পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আডিয়ালা কারাগারে বন্দী। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তার বন্দিত্ব এবং সম্প্রতি চোখের সংক্রমণ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জল্পনা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নিউজিল্যান্ডের বিশিষ্ট প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়করা তার স্বাস্থ্যের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের কাছে উন্নত চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছেন।
প্রাক্তন ক্রিকেট সহকর্মীদের উদ্বেগ
কাপিল দেব ও সুনীল গাভাস্কার ভারতের তরফ থেকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নাসির হুসেইন, অ্যাথারটন, ডেভিড গাওয়ার (ইংল্যান্ড), চ্যাপেল ব্রাদার্স, অ্যালান বর্ডার, স্টিভ ও, কিম হিউজ (অস্ট্রেলিয়া), ক্লাইভ লয়েড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) এবং জন রাইট (নিউজিল্যান্ড) প্রাক্তন অধিনায়করা যুক্তি দেখিয়েছেন। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একজন প্রাক্তন জাতীয় নেতা ও ক্রীড়া আইকন হিসেবে ইমরান খানকে সম্মান এবং মৌলিক মানবিক মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করা উচিত।” তারা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি, শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের দিকটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্য ও কারাগারের জীবন
৭৩ বছর বয়সী ইমরান, যিনি ক্রিকেট জীবনে নিজের ফিটনেসের জন্য পরিচিত ছিলেন, বর্তমানে কারাগারে বন্দী। সরকারের দাবি, তাকে যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে এবং চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবার ও দলের নেতারা চিকিৎসার দেরি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসককে তার কাছে পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।
রাজনীতি ও ফিটনেস
রাজনীতি ও কারাগারের জীবন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই মূল বিষয় হলো ফিটনেস। ফিটনেসের দিক থেকে ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে সুপরিচিত ছিলেন। যদিও রাজনৈতিক চাপের কারণে তিনি ক্রিকেট খেলা দেখার সময় কমিয়েছেন, বিশেষ করে পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ ব্যতীত। প্রাথমিকভাবে আন্তর্জাতিক ইভেন্টে তিনি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে নিজেই অংশগ্রহণ থেকে সরে এসেছিলেন।

রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও দলীয় পরিস্থিতি
ইমরান খান ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জেতা পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। তিনি পিটিআই গঠন করেন, যা বর্তমানে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে অন্যতম। আগস্ট ২০২৩ থেকে বিভিন্ন অভিযোগে তিনি কারাগারে। যদিও তার ফিটনেস এখনো অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষককে মুগ্ধ করে, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্টগুলো ইঙ্গিত দেয় যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন।
দলের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
কারাগারে থাকা অবস্থায় দলের পরিস্থিতি মোটেই সমন্বিত নয়। নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে বেশি লড়াই করছেন এবং কোনও কার্যকর আন্দোলন শুরু করতে পারেননি। এই অস্থিরতা ইমরান নিজেও চিন্তিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইমরান খান দীর্ঘ ‘ইনিং’-এর জন্য প্রস্তুত থাকলেও দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ।

ভবিষ্যৎ কৌশল ও অপেক্ষা
আডিয়ালা কারাগার থেকে যা খবর আসছে তা ‘সরকারি’ তথ্য হিসেবে গণ্য। অন্য দিকের খবর জানা কঠিন। তবে ক্রিকেটের বড় নামদের আবেদন ইমরানকে সুবিধা দিতে পারে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন আন্তর্জাতিক চাপের প্রভাব থাকে। তাই এখন অপেক্ষা-দেখার সময়, কিন্তু এক বিষয় নিশ্চিত যে বড় প্রাক্তন ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে সমর্থন তাঁর পক্ষে কিছুটা সুবিধা এনে দিতে পারে।
সারাংশে, স্বাস্থ্য ও দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলা যায়, ইমরান খান দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক এবং কারাগারের চ্যালেঞ্জের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে কতটা প্রস্তুত, তা এখনই পরীক্ষা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















