ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—একজন সংসদ সদস্য কি দুবার শপথ নিতে পারেন? পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন, আমাদের দেশে রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে মিছিল, অবরোধ ও রাজপথকেন্দ্রিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। নির্বাচনের পর বিজয়ী দল সরকার গঠন করে আর বিরোধী দল নেমে যায় আন্দোলনে। কিন্তু ছায়া মন্ত্রিসভা সঠিকভাবে কার্যকর হলে এই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এমপিদের দুবার শপথের প্রশ্ন
বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য একবারই শপথ নেন। একই মেয়াদে বা একই দায়িত্বে পুনরায় শপথ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। ফলে সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে যেকোনো বিভ্রান্তি সাংবিধানিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী
সরকারে যেমন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে মন্ত্রী থাকেন, ঠিক তেমনি বিরোধী দলও প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী মনোনীত করতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত, ব্যর্থতা বা নীতিগত দুর্বলতা তুলে ধরা এবং বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া তাদের প্রধান কাজ।
এটি সরকার পরিচালনার অংশ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক কাঠামো যা বিরোধী দলকে নীতিগতভাবে প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করে।
ছায়া মন্ত্রীরা কি সরকারি সুবিধা পান
ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরকার থেকে কোনো বেতন, গাড়ি বা বিশেষ সুবিধা পান না। এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব। তবে জনগণের সামনে নিজেদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি প্রমাণের এটি একটি বড় সুযোগ।

কেন প্রয়োজন ছায়া মন্ত্রিসভা
যখন কোনো মন্ত্রী জানেন যে তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করার জন্য বিপরীতে একজন দক্ষ ও প্রস্তুত প্রতিপক্ষ রয়েছেন, তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। এতে রাজপথকেন্দ্রিক পেশিশক্তির রাজনীতির বদলে নীতিনির্ভর রাজনীতি গড়ে উঠতে পারে।
একজন কার্যকর ছায়া মন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর জ্ঞান, গবেষণার দক্ষতা এবং তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা থাকতে হয়। এতে রাজনীতিতে স্লোগান বা শক্তি প্রদর্শনের বদলে ধারণা ও পরিকল্পনার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।
নীতিনির্ভর রাজনীতির পথে
বর্তমানে অনেক সময় রাজনৈতিক শক্তির পরিমাপ হয় জনসমাবেশের আকার দিয়ে। কিন্তু ছায়া মন্ত্রিসভা সক্রিয় হলে যোগ্যতা, নীতি বিশ্লেষণ এবং বাস্তবসম্মত প্রস্তাবই হয়ে উঠবে মূল মাপকাঠি। এতে জনগণও বুঝতে পারবেন কার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত এবং কার কাছে উন্নত বিকল্প আছে।
তবে এটি তখনই সফল হবে, যখন ছায়া মন্ত্রীরা কেবল সমালোচনার জন্য সমালোচনা না করে তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক প্রস্তাব দেবেন। শুধুমাত্র নামমাত্র পদ বা আলোচনায় উপস্থিত থাকার জন্য নয়, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এই কাঠামো কার্যকর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















