ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড অতিক্রম করে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের মাইলফলক স্পর্শের দিনেই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, মোদি একদিকে নেহরুর উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে তুলছেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জয়রাম রমেশ স্বাধীন ভারতের প্রথম পাঁচ বছরে নেহরুর নেতৃত্বে অর্জিত বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনাও করেন।
স্বাধীন ভারতের ভিত্তি নির্মাণের দাবি
জয়রাম রমেশ বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট নেহরু ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেন। তাঁর দাবি, পরবর্তী পাঁচ বছরে আধুনিক ভারতের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময়ের মধ্যে ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে শান্তিপূর্ণভাবে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত করা হয়। পাশাপাশি সংবিধান প্রণয়ন ও গ্রহণ, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তি, তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু, বৃহৎ সেচ ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা এবং পারমাণবিক শক্তিসহ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান
কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, নেহরুর আমলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভারতের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রায় ১৭ কোটি ভোটারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল, যা বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
নেহরুর পাশাপাশি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, ড. ভীমরাও আম্বেদকর, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, সি. রাজাগোপালাচারী এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদের মতো নেতাদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রমেশের অভিযোগ, মোদি সরকার এই ঐতিহাসিক অবদানগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
গণতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নে সমালোচনা
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে জয়রাম রমেশ বলেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে চাপে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকার মতো ব্যবস্থাও এখন হুমকির মুখে।
তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্র নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া বেসরকারিকরণসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তুলনা
জয়রাম রমেশ নেহরু ও মোদির নির্বাচনী সাফল্যেরও তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেহরু ১৯৫২, ১৯৫৭ এবং ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্পষ্ট জনসমর্থন পেয়েছিলেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি এবং সরকার গঠনে জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ফলাফলকে মোদির ব্যক্তিগত ম্যান্ডেট হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।
রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র
মোদির দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রীত্বের মাইলফলককে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি এই অর্জনকে জনগণের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো নেহরু যুগের অর্জনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তুলনা টেনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
#নরেন্দ্র_মোদি #জওহরলাল_নেহরু #জয়রাম_রমেশ #ভারতীয়_রাজনীতি #কংগ্রেস #বিজেপি #লোকসভা_নির্বাচন #ভারত #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















