ভোরের কুয়াশা তখনও ঢাকা শহরের আকাশে ভেসে উঠছে, কিন্তু শহরের রাস্তায় already জমে উঠেছে রমজানের প্রথম দিনের ব্যস্ততা। মসজিদ প্রাঙ্গণে ভোর নামাজের জন্য মুসল্লিদের পদচারণা যেন আকাশে নতুন আলোর রেখা আঁকছে। প্রতিটি মুখে রয়েছে ঈমান ও আনন্দের ছাপ, আর শিশুরা পায়ে পায়ে ছুটে বেড়াচ্ছে, যেন প্রথম রোজার আনন্দের মধুর স্পন্দন ধরতে চায়।
ভোরের নামাজে মিলনের মুহূর্ত
ঢাকার প্রধান মসজিদগুলোতে ভোর ৪টার পর থেকেই মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবারসহ অনেকেই একসাথে নামাজে অংশগ্রহণ করছে, কেউ চুপচাপ কোরআনের তেলাওয়াত করছেন, কেউবা দোয়ায় মনোযোগী। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে, রমজানের মাসে শান্তি ও সমৃদ্ধির দোয়া করছে। কিছু পরিবার মসজিদ প্রাঙ্গণে বসে ইফতার বা সেহরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, আর তাদের চোখে ফুটে উঠছে প্রথম রোজার উত্তেজনা ও আনন্দ।
বাজারে উৎসবমুখর ব্যস্ততা
শহরের বাজারগুলোতে রমজানের রঙ তীব্র। খেজুর, মিষ্টি, ফল ও ইফতারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়দের জন্য সেহরি ও ইফতার সামগ্রী নিয়ে সবাই ব্যস্ত। দোকানিরা জানাচ্ছেন, এই প্রথম দিনটি বছরের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও ব্যস্ত দিনগুলোর মধ্যে একটি।
সামাজিক সহমর্মিতা ও শিশুদের আনন্দ
নগরীর কিছু স্থানে শিশু-কিশোররা রমজান সংক্রান্ত গান, নাটক ও ছোট অনুষ্ঠান উপস্থাপন করছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো প্রান্তিক মানুষদের ইফতার বিতরণ করছে। এই মিলনময় পরিবেশে ধর্মীয় আনন্দের সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার ছোঁয়াও মিশে গেছে।
রমজানের প্রথম দিন ঢাকার প্রতিটি গলি, প্রতিটি মসজিদ প্রাঙ্গণে ছড়িয়েছে আনন্দ, আশা ও উদ্দীপনার আলো। এটি শুধু ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার মাস নয়, বরং মানুষের মধ্যে সংহতি ও একাত্মতার বার্তাও বহন করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















