০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে – ট্রাম্প প্রথমবারের মতো প্রাণীর টিকাকার্ড চালুর প্রস্তাব, স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১২৮ সংসদে বিরোধী দল অত্যন্ত সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করছে- স্পিকার

এশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেখার শিক্ষা

এশিয়ার রূপান্তর এবং নতুন বাস্তবতা
একসময় তাইওয়ান ছিল সামরিক আইন জারি থাকা এক স্বৈরশাসিত অঞ্চল, যেখানে বিরোধী দল নিষিদ্ধ ছিল এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের কারাবন্দি করা হতো। আশির দশকে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র চার হাজার ডলার। আজ সেই বাস্তবতা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গণতন্ত্র সূচকে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে, একইভাবে স্বাধীনতার সূচকেও এগিয়ে রয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উচ্চ আয় এটিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম অপরিহার্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, বিশেষ করে বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত কম্পিউটার চিপ উৎপাদনের কারণে।

ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন বিস্ময়কর। আশির দশকের শেষ দিকে যেখানে মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় একশ ডলার, আজ তা প্রায় পাঁচ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উঁচু দালানঘেরা নগরজীবন এবং দীর্ঘায়ু মানুষের জীবনমানের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

এশিয়ার সামগ্রিক উত্থান
জাপান ও পূর্ব এশিয়ার ‘টাইগার’ অর্থনীতি—হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুর—থেকে শুরু হওয়া উন্নয়নের ধারা পরে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। মানবসম্পদে বিনিয়োগ এবং সতর্ক অর্থনৈতিক নীতি এই অগ্রগতির বড় ভিত্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদীয়মান এশীয় অর্থনীতিগুলো বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও বেশি ভূমিকা রেখেছে।

শিক্ষার রূপান্তরমূলক শক্তি
এশিয়ার সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। কনফুসীয় ঐতিহ্যের প্রভাবে পড়াশোনাকে মর্যাদা ও উন্নতির প্রধান পথ হিসেবে দেখা হয়। অনেক সমাজে মেধাবী শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে সম্মানিত। এই মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করে এবং ব্যক্তিগত সংগ্রাম সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রেরণা দেয়।

উদাহরণ হিসেবে ভিয়েতনামের এক শিক্ষার্থীর গল্প উল্লেখযোগ্য, যিনি দিনে পড়াশোনা ও রাতে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সম্পন্ন করেন। অর্থকষ্ট, অনাহার ও ক্লান্তি সত্ত্বেও গবেষণায় সাফল্য তাকে স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা এনে দেয়।

আরেক তরুণী প্রযুক্তি শিক্ষার্থী গ্রামীণ পটভূমি থেকে উঠে এসে কৃষকদের জন্য মাটির গুণাগুণ মাপার যন্ত্র তৈরি করেছেন। বৃত্তি সহায়তা পাওয়া এমন শিক্ষার্থীরা দেখায় যে শিক্ষা সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে শিক্ষা
কিছু এশীয় দেশে জাতীয় বাজেটের বড় অংশ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানে বরাদ্দ দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ফলে সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় বাজেটে শিক্ষার অংশ তুলনামূলকভাবে কম, যদিও অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যয় বেশি।

সীমাবদ্ধতা ও প্রশ্ন
এশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা নিখুঁত নয়। অতিরিক্ত চাপ, মুখস্থনির্ভরতা এবং সৃজনশীলতার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তবু শিক্ষার প্রতি গভীর সামাজিক সম্মান উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য শিক্ষা
প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র কি শিক্ষাকে আরও বড় সামাজিক অগ্রাধিকার দিতে পারে? ধনী-গরিব শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য কমানো, বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক আক্রমণ থেকে দূরে রাখা এবং মানবসম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানো—এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করতে পারে।

এশিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায়, শিক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি একটি সমাজকে দ্রুত বদলে দিতে পারে। সেই শিক্ষা গ্রহণই হতে পারে আগামীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি

এশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেখার শিক্ষা

০৬:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এশিয়ার রূপান্তর এবং নতুন বাস্তবতা
একসময় তাইওয়ান ছিল সামরিক আইন জারি থাকা এক স্বৈরশাসিত অঞ্চল, যেখানে বিরোধী দল নিষিদ্ধ ছিল এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের কারাবন্দি করা হতো। আশির দশকে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র চার হাজার ডলার। আজ সেই বাস্তবতা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গণতন্ত্র সূচকে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে, একইভাবে স্বাধীনতার সূচকেও এগিয়ে রয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উচ্চ আয় এটিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম অপরিহার্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, বিশেষ করে বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত কম্পিউটার চিপ উৎপাদনের কারণে।

ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন বিস্ময়কর। আশির দশকের শেষ দিকে যেখানে মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় একশ ডলার, আজ তা প্রায় পাঁচ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উঁচু দালানঘেরা নগরজীবন এবং দীর্ঘায়ু মানুষের জীবনমানের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

এশিয়ার সামগ্রিক উত্থান
জাপান ও পূর্ব এশিয়ার ‘টাইগার’ অর্থনীতি—হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুর—থেকে শুরু হওয়া উন্নয়নের ধারা পরে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। মানবসম্পদে বিনিয়োগ এবং সতর্ক অর্থনৈতিক নীতি এই অগ্রগতির বড় ভিত্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদীয়মান এশীয় অর্থনীতিগুলো বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও বেশি ভূমিকা রেখেছে।

শিক্ষার রূপান্তরমূলক শক্তি
এশিয়ার সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। কনফুসীয় ঐতিহ্যের প্রভাবে পড়াশোনাকে মর্যাদা ও উন্নতির প্রধান পথ হিসেবে দেখা হয়। অনেক সমাজে মেধাবী শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে সম্মানিত। এই মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করে এবং ব্যক্তিগত সংগ্রাম সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রেরণা দেয়।

উদাহরণ হিসেবে ভিয়েতনামের এক শিক্ষার্থীর গল্প উল্লেখযোগ্য, যিনি দিনে পড়াশোনা ও রাতে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সম্পন্ন করেন। অর্থকষ্ট, অনাহার ও ক্লান্তি সত্ত্বেও গবেষণায় সাফল্য তাকে স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা এনে দেয়।

আরেক তরুণী প্রযুক্তি শিক্ষার্থী গ্রামীণ পটভূমি থেকে উঠে এসে কৃষকদের জন্য মাটির গুণাগুণ মাপার যন্ত্র তৈরি করেছেন। বৃত্তি সহায়তা পাওয়া এমন শিক্ষার্থীরা দেখায় যে শিক্ষা সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে শিক্ষা
কিছু এশীয় দেশে জাতীয় বাজেটের বড় অংশ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানে বরাদ্দ দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ফলে সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় বাজেটে শিক্ষার অংশ তুলনামূলকভাবে কম, যদিও অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যয় বেশি।

সীমাবদ্ধতা ও প্রশ্ন
এশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা নিখুঁত নয়। অতিরিক্ত চাপ, মুখস্থনির্ভরতা এবং সৃজনশীলতার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তবু শিক্ষার প্রতি গভীর সামাজিক সম্মান উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য শিক্ষা
প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র কি শিক্ষাকে আরও বড় সামাজিক অগ্রাধিকার দিতে পারে? ধনী-গরিব শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য কমানো, বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক আক্রমণ থেকে দূরে রাখা এবং মানবসম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানো—এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করতে পারে।

এশিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায়, শিক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি একটি সমাজকে দ্রুত বদলে দিতে পারে। সেই শিক্ষা গ্রহণই হতে পারে আগামীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা।