— সিঙ্গাপুর সরকারের বাজেট ২০২৬ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং জানান, দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে একটি প্রধান প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কঠোরভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকার কর ছাড়, অনুদান ও প্রিমিয়াম এআই টুলসের ফ্রি সাবস্ক্রিপশনের মতো সুযোগ দিয়ে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই গ্রহণে উৎসাহিত করছে।
জাতীয় সহায়তা বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ীরা এআই কাজে লাগিয়ে আরও স্মার্টভাবে কাজ করতে ও উন্নত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে বলে তিনি জানান। আগামী সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা হবে।

এআই কি, এবং স্বয়ংক্রিয়করণের পার্থক্য
অনেকে “অটোমেশন” বা স্বয়ংক্রিয়করণ ও এআই–কে একই অর্থে ব্যবহার করেন, তবে বাস্তবে এগুলো আলাদা। স্বয়ংক্রিয়করণ হলো প্রযুক্তি বা প্রোগ্রাম ব্যবহার করে ইনভয়েস তৈরি, ইনভেন্টরি আপডেটের মতো কাজগুলো পূর্বনির্ধারিত নিয়মে কম মানুষের হস্তক্ষেপে করা। অন্যদিকে এআই এমন একটি বিজ্ঞান শাখা যা ডেটার প্যাটার্ন থেকে শেখে এবং আরও জটিল কাজ, যেমন পণ্য সুপারিশ বা সময়ের সঙ্গে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। আধুনিক জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীকে স্বাভাবিক ভাষায় নির্দেশ দিলে ছবি, ভিডিও বা কনটেন্ট তৈরিও করতে পারে।
ক্লাউডেরিয়ার এশিয়া-প্যাসিফিক ও জাপানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রেমাস লিমের মতে, প্রথমে স্বয়ংক্রিয়করণ করে মানুষিক কাজগুলি কমিয়ে আনতে হবে, তারপর এআই যোগ করলে তা ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা ও প্রসঙ্গ যোগ করবে।
এআই চালু করতে কী কী প্রস্ততি দরকার
প্রথমত, কোন ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধান করতে চান তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে, যেমন মানুষের হাত দিয়ে ডেটা এন্ট্রি বা ইনভেন্টরি মনিটরিংয়ের ভুল-ত্রুটি। এরপর একটি ডেটা অডিট করতে হবে যাতে ডেটা সঠিক, সম্পূর্ণ ও নিরাপদ থাকে। এআই কার্যকারিতা মূলত ব্যবহৃত ডেটার গুণমানের উপর নির্ভর করে। ডেটা এমনভাবে সাজানো থাকতে হবে যাতে তা সহজে পঠনযোগ্য, যেমন স্ট্যান্ডার্ডাইজড ফিল্ড, টেবিল বা স্প্রেডশিটে।

এআইতে সাধারন বিনিয়োগ কত
ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এআই টুলস ব্যবহার করতে পারে, তার জন্য খরচ সাধারণভাবে ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ডলারের মধ্যে ধরা হয়েছে। এই খরচ অন্তর্ভুক্ত শুধুমাত্র প্রাথমিক প্রযুক্তি সেটআপ এবং এআই টুলসের ব্যবহার। ১০০,০০০ থেকে ২০০,০০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করলে প্রতিষ্ঠানগুলো predictive maintenance বা অগ্রিম রক্ষণাবেক্ষণ, ইনভেন্টরি অপটিমাইজেশনের মত সমাধান নিতে পারে।
ব্যয় কমাতে অনুদান ও সরকারি উদ্যোগ
স্থানীয় সংস্থাগুলো বিদ্যমান বিভিন্ন অনুদান প্যাকেজ ব্যবহার করতে পারে। যেমন এন্টারপ্রাইজ কম্পিউট ইনিশিয়েটিভ (ইসিআই) অধীনে সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ খরচের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সাহায্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ক্লাউড সার্ভিস পার্টনাররা ক্লাউড ক্রেডিট, প্রশিক্ষণ ও এআই টুলস প্রদান করবে। এছাড়া “এসএমইস গো ডিজিটাল” উদ্যোগের অধীনে অনুমোদিত জেনারেটিভ এআই টুলস ব্যবহারে ৫০ শতাংশ অনুদানও পাওয়া যাবে।

ছোট কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ
রেমাস লিম বলেন, সহজ প্রকল্প যেমন কর্মচারীদের তথ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করা, গ্রাহক কথোপকথনের স্বয়ংক্রিয় সারাংশ তৈরি, অস্বাভাবিকতা শনাক্তকরণ, এবং পূর্বাভাস সতর্কতা গড়ে তোলা—এসব দ্রুত ফল দিতে পারে। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য মানুষকে প্রতিস্থাপন করা নয়, বরং পুনরাবৃত্তি কাজ কমিয়ে এমন পরিস্থিতিতে যেখানে মানুষিক সহানুভূতি ও বিচার প্রয়োজন, সেখানে মূল্যবান সময় দেয়।”
এআই কেবল নতুন প্রযুক্তি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং ডেটা সংগঠিত ও শাসিত করে এমন একটি ভিত্তি তৈরি করা যাতে তা বিশ্লেষণ, মেশিন লার্নিং ও কার্যকর অ্যাপ্লিকেশনকে সহায়তা করে। এআই তখন পূর্বের বিনিয়োগের উপর একটি গুণক হিসেবে কাজ করবে।
এআইকে ব্যবসার কেন্দ্রীয় অংশ কীভাবে করা যায়
একটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এআই গ্রহণ সম্পর্কিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, সফল ব্যবসাগুলো এআইকে কেবল বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে না দেখে তাদের কাজের প্রতিটি পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেমন, শুধু গ্রাহক সেবায় একটি সাধারণ চ্যাটবট ব্যবহার না করে, একটি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান তার সমস্ত যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যন্ত্রাংশ অর্ডার করে—এসব কাজগুলোতে এআই সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















