ইরানের ইতিহাসে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। শাহ মোহাম্মদ রেজা পেহলভির শাসন পতনের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সাথে সাথে নারীদের জীবনেও এসেছে বড় বদল। বিপ্লবের পূর্বে ইরানি নারীরা বেশ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করত, হিজাব পরা ছিল ব্যক্তিগত পছন্দ; বিপ্লবের পরই বাধ্যতামূলক হিজাব ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা নারীর জীবনে প্রচুর সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।
ইসলামী বিপ্লবের ঠিক এক মাসের মধ্যে খোমেইনি ঘোষণা করেন যে সব নারীর কর্মকাণ্ডে হিজাব বাধ্যতামূলক হবে। সেই নির্দেশই পরে ইরানের সমাজে নারীর স্বাধীনতার আকাশ কেটে দেয় এবং বাধ্যতামূলক পোশাকের নিয়মে পুলিশের সহিংসতার অভিযোগও ওঠে।
সময় গড়িয়ে চলতে থাকে এবং ইরানের সমাজে নারীর অবস্থানের প্রতিটি দিকেই সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়। নারীরা হিজাব ছাড়া রাস্তায় বের হলে তাদের ওপর হেনস্থা, জেলের শাস্তি এমনকি সমাজের নানা স্তর থেকে বৈষম্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের নারীরা বাধ্যতামূলক হিজাব আর কঠোর নৈতিকতা পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন, বিশেষ করে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে এই আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। অনেক নারী রাস্তায় হিজাব খুলে রেখে প্রতিবাদ করছেন এবং নিজেদের স্বাধীনতার দাবি তুলছেন। এই প্রতিবাদ ইরান সমাজের ভিতরবর্তী সংস্কারের প্রতিফলন, যেখানে এক প্রজন্ম বাইরে থেকে বিশ্বসংস্কৃতি গ্রহণ করেছে এবং নিজস্ব অধিকার ও মত প্রকাশের অধিকারের জন্য অভিযান করছে।
ইরানের যুব সমাজের অনেকেই এই আন্দোলনকে শুধু পোশাকের দাবি হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি নারীর অধিকারের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সমাজে চলমান এই পরিবর্তন ইরানের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। আজ ইরানের রাস্তায় দাঁড়িয়ে একরাশ স্বপ্ন আর সংগ্রাম, যা একসময় শুধুই ব্যক্তিগতভাবে শুরু হয়েছিল, তা এখন সমগ্র জাতির স্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















