০৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু ইউক্রেনের ‘ভ্যাম্পায়ার’ ড্রোন: কখন মৃত্যুর দূত, কখন সামনের সারিতে খাবার পৌঁছে দেয় জেসি জ্যাকসনের মৃত্যু: নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বজ্রকণ্ঠের অবসান রমজানে ৯০ হাজার কোরআন বিতরণ ঘোষণা, ধর্মচেতনা ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে উদ্যোগ রমজান উদযাপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশাল উদ্যোগ: ৬৬ নতুন মসজিদ, ২০ জন পণ্ডিত ও ১২,৫০০ গাছের চারা ইরানে নিহতদের ৪০ দিনের স্মরণে সরকারিভাবে দমনতন্ত্র, জনআন্দোলনে উত্তেজনা নেতানিয়াহুর নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কি ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে দক্ষিণ এশিয়ানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের উত্থান রোজার দিনে গলার ভেতরে পানি ঢুকলে কি রোজা ভাঙে? ঢাকার রমজানের প্রথম দিনে আনন্দ ও আধ্যাত্মিকতা

ইরানে নিহতদের ৪০ দিনের স্মরণে সরকারিভাবে দমনতন্ত্র, জনআন্দোলনে উত্তেজনা

ইরানে তীব্র সরকারি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকে মাইল ফলক স্মরণসভা ও প্রতিবাদ জ্বলে উঠেছে। এই স্মরণসভা সরকার নিয়ন্ত্রন ও বিরোধীদের নতুন প্রতিবাদের সুযোগ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে জনস্মরণ শুরু হয়েছে যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন শহরে টহল দেয়ার ভিডিও সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে দেখা গেছে এবং নির্যাতন থেকে বাঁচতে মানুষ ছাদে উঠে সরকারের বিরুদ্ধে ধ্বনি করেছে। নিহত প্রতিবাদকারীদের ৪০ দিন পর স্মরণ আজ ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করছে।

স্মরণে নতুন ধারা
ইরানে ৪০ দিনের শোক পালন একটি সমগ্র সমাজের সাংস্কৃতিক অংশ। ধীরে ধীরে এই শোক আয়োজন ধর্মীয় রীতি থেকে রাজনৈতিক প্রতিবাদে পরিণত হচ্ছে। অনেক পরিবার পুরোনো ধর্মীয় মেজাজ ছাড়িয়ে এই স্মরণকে উৎসবের মতো রূপ দিচ্ছে যেখানে গানেরডাক আর সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ হচ্ছে।

সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও পরিবারগুলোর প্রতিবাদ
স্মরণ সভা শুরুর আগেই নিরাপত্তা বাহিনী কিছু পরিবারকে জনসমক্ষে শোক পালনে বাধা দিয়েছে। তেহরান ও উত্তরাঞ্চলের মাশহাদে সরকার নিজ উদ্যোগে স্মরণসভা আয়োজনের ঘোষণা দিলেও অনেক পরিবার তা করতে পারেনি। অনেককেই নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিরাপত্তার কারণে স্মরণে যেতে বাধা দিয়েছে। এতে পরিবারগুলো দূরবর্তী এলাকায় তাঁদের প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করছেন।

Iran's 40-Day Mourning Ceremonies Spark Renewed Protests

শিক্ষাঙ্গণ ও যুবসমাজের প্রতিরোধ
ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতেও বসতে চেষ্টা করেছে। শহরগুলোর ছাদের উপর থেকে অনেকেই সরকারের শীর্ষ নেতাদের পতনের জন্য ধ্বনি তুলেছে। ইরানের কিছু ছোট শহরে নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করতে দেখা গেছে আর কিছু স্থানে সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠেছে।

ইরানের আধুনিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন
ইরানের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ৪০ দিনের স্মরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একসময় এটি সামান্য ধর্মীয় রীতি ছিল, এখন তা সরকারের কঠোর দমন নীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যেমন ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ৪০ দিনের স্মরণ আন্দোলন নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিল। আজকেও এই স্মরণ নতুন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠছে।

