০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বায়োহ্যাকিং: আজকের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ট্রেন্ড কারা অনুসরণ করছে? টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে – ট্রাম্প প্রথমবারের মতো প্রাণীর টিকাকার্ড চালুর প্রস্তাব, স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১২৮

দালালের ফাঁদে সৌদি গিয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আকলিমা, দেশে ফেরানোর দাবি পরিবারের

সৌদিতে গৃহবধূর যন্ত্রণার গল্প

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী গৃহবধূ আকলিমা খাতুন স্থানীয় দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে গিয়ে চরম নির্যাতনের মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নম্বর A18462948।


ভিসার আড়ালে অর্থের লোভ ও প্রতারণা

পরিবারের কাছে জানা যায়, চরম আর্থিক সংকটকে সুযোগ করে নিয়ে স্থানীয় দালাল জহির মিয়া আকলিমাকে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি পাঠান। ঢাকার বনানীতে অবস্থিত রিক্রুটিং এজেন্সি আবির ব্রাদার্সের মাধ্যমে তাকে রিয়াদে নেওয়া হয়। এরপর দালাল বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং দেশে ফিরিয়ে আনার নামে দুই লাখ টাকা দাবি করে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেল করছেন।

নির্যাতন ও মানবিক সংকট

আকলিমা খাতুন ফোনে জানান, গত এক মাস ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “আমার অবস্থা খুব খারাপ, মনে হচ্ছে আমি বাঁচবো না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেই এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে তারা কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না।

প্রথমে তিনি রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় বর্তমানে তিনি সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে অবস্থান করছেন। তবুও অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়েও গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। একটি অডিও বার্তায় তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন।

পরিবারের আহ্বান ও স্বামীর দুঃখ

ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, “দালালের কথা বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন স্ত্রী চরম বিপদে। সরকার যেন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনে—এই দাবি জানাই।”


প্রতিবাদ ও কর্তৃপক্ষের মন্তব্য

আবির ব্রাদার্সের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সে ভালো লাগেনা বলেই দেশে আসতে চাচ্ছে। এখানে আমার কোনো দোষ নেই। এজেন্সির দোষ থাকলে সেটা তাদের। এম্বাসির দায়িত্ব তার খোঁজ রাখা।”

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ড-এর সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বায়োহ্যাকিং: আজকের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ট্রেন্ড কারা অনুসরণ করছে?

দালালের ফাঁদে সৌদি গিয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আকলিমা, দেশে ফেরানোর দাবি পরিবারের

০৮:৪২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদিতে গৃহবধূর যন্ত্রণার গল্প

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী গৃহবধূ আকলিমা খাতুন স্থানীয় দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে গিয়ে চরম নির্যাতনের মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নম্বর A18462948।


ভিসার আড়ালে অর্থের লোভ ও প্রতারণা

পরিবারের কাছে জানা যায়, চরম আর্থিক সংকটকে সুযোগ করে নিয়ে স্থানীয় দালাল জহির মিয়া আকলিমাকে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি পাঠান। ঢাকার বনানীতে অবস্থিত রিক্রুটিং এজেন্সি আবির ব্রাদার্সের মাধ্যমে তাকে রিয়াদে নেওয়া হয়। এরপর দালাল বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং দেশে ফিরিয়ে আনার নামে দুই লাখ টাকা দাবি করে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেল করছেন।

নির্যাতন ও মানবিক সংকট

আকলিমা খাতুন ফোনে জানান, গত এক মাস ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “আমার অবস্থা খুব খারাপ, মনে হচ্ছে আমি বাঁচবো না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেই এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে তারা কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না।

প্রথমে তিনি রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় বর্তমানে তিনি সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে অবস্থান করছেন। তবুও অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়েও গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। একটি অডিও বার্তায় তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন।

পরিবারের আহ্বান ও স্বামীর দুঃখ

ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, “দালালের কথা বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন স্ত্রী চরম বিপদে। সরকার যেন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনে—এই দাবি জানাই।”


প্রতিবাদ ও কর্তৃপক্ষের মন্তব্য

আবির ব্রাদার্সের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সে ভালো লাগেনা বলেই দেশে আসতে চাচ্ছে। এখানে আমার কোনো দোষ নেই। এজেন্সির দোষ থাকলে সেটা তাদের। এম্বাসির দায়িত্ব তার খোঁজ রাখা।”

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ড-এর সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।