১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মিডিয়াকর্পের ২০২৬ বিশ্বকাপ সংগ্রহ: ‘জাতীয় সেবা’ নাকি ব্যবসায়িক কৌশল? আসিয়ান কি মায়ানমারের নির্বাচন স্বীকৃতি দেবে? বিভাজন, রাজনৈতিক দ্বিধা ও ভবিষ্যতের অচেনা পথ কৌশলগত এআই ব্যবহারেই ব্যবসা সফল করতে চান সিঙ্গাপুর সরকার: কীভাবে শুরু করবেন বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করল ‘নকল নোট’ ব্যবহারের বিষয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে প্রশ্নে অনিশ্চয়তায় বিএনপি মঙ্গলবার সিলেটে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি ঢাকার স্টক এক্সচেঞ্জে ঝড়ের পর পতন, লেনদেন কমেছে জাতীয় নির্বাচন ইতিহাসে ‘রোল মডেল’: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মূল্যায়ন তারেক রহমান বগুড়া-৬ ছাড়লেন, রাখলেন ঢাকা-১৭ আসন

আসিয়ান কি মায়ানমারের নির্বাচন স্বীকৃতি দেবে? বিভাজন, রাজনৈতিক দ্বিধা ও ভবিষ্যতের অচেনা পথ

মায়ানমারের সামরিক সরকার কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচনের ফলাফলকে আসিয়ান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফিলিপাইনের সেবু শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও সদস্য দেশগুলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতা আসিয়ানের ঐক্যের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সামরিক সমর্থিত দল ভোটে বিজয়ী হলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচন হিসেবে দেখছেন না। ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত ছিল এবং চলমান গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি ভোটকে আরও বিতর্কিত করেছে।

আসিয়ানের বিভাজন

বিশ্লেষকরা বলছেন, আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো মায়ানমারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত। এক শিবির নির্বাচনের ফলাফলকে গ্রহণ করে আগাতে চায়। তারা মনে করে, ভোটের ফলাফলের সত্যতা বা নাগরিক সমর্থনের মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং একটি “যৌক্তিক প্রক্রিয়া” ও সামরিক-নাগরিক মিশ্র সরকারের দিকে অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় শিবিরের দেশগুলো উদ্বিগ্ন যে স্বীকৃতি দেওয়া হলে সামরিক সরকারের পদক্ষেপ ও হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রাহ্য করা হবে। এই শিবির মানবাধিকার ও ন্যায়ের ওপর জোর দিয়ে আসিয়ানের অবস্থান স্থির রাখতে চায়। তৃতীয় শিবির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও নীরবে মায়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ASEAN does not recognize Myanmar's elections, which military-backed party  claims to have won #ASEAN #Myanmar https://www.newdelhitimes.com/asean-does- not-recognize-myanmars-elections-which-military-backed-party-claims-to -have-won/

ফিলিপাইনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ

ফিলিপাইন সম্প্রতি আসিয়ানের চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করার পর মায়ানমারকে শান্তির পথে ফেরানোর চেষ্টা করছে। তবে তাদের পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্লেষকরা বিভ্রান্ত। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব মায়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে গোপন বৈঠক করেন এবং বলে দেন, “ফিলিপাইনরা এই মুহূর্তে নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না।” এটি বিশ্লেষকদের মতে একটি স্পষ্ট সংকেত যে আসিয়ান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। ফিলিপাইন আশা করছে, এই চেয়ারম্যানশিপের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি ও সমঝোতার ভূমিকা প্রমাণ করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে জাতিসংঘের অস্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

মায়ানমারের ভোট ও মানবাধিকার পরিস্থিতি

মায়ানমারের সামরিক-সমর্থিত দল ভোটে বড় জয় লাভ করলেও নির্বাচনকে নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। ভোট ছিল অসম্পূর্ণ এবং বহু অংশগ্রহণকারী দল ও নাগরিক ভোট দিতে পারেনি। এছাড়া ভোট চলাকালীন গৃহযুদ্ধ এবং সহিংসতা নিয়মিতভাবে ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বাচনের ফলাফলকে ন্যায্য ও স্বচ্ছ হিসেবে দেখছে না এবং এটিকে “অধিকার হরণ” এবং “মানবাধিকার লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করছে।

Thai foreign minister hopes Myanmar polls 'start of transition' to peace

আসিয়ানের Five-Point Consensus এবং ভবিষ্যত

আসিয়ান ২০২১ সালে মায়ানমারের জন্য পাঁচ দফার শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। পরিকল্পনায় সহিংসতা বন্ধ করা, সকল পক্ষের সংলাপ, বিশেষ দূত নিয়োগ এবং মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সামরিক সরকার এই পরিকল্পনার বেশিরভাগ শর্ত অমান্য করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই নির্বাচনের ফলাফল আসিয়ানকে মায়ানমারের প্রতি অবস্থান পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিতে পারে। তবে এতে সদস্য দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে একটি নতুন সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে।

To recognise or not? Behind ASEAN's lack of consensus on the Myanmar polls  | The Asian Age Online, Bangladesh

চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ

মায়ানমারের নির্বাচনের স্বীকৃতি নিয়ে আসিয়ানের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন বিরাজ করছে। কিছু দেশ প্রাথমিক নীতির প্রতি অটল থাকতে চায়, আবার কিছু দেশ বাস্তবতাকে গ্রহণ করে সামনে এগোতে চায়। এতে আসিয়ানের অবস্থান এখনও স্থির নয় এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে, মায়ানমারের সামরিক সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক, এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসিয়ান যদি সামরিক সরকারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি শিথিল করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামরিক সরকারই বিজয়ী হতে পারে এবং আসিয়ান কম কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিডিয়াকর্পের ২০২৬ বিশ্বকাপ সংগ্রহ: ‘জাতীয় সেবা’ নাকি ব্যবসায়িক কৌশল?

