গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় ফের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
নেপালে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়েছে। কেপি শর্মা অলি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল)-এর নেতা। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ। গত বছরের আন্দোলনের পর বালেন্দ্র তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারে তার নামও সুপারিশ করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।
নির্বাচনী প্রচারে অলি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন। তিনি এবারের নির্বাচনকে ‘যারা দেশ পোড়ায় এবং দেশ গড়ে তাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখছেন।
পূর্বাঞ্চলের ঝাপা-৫ আসন নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উঠেছে। এখানে মোট ভোটার এক লাখ ৬৩ হাজার। শহর ও গ্রাম মিলিয়ে গড়ে ওঠা এই আসনে অলির ভোটব্যাংক শক্তিশালী। ৬৬ বছর বয়সী হিমা কারকি বলেন, ‘কেপি অলি এই জাতির জন্য অপরিহার্য। তিনি দেশের ত্রাণকর্তা এবং এখান থেকে তার জয় সুনিশ্চিত।’
তবে সকলের মধ্যে সমান সমর্থন নেই। ঝাপার ৩৩ বছর বয়সী বাসিন্দা ছবি খাতিওয়াদা এক সময় অলির সমর্থক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বালেন্দ্র শাহকে সমর্থন করছেন। তিনি বলেন, ‘কেবল তরুণরাই পরিবর্তন আনতে পারে। এখন আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া এবং নতুন নেপালের জন্য কাজ করার সময় এসেছে।’
নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। বাকি ১১০টি আসন নির্ধারিত হবে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে। ১৬৫টি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ প্রার্থী, যার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে।
গত সেপ্টেম্বরের জেনজি আন্দোলনে নেপালে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুশিলা কারকি। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















