০২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ, দাম-রপ্তানি-রিজার্ভে বাড়ছে শঙ্কা হরমুজে অস্থিরতা থামেনি, যুদ্ধবিরতিতেও ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পের সামনে রয়ে গেল বড় সংকট জ্বালানি যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া: যুদ্ধবিরতি হলেও উপসাগরে তেল-গ্যাস স্বাভাবিক হতে কেন লাগতে পারে বহু মাস চাঁদ ঘুরে পৃথিবীতে ফেরার পথে ইতিহাস গড়ছে আর্টেমিস দুই, অগ্নিগোলকের মতো পুনঃপ্রবেশে শেষ হবে দুঃসাহসিক মিশন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যয় বাড়ছে, সামনে ২৫ শতাংশ অর্ডার ঘাটতির শঙ্কা মিয়ানমারে নতুন মন্ত্রিসভা, তবু ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়ে গেল সেনাবাহিনী ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি পুরোপুরি মানা না হলে ইরানের চারপাশেই থাকবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে হোটেলে নিয়ে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, প্রতিবাদের পর রাতে মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ স্পিকার শিরীন শারমিন গ্রেফতার দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেভাবে গ্রেফতার হলেন

হার্ট অ্যাটাকে সিসিইউতে শহীদ মীর মুগ্ধর বাবা, দোয়া চাইলেন পরিবার

জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। শুক্রবার গভীর রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সেখানে জানানো হয়, হঠাৎ বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আগামী বাহাত্তর ঘণ্টা তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন চিকিৎসকেরা।

অপ্রকাশিত ব্যথার ভেতরে লুকানো সংকট
পরিবারের সদস্যরা জানান, এত বড় হৃদ্‌রোগের আঘাতের পরও তিনি তীব্র কোনো শারীরিক ব্যথা অনুভব করেননি। চিকিৎসকদের ধারণা, শেষ বাহাত্তর ঘণ্টার যেকোনো সময় এই আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে মানসিক কষ্ট এতটাই গভীর যে শারীরিক যন্ত্রণাও যেন তার কাছে ম্লান হয়ে গেছে—এমন অনুভূতির কথাও পরিবারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়।

চিকিৎসকদের সতর্কতা ও মানবিক উদ্বেগ
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে আরেকটি হৃদ্‌রোগের আক্রমণ হলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে সংকটাপন্ন অবস্থাতেও তিনি অন্য এক ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং পরিবারের সদস্যদের সেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরোপকার ও মানবিকতার যে শিক্ষা মুগ্ধ বহন করতেন, তার মূল উৎস ছিলেন তার বাবা।

ব্যক্তিগত শোক ও আন্দোলনের বাস্তবতা
একদিকে বাবার জীবনসংকট, অন্যদিকে শহীদদের বিচার দাবিতে রাজপথের ঘটনাপ্রবাহ—এই দুই বাস্তবতার মাঝে পরিবার গভীর অসহায়তার কথা জানিয়েছে। আন্দোলনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবার শারীরিক অবস্থার কারণে হাসপাতাল ছেড়ে বের হওয়া সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।

স্মৃতিতে ভাসা পিতৃস্নেহ
দিনভর তিনি শহীদ ছেলের স্মৃতিচারণ করেছেন বলে জানা গেছে। জন্মের পর প্রথম কোলে নেওয়ার মুহূর্ত স্মরণ করতে গিয়ে তার চোখে অশ্রু দেখা যায়। একই সঙ্গে সন্তানদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য না হারানোর উপদেশ দিয়েছেন এবং সব পরিস্থিতিতে অবিচল থাকার কথা বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ, দাম-রপ্তানি-রিজার্ভে বাড়ছে শঙ্কা

হার্ট অ্যাটাকে সিসিইউতে শহীদ মীর মুগ্ধর বাবা, দোয়া চাইলেন পরিবার

০৭:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। শুক্রবার গভীর রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সেখানে জানানো হয়, হঠাৎ বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আগামী বাহাত্তর ঘণ্টা তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন চিকিৎসকেরা।

অপ্রকাশিত ব্যথার ভেতরে লুকানো সংকট
পরিবারের সদস্যরা জানান, এত বড় হৃদ্‌রোগের আঘাতের পরও তিনি তীব্র কোনো শারীরিক ব্যথা অনুভব করেননি। চিকিৎসকদের ধারণা, শেষ বাহাত্তর ঘণ্টার যেকোনো সময় এই আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে মানসিক কষ্ট এতটাই গভীর যে শারীরিক যন্ত্রণাও যেন তার কাছে ম্লান হয়ে গেছে—এমন অনুভূতির কথাও পরিবারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়।

চিকিৎসকদের সতর্কতা ও মানবিক উদ্বেগ
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে আরেকটি হৃদ্‌রোগের আক্রমণ হলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে সংকটাপন্ন অবস্থাতেও তিনি অন্য এক ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং পরিবারের সদস্যদের সেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরোপকার ও মানবিকতার যে শিক্ষা মুগ্ধ বহন করতেন, তার মূল উৎস ছিলেন তার বাবা।

ব্যক্তিগত শোক ও আন্দোলনের বাস্তবতা
একদিকে বাবার জীবনসংকট, অন্যদিকে শহীদদের বিচার দাবিতে রাজপথের ঘটনাপ্রবাহ—এই দুই বাস্তবতার মাঝে পরিবার গভীর অসহায়তার কথা জানিয়েছে। আন্দোলনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবার শারীরিক অবস্থার কারণে হাসপাতাল ছেড়ে বের হওয়া সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।

স্মৃতিতে ভাসা পিতৃস্নেহ
দিনভর তিনি শহীদ ছেলের স্মৃতিচারণ করেছেন বলে জানা গেছে। জন্মের পর প্রথম কোলে নেওয়ার মুহূর্ত স্মরণ করতে গিয়ে তার চোখে অশ্রু দেখা যায়। একই সঙ্গে সন্তানদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য না হারানোর উপদেশ দিয়েছেন এবং সব পরিস্থিতিতে অবিচল থাকার কথা বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।