নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় গভীর ড্রেন নির্মাণকাজের ফলে রোজার মাসে নগরবাসীর সড়ক চলাচলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। বঙ্গবন্ধু সড়কসহ চাষাঢ়া, জামতলা, মাসদাইর, গলাচিপা, নন্দীপাড়া, আমলাপাড়া, বালুর মাঠ ও গোয়ালপাড়া এলাকায় দিনভর ধুলা ও যানজটের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নগরীর পুরনো ফুটপাত ও সড়ক দখলদারির সমস্যা সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই ভোগান্তি বেড়েছে।
ড্রেন প্রকল্প ও চলমান কাজ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে আরসিসি গভীর ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়ন করা দুটি প্রকল্পে চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক মেয়াদ অনুযায়ী একটির শেষ হবে জুন ২০২৫, অন্যটির ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। তবে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রকল্প শেষ করতে চার মাসের বেশি সময় লাগবে। ড্রেনের প্রস্থ চার ফুট এবং গভীরতা গড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ফুট হবে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সড়কের আশপাশের শাখা সড়কেও টার্শিয়াল ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।

নগরবাসীর অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ
গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা তৌহিদ পারভেজ সাগর জানান, বঙ্গবন্ধু সড়কের কিছু অংশের বক্স নির্মাণ শেষ হলেও উপরের স্ল্যাব নির্মাণ হয়নি। বাঁশের মুলি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পথ তৈরি হলেও ঝুঁকিপূর্ণ। মাসদাইর এলাকার আকতারুজ্জামান বলেন, মেয়ের স্কুল যাওয়ার জন্য রিকশা ব্যবহার করতে না পারায় দৈনন্দিন চলাচল দুর্ভোগের। ড্রেন থেকে তোলা ময়লা ও অসম্পূর্ণ কাজ নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করছে।
শিক্ষক উম্মে লায়লা বলেন, ধুলা ও যানজটের কারণে মেয়েদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তানজিলা শামস্ ও নাগরিক আন্দোলন নেতা রফিউর রাব্বি অসংগঠিত কাজের কারণে সড়কে চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

প্রকৌশলীদের ব্যাখ্যা
সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হেসেন বলেন, পশ্চিম পাশের পানি কালিয়ানী বিল দিয়ে ধলেশ্বরীতে গিয়ে পড়ত, পূর্ব পাশের পানি শীতলক্ষ্যা নদীতে। অবৈধ দখলের কারণে পানি নির্দিষ্ট পথ ধরে যেতে পারছে না। তাই নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এই ড্রেন নির্মাণ জরুরি। বালুর মাঠ ও গলাচিপা মোড়ের কাজ দুই-এক দিনের মধ্যে শেষ করে রাস্তা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। মাসদাইর বাজার থেকে গলাচিপা পর্যন্ত ড্রেন কাজ শেষ হতে দুই মাস লাগবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















