চলচ্চিত্র ও অভিনয়ের জগতে রব রেইনার ছিলেন এক অনন্য নক্ষত্র। ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই প্রখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক ২০২৫ সালে আমাদের ছেড়ে গেলেও তার সৃষ্টিশীলতা আজও কোটি মানুষের মনে বেঁচে আছে। বিশেষ করে ১৯৮৮ সালে “হ্যারি, দিস ইজ স্যালি” চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় হ্যারি কননিক জুনিয়রের সাথে তার স্মৃতি আজও অম্লান।

হ্যারি কননিক জুনিয়র মনে করেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টুডিয়োর বিশাল স্থানে প্রথম পিয়ানো বাজানোর মুহূর্তটি এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল। রেইনারের দৃষ্টিভঙ্গি এতটাই নিখুঁত ছিল যে প্রতিটি দৃশ্যের সঙ্গে সঙ্গীতের সুর যেন স্বাভাবিকভাবেই মিলিত হয়ে যেত। তিনি শুধু নির্দেশ দিতেন, কিন্তু সৃজনশীলতায় কোনো বাধা দেননি। কননিকের প্রতিটি নোট, প্রতিটি ছন্দ তার দিকনির্দেশনার সঙ্গে এক অদ্ভুত সামঞ্জস্যে মিলেছিল।
রব রেইনারের সঙ্গে কাজ করার সময় কননিক প্রথমে কেবল একটি গান (“ইট হ্যাড টু বি ইউ”) পরিবেশনের জন্য নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু চুক্তি সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে তিনি চলচ্চিত্রের সব গান বাজিয়েছেন এবং গেয়েছেন। তিনি বলেন, রেইনার এতটাই উদার এবং ধৈর্যশীল ছিলেন যে তিনি নিজের সৃজনশীলতা অনায়াসে প্রকাশ করতে পারতেন। বিশেষ করে “উইন্টার ওয়ান্ডারল্যান্ড” এবং “ইট হ্যাড টু বি ইউ” গানগুলোতে তার নিজস্ব শৈলী ও আবেগ প্রকাশ পেয়েছিল।
রব রেইনার ছিলেন নিখুঁত পরিকল্পনায় বিশ্বাসী, কিন্তু তাতেও সহানুভূতিশীল এবং দয়ালু। তিনি হ্যারি কননিককে শুধু প্রেরণা দেননি, বরং তার জীবনকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। তার শিক্ষার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, “যদি তুমি কিছু করতে চাও, নিজেই কর। অন্যকে দায়িত্ব দেওয়ার আশা কোরো না।” সত্যিই, রব রেইনার এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি সবার জন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















