সংযুক্ত আরব আমিরাত রমজান ২০২৬ উদযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে। সারাদেশে নতুন ৬৬টি মসজিদ নির্মাণ, ২০ জন আন্তর্জাতিক ইসলামি পণ্ডিত আমন্ত্রণ এবং ‘পরিবারের বছর’ উদ্যোগের অধীনে পারিবারিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক নানা কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট।
মসজিদ উন্নয়নের অগ্রাধিকার
জেনারেল অথরিটি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, এন্ডাউমেন্টস অ্যান্ড জাকাত-এর চেয়ারম্যান ড. ওমর হাবতুর আল দারেই বলেন, নতুন আবাসিক এলাকায় মসজিদ নির্মাণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে ভক্তরা সহজে প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। সাতটি এমিরেটের নামে নতুন মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে জাতীয় দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে।
পরিবেশ ও টেকসই উদ্যোগ
‘চলুন আমাদের মসজিদে গাছ লাগাই’ অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ২২৪টি মসজিদে প্রায় ১২,৫০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। ড. আল দারেই বলেন, এটি শুধু পরিবেশ রক্ষার অংশ নয়, একসাথে মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নেরও প্রতিফলন। তিনি তওয়াহীন প্রার্থনার সময় মিতব্যয়িতা বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইমামদের ভক্তদের সুবিধা, সদাচরণ, শান্তি বিস্তার ও এমিরাতি সমাজের মূল্যবোধ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তার
রমজানের প্রস্তুতিতে ২০ জন আন্তর্জাতিক পণ্ডিত অংশ নেবেন, যারা মিশর, ওমান, বাহরাইন, মরক্কো, মৌরিতানিয়া, জর্ডান, লেবানন, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত। অথরিটি তাদের প্রোগ্রাম সার্বিকভাবে সুপারভাইজ করবে। শিক্ষা কার্যক্রমে গত বছরে ২,৬০,০০০ শিক্ষামূলক পাঠ প্রদান করা হয়েছে। ‘বিল হিকমাহ’ প্রোগ্রামে রমজানের গুণ ও রোজার নৈতিকতা শেখানো হয়েছে। ইমাম ও খুৎবা প্রদানকারীদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়েছে।
পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যে গুরুত্ব
ড. আল দারেই বলেন, এই বছরের রমজান পরিকল্পনা পুরোপুরি পরিবারের প্রতি মনোযোগ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মসজিদ সম্প্রসারণ, পণ্ডিতদের যুক্তি, পরিবেশ সচেতনতা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও পারিবারিক সংহতির সংমিশ্রণ এই উদ্যোগের মূল অংশ। সমস্ত উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তি ও যোগ্য মানবসম্পদ ব্যবহৃত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















