উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামে নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েই চলেছে। দশকের পর দশক ধরে নদী ভাঙন ও বেকারিত্বে ধুঁকছে জেলা, এবার তারা চাইছেন দৃশ্যমান এবং স্থায়ী সমাধান। ভারত সীমান্তবর্তী এই জেলা নদীমাতৃক এলাকা হওয়ায়, প্রায়শই মানুষ ঘরবাড়ি, চাষাবাদ, স্কুল এবং সড়ক হারিয়ে যায়। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ ১৬টির বেশি নদী প্রতিবার বন্যার মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ায়, আর স্থানীয়রা বারবার স্থানান্তরিত হয়।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, অস্থায়ী বাঁধ ও খণ্ডকালীন প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যা মেটানো সম্ভব হয়নি। তারা চাচ্ছেন বৈজ্ঞানিক ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নিয়মিত খনন কার্যক্রম। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বালদী পাড়ার শাজাহান আলী বলেন, “প্রতি বছর নদী ভাঙন আমাদের জীবন ধ্বংস করে। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।”

নদী ভাঙনের পাশাপাশি বেকারত্ব কুড়িগ্রামের সবচেয়ে বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জেলা শিল্প-উদ্যোগের অভাবে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুবকরা ঢাকায়, গাজীপুরে ও চট্টগ্রামে কাজের সন্ধানে চলে যান, পরিবার ছেড়ে। ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চর বড়াইবাড়ীর রাজু মিয়া বলেন, “এখানে কাজ নেই। আমরা চাই নিজেদের জেলাতেই কাজ হোক।”
স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকর্তারা মনে করেন, সরকার যদি কুড়িগ্রামকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রাধিকার দেয়, পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। তারা কৃষি ভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় সমর্থন বাড়ানোর সঙ্গে যুবকেদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম চালুর আহ্বান জানাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট খাজা শরীফ উদ্দিন আলী আহমেদ রিন্টু বলেন, প্রায় ২৩ লাখের মধ্যে ১৬.৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। তিনি বলেন, “নদী ভাঙন ও দীর্ঘদিনের ত্রুটি বহু মানুষকে বাড়ি ও জীবিকা থেকে বঞ্চিত করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে দারিদ্র্য হ্রাস করা কঠিন।”

স্থানীয় চর উন্নয়ন সংগঠন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের জন্য নদী ভাঙন রোধ, চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সমাধান।”
কুড়িগ্রামের মানুষ নতুন সরকারের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন: কাগজের পরিকল্পনা নয়, বাস্তব কর্মই চাই। নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণ ও চাকরি সৃষ্টির মাধ্যমে কুড়িগ্রাম নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে পারে। স্থানীয় প্রবীণরা বলেন, “মানুষ মর্যাদা, আশা এবং স্থিতিশীল জীবন সহ বসবাস করতে পারবে।” নতুন প্রশাসনের পদক্ষেপে এখন কুড়িগ্রামের ভবিষ্যৎ ঝুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















