেন তার বাবা।

ব্যক্তিগত শোক ও আন্দোলনের বাস্তবতা
একদিকে বাবার জীবনসংকট, অন্যদিকে শহীদদের বিচার দাবিতে রাজপথের ঘটনাপ্রবাহ—এই দুই বাস্তবতার মাঝে পরিবার গভীর অসহায়তার কথা জানিয়েছে। আন্দোলনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবার শারীরিক অবস্থার কারণে হাসপাতাল ছেড়ে বের হওয়া সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।

স্মৃতিতে ভাসা পিতৃস্নেহ
দিনভর তিনি শহীদ ছেলের স্মৃতিচারণ করেছেন বলে জানা গেছে। জন্মের পর প্রথম কোলে নেওয়ার মুহূর্ত স্মরণ করতে গিয়ে তার চোখে অশ্রু দেখা যায়। একই সঙ্গে সন্তানদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য না হারানোর উপদেশ দিয়েছেন এবং সব পরিস্থিতিতে অবিচল থাকার কথা বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘শেনলং’ মহাকাশযানের চতুর্থ মিশন কক্ষপথে

হার্ট অ্যাটাকে সিসিইউতে শহীদ মীর মুগ্ধর বাবা, দোয়া চাইলেন পরিবার

০৭:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। শুক্রবার গভীর রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সেখানে জানানো হয়, হঠাৎ বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আগামী বাহাত্তর ঘণ্টা তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন চিকিৎসকেরা।

অপ্রকাশিত ব্যথার ভেতরে লুকানো সংকট
পরিবারের সদস্যরা জানান, এত বড় হৃদ্‌রোগের আঘাতের পরও তিনি তীব্র কোনো শারীরিক ব্যথা অনুভব করেননি। চিকিৎসকদের ধারণা, শেষ বাহাত্তর ঘণ্টার যেকোনো সময় এই আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে মানসিক কষ্ট এতটাই গভীর যে শারীরিক যন্ত্রণাও যেন তার কাছে ম্লান হয়ে গেছে—এমন অনুভূতির কথাও পরিবারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়।

চিকিৎসকদের সতর্কতা ও মানবিক উদ্বেগ
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে আরেকটি হৃদ্‌রোগের আক্রমণ হলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে সংকটাপন্ন অবস্থাতেও তিনি অন্য এক ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং পরিবারের সদস্যদের সেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরোপকার ও মানবিকতার যে শিক্ষা মুগ্ধ বহন করতেন, তার মূল উৎস ছিলেন তার বাবা।

ব্যক্তিগত শোক ও আন্দোলনের বাস্তবতা
একদিকে বাবার জীবনসংকট, অন্যদিকে শহীদদের বিচার দাবিতে রাজপথের ঘটনাপ্রবাহ—এই দুই বাস্তবতার মাঝে পরিবার গভীর অসহায়তার কথা জানিয়েছে। আন্দোলনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবার শারীরিক অবস্থার কারণে হাসপাতাল ছেড়ে বের হওয়া সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।

স্মৃতিতে ভাসা পিতৃস্নেহ
দিনভর তিনি শহীদ ছেলের স্মৃতিচারণ করেছেন বলে জানা গেছে। জন্মের পর প্রথম কোলে নেওয়ার মুহূর্ত স্মরণ করতে গিয়ে তার চোখে অশ্রু দেখা যায়। একই সঙ্গে সন্তানদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য না হারানোর উপদেশ দিয়েছেন এবং সব পরিস্থিতিতে অবিচল থাকার কথা বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।