আসিয়ান কি মায়ানমারের নির্বাচন স্বীকৃতি দেবে? বিভাজন, রাজনৈতিক দ্বিধা ও ভবিষ্যতের অচেনা পথ

১১:০০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মায়ানমারের সামরিক সরকার কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচনের ফলাফলকে আসিয়ান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফিলিপাইনের সেবু শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও সদস্য দেশগুলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতা আসিয়ানের ঐক্যের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সামরিক সমর্থিত দল ভোটে বিজয়ী হলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচন হিসেবে দেখছেন না। ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত ছিল এবং চলমান গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি ভোটকে আরও বিতর্কিত করেছে।

আসিয়ানের বিভাজন

বিশ্লেষকরা বলছেন, আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো মায়ানমারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত। এক শিবির নির্বাচনের ফলাফলকে গ্রহণ করে আগাতে চায়। তারা মনে করে, ভোটের ফলাফলের সত্যতা বা নাগরিক সমর্থনের মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং একটি “যৌক্তিক প্রক্রিয়া” ও সামরিক-নাগরিক মিশ্র সরকারের দিকে অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় শিবিরের দেশগুলো উদ্বিগ্ন যে স্বীকৃতি দেওয়া হলে সামরিক সরকারের পদক্ষেপ ও হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রাহ্য করা হবে। এই শিবির মানবাধিকার ও ন্যায়ের ওপর জোর দিয়ে আসিয়ানের অবস্থান স্থির রাখতে চায়। তৃতীয় শিবির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও নীরবে মায়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ASEAN does not recognize Myanmar's elections, which military-backed party  claims to have won #ASEAN #Myanmar https://www.newdelhitimes.com/asean-does- not-recognize-myanmars-elections-which-military-backed-party-claims-to -have-won/

ফিলিপাইনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ

ফিলিপাইন সম্প্রতি আসিয়ানের চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করার পর মায়ানমারকে শান্তির পথে ফেরানোর চেষ্টা করছে। তবে তাদের পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্লেষকরা বিভ্রান্ত। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব মায়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে গোপন বৈঠক করেন এবং বলে দেন, “ফিলিপাইনরা এই মুহূর্তে নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না।” এটি বিশ্লেষকদের মতে একটি স্পষ্ট সংকেত যে আসিয়ান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। ফিলিপাইন আশা করছে, এই চেয়ারম্যানশিপের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি ও সমঝোতার ভূমিকা প্রমাণ করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে জাতিসংঘের অস্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

মায়ানমারের ভোট ও মানবাধিকার পরিস্থিতি

মায়ানমারের সামরিক-সমর্থিত দল ভোটে বড় জয় লাভ করলেও নির্বাচনকে নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। ভোট ছিল অসম্পূর্ণ এবং বহু অংশগ্রহণকারী দল ও নাগরিক ভোট দিতে পারেনি। এছাড়া ভোট চলাকালীন গৃহযুদ্ধ এবং সহিংসতা নিয়মিতভাবে ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বাচনের ফলাফলকে ন্যায্য ও স্বচ্ছ হিসেবে দেখছে না এবং এটিকে “অধিকার হরণ” এবং “মানবাধিকার লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করছে।

Thai foreign minister hopes Myanmar polls 'start of transition' to peace

আসিয়ানের Five-Point Consensus এবং ভবিষ্যত

আসিয়ান ২০২১ সালে মায়ানমারের জন্য পাঁচ দফার শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। পরিকল্পনায় সহিংসতা বন্ধ করা, সকল পক্ষের সংলাপ, বিশেষ দূত নিয়োগ এবং মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সামরিক সরকার এই পরিকল্পনার বেশিরভাগ শর্ত অমান্য করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই নির্বাচনের ফলাফল আসিয়ানকে মায়ানমারের প্রতি অবস্থান পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিতে পারে। তবে এতে সদস্য দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে একটি নতুন সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে।

To recognise or not? Behind ASEAN's lack of consensus on the Myanmar polls  | The Asian Age Online, Bangladesh

চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ

মায়ানমারের নির্বাচনের স্বীকৃতি নিয়ে আসিয়ানের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন বিরাজ করছে। কিছু দেশ প্রাথমিক নীতির প্রতি অটল থাকতে চায়, আবার কিছু দেশ বাস্তবতাকে গ্রহণ করে সামনে এগোতে চায়। এতে আসিয়ানের অবস্থান এখনও স্থির নয় এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে, মায়ানমারের সামরিক সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক, এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসিয়ান যদি সামরিক সরকারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি শিথিল করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামরিক সরকারই বিজয়ী হতে পারে এবং আসিয়ান কম কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।