লায়নেল শ্রাইভার এবার পাঠকের সামনে উপন্যাস “একটি ভালো জীবন” নিয়ে হাজির হয়েছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসী সমস্যা এবং রাজনৈতিক প্রগতিশীল ধারণাকে বিদ্রূপাত্মক দৃষ্টিকোণ থেকে ফুটিয়ে তোলে। পাঠককে তীব্র সামাজিক এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বইটি। অভিবাসীরা উপস্থাপিত হয়েছে কৌশলী এবং সুবিধাবাদী চরিত্রে, আর তাদের সহায়করা যেন সরল বিশ্বাসী, যা উপন্যাসের নাটকীয়তা এবং সমালোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কাহিনীর মূল চরিত্র
উপন্যাসের পরিবেশ ব্রুকলিনের ডিটমাস পার্কে, যা একটি শান্তিপ্রিয় শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে বসবাস করেন গ্লোরিয়া বোনাভেন্টুরা, একজন রাজনৈতিকভাবে প্রগতিশীল বিবাহবিচ্ছিন্ন মহিলা। তার ছেলে নিকো ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশলে স্নাতক হলেও জীবনে কিছু করার আগ্রহ হারিয়েছেন। নিকোর জীবন সামাজিক মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। গ্লোরিয়ার বাবা কার্লিন সাংবাদিকতা থেকে সাফল্য উপভোগ করছেন, তবে গ্লোরিয়ার অর্থনৈতিক জীবন সীমিত। তিনি “বিগ অ্যাপল, বিগ হার্ট” প্রকল্পে অংশ নেন, যা বাস্তবে প্রস্তাবিত হলেও কার্যকর হয়নি, যেখানে শহরবাসীদের জন্য আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা এবং সাহায্য করার প্রণোদনা দেওয়া হয়।

মার্টিনের আগমন ও নাটকীয় পরিবর্তন
গ্লোরিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় হন্ডুরাসের মার্টিনের, যিনি হয়তো সহিংস স্বামী বা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের হাত থেকে পালিয়েছেন, অথবা প্রতারণার উদ্দেশ্যে এসেছেন। মার্টিনের হেজ ট্রিমিং দক্ষতা এবং তার অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি বাড়িতে নাটকীয় পরিবর্তন আনে। ধীরে ধীরে তার পরিবার ও ব্যবসায়িক সহযোগীরা বাড়িতে আসতে শুরু করে, যা বাড়ির নিয়ন্ত্রণে অস্বাভাবিক ত্রাস সৃষ্টি করে।
সামাজিক ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপ
শ্রাইভার দার্শনিক ও রাজনৈতিক লিবারেলদের প্রতি কটূক্তিমূলক দৃষ্টিকোণ নিয়েছেন। তিনি সমাজের প্রগতিশীল ধারণাগুলোকে ফিকশন ব্যবহার করে ব্যঙ্গের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। “একটি ভালো জীবন” পাঠককে ক্রমশ হাস্যরসের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করায়। এটি শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার উপর কটাক্ষময় প্রতিফলন, যেখানে ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাজনৈতিক জটিলতার সঙ্গে পাঠকের হাস্যরসময় অভিজ্ঞতা মিশে রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















