০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘শেনলং’ মহাকাশযানের চতুর্থ মিশন কক্ষপথে মাগুরায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, জানিয়েছে সেনাবাহিনী তারেক রহমানকে ‘কাগুজে বাঘ’ বললেন নাসিরউদ্দিন, ছাত্রদল–যুবদলকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা কৃষিভিত্তিক শিল্পই বদলাতে পারে কৃষকের জীবন: তারেক রহমান পতনের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে হারাল পাকিস্তান ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান বিএনপি প্রার্থীর যাত্রাশিল্পের পথিকৃৎ মিলন কান্তি দে আর নেই বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ, অনূর্ধ্ব উনিশ সাফে চ্যাম্পিয়ন ভারত বন্ধ ছয় চিনিকল চালুর দাবিতে ৩১ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা

উন্নয়নে স্থবিরতা, তবু দ্রুত বাড়ছে বিদেশি ঋণ—অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ

  • Sarakhon Report
  • ০৭:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 16

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের গতি কম থাকলেও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে সরকার এখন দ্রুত পাওয়া যায় এমন বাজেট সহায়তা ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে টাকার অবমূল্যায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফলে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং সুদ পরিশোধে পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় অর্থনীতি বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বিদেশি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুনের তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় ৯২ শতাংশ বেশি, যা তিন বছরের মধ্যে ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

প্রকল্প ঋণের বদলে বাজেট সহায়তায় ঝোঁক
রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং বাজেট ঘাটতি বাড়তে থাকায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ঋণের পরিবর্তে দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা ঋণের দিকে ঝুঁকেছে। প্রকল্প ঋণের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগে, কিন্তু বাজেট সহায়তা অনুমোদনের পরই ব্যবহার করা যায়।
২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ৯ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই এসেছে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে প্রকল্প ঋণের ছাড় ২৯ শতাংশের বেশি কমেছে।

টাকার অবমূল্যায়নে ঋণের চাপ বৃদ্ধি
ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় বৈদেশিক ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়েছে। কয়েক বছর আগে যেখানে এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ৮৫ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১২২ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধিই এই অবমূল্যায়নের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি ঋণ ও জিডিপির অনুপাত
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারের মোট ঋণ ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকায়। এতে জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত বেড়ে হয়েছে ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। মোট ঋণের মধ্যে ১১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা এসেছে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে, আর বাকি অংশ বৈদেশিক ঋণ।

সুদ পরিশোধে বাড়তি চাপ
ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।
অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ১৯ শতাংশ এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ৮০ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক প্রবণতা নির্দেশ করে। ট্রেজারি সিকিউরিটিজে সুদ ব্যয় বেড়েছে ২১ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ১৬ শতাংশ।

পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ সুদে
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের ৩৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা গেছে কেবল সুদ পরিশোধে। এটি এককভাবে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যয়খাত।
৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মোট বাজেটের মধ্যে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা, যার ২২ শতাংশ বা ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদে ১ লাখ কোটি এবং বৈদেশিক ঋণের সুদে ২২ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

আয়-ব্যয়ের সাময়িক উদ্বৃত্ত, কিন্তু উন্নয়ন ব্যয় কম
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের মোট আয় ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় শেষে হাতে ছিল ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত, আর উন্নয়ন ব্যয় করার পরও সরকারি হিসাবে ৩ হাজার ৪২ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত থাকে।
কর্মকর্তাদের মতে, নতুন উন্নয়ন প্রকল্প কম নেওয়া এবং চলমান প্রকল্পে ব্যয় কম হওয়ায় এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যদিও রাজস্ব আয় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, উন্নয়ন ব্যয় সে অনুপাতে বাড়েনি।

বৈদেশিক ঋণ ৭৪ বিলিয়ন ডলারে
২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ বছরে এই ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। এই হিসাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ এবং সরকারের গ্যারান্টিযুক্ত কিছু ঋণ অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইয়েনের ওঠানামায় নতুন ঝুঁকি
জাপানি ইয়েনে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বাড়ায় মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকিও বেড়েছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দামের পরিবর্তনে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের দায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। ভবিষ্যতেও এই ঝুঁকি ঋণ পরিশোধে চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজেট সহায়তা ঋণ স্থিতিশীলতা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা বাড়ায়। সুদ ও বেতনভাতা কমানোর সুযোগ সীমিত থাকায় বাজেট কাঠামোও ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই নতুন ঋণ এমন খাতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন, যেখান থেকে অর্থনৈতিক সুফল সুদ ও আসলের চেয়ে বেশি হবে।

সামনের চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, উচ্চ সুদের ঋণ এড়িয়ে চলা এবং দ্রুত ফলদায়ক প্রকল্পে সীমিত ঋণ গ্রহণই হতে পারে টেকসই সমাধান। অন্যথায় সুদ পরিশোধই সরকারের প্রধান ব্যয়খাতে পরিণত হয়ে উন্নয়ন ব্যয়কে আরও সংকুচিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘শেনলং’ মহাকাশযানের চতুর্থ মিশন কক্ষপথে

উন্নয়নে স্থবিরতা, তবু দ্রুত বাড়ছে বিদেশি ঋণ—অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ

০৭:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের গতি কম থাকলেও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে সরকার এখন দ্রুত পাওয়া যায় এমন বাজেট সহায়তা ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে টাকার অবমূল্যায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফলে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং সুদ পরিশোধে পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় অর্থনীতি বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বিদেশি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুনের তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় ৯২ শতাংশ বেশি, যা তিন বছরের মধ্যে ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

প্রকল্প ঋণের বদলে বাজেট সহায়তায় ঝোঁক
রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং বাজেট ঘাটতি বাড়তে থাকায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ঋণের পরিবর্তে দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা ঋণের দিকে ঝুঁকেছে। প্রকল্প ঋণের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগে, কিন্তু বাজেট সহায়তা অনুমোদনের পরই ব্যবহার করা যায়।
২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ৯ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই এসেছে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে প্রকল্প ঋণের ছাড় ২৯ শতাংশের বেশি কমেছে।

টাকার অবমূল্যায়নে ঋণের চাপ বৃদ্ধি
ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় বৈদেশিক ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়েছে। কয়েক বছর আগে যেখানে এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ৮৫ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১২২ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধিই এই অবমূল্যায়নের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি ঋণ ও জিডিপির অনুপাত
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারের মোট ঋণ ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকায়। এতে জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত বেড়ে হয়েছে ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। মোট ঋণের মধ্যে ১১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা এসেছে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে, আর বাকি অংশ বৈদেশিক ঋণ।

সুদ পরিশোধে বাড়তি চাপ
ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।
অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ১৯ শতাংশ এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ৮০ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক প্রবণতা নির্দেশ করে। ট্রেজারি সিকিউরিটিজে সুদ ব্যয় বেড়েছে ২১ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ১৬ শতাংশ।

পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ সুদে
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের ৩৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা গেছে কেবল সুদ পরিশোধে। এটি এককভাবে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যয়খাত।
৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মোট বাজেটের মধ্যে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা, যার ২২ শতাংশ বা ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদে ১ লাখ কোটি এবং বৈদেশিক ঋণের সুদে ২২ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

আয়-ব্যয়ের সাময়িক উদ্বৃত্ত, কিন্তু উন্নয়ন ব্যয় কম
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের মোট আয় ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় শেষে হাতে ছিল ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত, আর উন্নয়ন ব্যয় করার পরও সরকারি হিসাবে ৩ হাজার ৪২ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত থাকে।
কর্মকর্তাদের মতে, নতুন উন্নয়ন প্রকল্প কম নেওয়া এবং চলমান প্রকল্পে ব্যয় কম হওয়ায় এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যদিও রাজস্ব আয় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, উন্নয়ন ব্যয় সে অনুপাতে বাড়েনি।

বৈদেশিক ঋণ ৭৪ বিলিয়ন ডলারে
২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ বছরে এই ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। এই হিসাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ এবং সরকারের গ্যারান্টিযুক্ত কিছু ঋণ অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইয়েনের ওঠানামায় নতুন ঝুঁকি
জাপানি ইয়েনে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বাড়ায় মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকিও বেড়েছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দামের পরিবর্তনে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের দায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। ভবিষ্যতেও এই ঝুঁকি ঋণ পরিশোধে চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজেট সহায়তা ঋণ স্থিতিশীলতা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা বাড়ায়। সুদ ও বেতনভাতা কমানোর সুযোগ সীমিত থাকায় বাজেট কাঠামোও ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই নতুন ঋণ এমন খাতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন, যেখান থেকে অর্থনৈতিক সুফল সুদ ও আসলের চেয়ে বেশি হবে।

সামনের চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, উচ্চ সুদের ঋণ এড়িয়ে চলা এবং দ্রুত ফলদায়ক প্রকল্পে সীমিত ঋণ গ্রহণই হতে পারে টেকসই সমাধান। অন্যথায় সুদ পরিশোধই সরকারের প্রধান ব্যয়খাতে পরিণত হয়ে উন্নয়ন ব্যয়কে আরও সংকুচিত করবে।