ঢাকার প্রাচীন চকবাজার রমজানের প্রথম দিনে ইফতারি সামগ্রীর সুবাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই দোকানিরা নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন শুরু করেছেন। বাজারের বাতাসে মশলার তীব্র সুবাস মিশে ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে, শহরের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছে খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে।
চকবাজার অবস্থিত চকবাজার সার্কুলার রোডে। প্রায় চারশ বছরের ইতিহাসের এই বাজার রমজানে ইফতারি সামগ্রীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসেন চকবাজারের বিশেষ রেসিপি উপভোগ করতে।

বাজারে জনপ্রিয় ইফতারি আইটেমের মধ্যে রয়েছে মোরগ মুসল্লিম, চিকেন কাবাব, বটি কাবাব, টিকা কাবাব, কোফতা, চিকেন কাঠি, শাম্মি কাবাব, শিকার ভরী কাবাব, সুটকি কাবাব, বাটারড কুয়েল রোস্ট, পিজন রোস্ট, জিলাপি, শাহি জিলাপি, নিমকি, সমুচা, হালুয়া, হালিম, দই বোরা এবং পানীয় হিসেবে সৌদি লাবাং, কাশ্মীরি শরবত, ইরানি শরবতসহ প্রায় একশোর বেশি ধরনের খাবার।
ঐতিহাসিকভাবে চকবাজারকে ১৭০২ সালে ঢাকা রাজস্বদেবন মুরশিদ কুলি খান আধুনিক বাজারে রূপান্তর করেন। শাহী মসজিদের সামনে থাকা কুয়া বাজারের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিণত হয়, যেখানে টেবিল ও চেয়ারের ব্যবস্থা করে ইফতারি সামগ্রী বিক্রি শুরু করা হয়।

নাজির হোসেইনের বই ‘লেজেন্ডারি ঢাকা’ অনুযায়ী, ১৮৫৭ সালের মধ্যে এই বাজার রমজানে বিভিন্ন মোগলাই খাবার ও অন্যান্য ইফতারি সামগ্রীর জন্য পরিচিত হয়ে উঠেছিল।
আজও চকবাজার সংস্কৃতি ও খাবারের এক চিহ্ন হিসেবে পরিচিত, প্রতিদিন হাজারো মানুষ রমজানে ঐতিহ্যবাহী স্বাদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে এখানে ভিড় জমাচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