শোক থেকে প্রতিবাদে রূপান্তর
নিহত প্রতিবাদকারীদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানাতে গাইতেও গান, নাচ আর সরকারের বিরুদ্ধে ধ্বনি উঠে দেখা গেছে। অনেক পরিবার ধর্মীয় কোরআনিক পাঠের পরিবর্তে দেশাত্মবোধক গান বাজাচ্ছে এবং তাঁদের প্রিয়জনদের জীবনকে উদযাপন করছেন। এই পরিবর্তন ইরানের জনগণের মনোভাব ও সরকারের প্রতি অসন্তোষের প্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু

ইরানে নিহতদের ৪০ দিনের স্মরণে সরকারিভাবে দমনতন্ত্র, জনআন্দোলনে উত্তেজনা

০৭:২২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানে তীব্র সরকারি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকে মাইল ফলক স্মরণসভা ও প্রতিবাদ জ্বলে উঠেছে। এই স্মরণসভা সরকার নিয়ন্ত্রন ও বিরোধীদের নতুন প্রতিবাদের সুযোগ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে জনস্মরণ শুরু হয়েছে যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন শহরে টহল দেয়ার ভিডিও সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে দেখা গেছে এবং নির্যাতন থেকে বাঁচতে মানুষ ছাদে উঠে সরকারের বিরুদ্ধে ধ্বনি করেছে। নিহত প্রতিবাদকারীদের ৪০ দিন পর স্মরণ আজ ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করছে।

স্মরণে নতুন ধারা
ইরানে ৪০ দিনের শোক পালন একটি সমগ্র সমাজের সাংস্কৃতিক অংশ। ধীরে ধীরে এই শোক আয়োজন ধর্মীয় রীতি থেকে রাজনৈতিক প্রতিবাদে পরিণত হচ্ছে। অনেক পরিবার পুরোনো ধর্মীয় মেজাজ ছাড়িয়ে এই স্মরণকে উৎসবের মতো রূপ দিচ্ছে যেখানে গানেরডাক আর সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ হচ্ছে।

সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও পরিবারগুলোর প্রতিবাদ
স্মরণ সভা শুরুর আগেই নিরাপত্তা বাহিনী কিছু পরিবারকে জনসমক্ষে শোক পালনে বাধা দিয়েছে। তেহরান ও উত্তরাঞ্চলের মাশহাদে সরকার নিজ উদ্যোগে স্মরণসভা আয়োজনের ঘোষণা দিলেও অনেক পরিবার তা করতে পারেনি। অনেককেই নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিরাপত্তার কারণে স্মরণে যেতে বাধা দিয়েছে। এতে পরিবারগুলো দূরবর্তী এলাকায় তাঁদের প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করছেন।

Iran's 40-Day Mourning Ceremonies Spark Renewed Protests

শিক্ষাঙ্গণ ও যুবসমাজের প্রতিরোধ
ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতেও বসতে চেষ্টা করেছে। শহরগুলোর ছাদের উপর থেকে অনেকেই সরকারের শীর্ষ নেতাদের পতনের জন্য ধ্বনি তুলেছে। ইরানের কিছু ছোট শহরে নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করতে দেখা গেছে আর কিছু স্থানে সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠেছে।

ইরানের আধুনিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন
ইরানের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ৪০ দিনের স্মরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একসময় এটি সামান্য ধর্মীয় রীতি ছিল, এখন তা সরকারের কঠোর দমন নীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যেমন ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ৪০ দিনের স্মরণ আন্দোলন নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিল। আজকেও এই স্মরণ নতুন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠছে।

শোক থেকে প্রতিবাদে রূপান্তর
নিহত প্রতিবাদকারীদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানাতে গাইতেও গান, নাচ আর সরকারের বিরুদ্ধে ধ্বনি উঠে দেখা গেছে। অনেক পরিবার ধর্মীয় কোরআনিক পাঠের পরিবর্তে দেশাত্মবোধক গান বাজাচ্ছে এবং তাঁদের প্রিয়জনদের জীবনকে উদযাপন করছেন। এই পরিবর্তন ইরানের জনগণের মনোভাব ও সরকারের প্রতি অসন্তোষের প্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।