০৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান, অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বর্ণ জিতিয়ে ইতিহাস গড়লেন আলিসা লিউ উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও অবস্থান নিয়ে কিমের প্রশংসা, পার্টি কংগ্রেসে পাঁচ বছরের রূপরেখা ভেনেজুয়েলায় সাধারণ ক্ষমা আইন পাস, মুক্তি পেতে পারেন শত শত বন্দি চীনের চাপে থাকা অর্থনীতিতে ভুয়া পরীক্ষার্থী চক্রে তোলপাড় শহীদ মিনারে ফুল ‍দিলেন জামায়াত আমির, বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া কোয়ান্টাম বিশৃঙ্খলাকে ‘স্লো মোশন’-এ আনল চীনা বিজ্ঞানীরা, তথ্য সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা ইন্দো-প্যাসিফিকে স্মার্টফোন খাতে ২০ কোটি ডলারের প্রণোদনা দিচ্ছে ওয়াশিংটন সমুদ্রের উত্তাল আগাম খবর: সমতাপর্বীয় ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাব বাড়ছে হংকং বাজেট ২০২৬-২৭: আর্থিক সমীকরণ ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিকরাগুয়ার শাসনব্যবস্থা কতদূর তলিয়ে যাচ্ছে

ট্রাম্পের ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট’ বাতিল: জলবায়ু নীতিতে বড় ধাক্কা, কতটা ঝুঁকিতে আমেরিকা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশটির জলবায়ু নীতির ভিত্তিই নড়বড়ে করে দিতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রণ শিথিলের পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংস্থা প্রধান Lee Zeldin। অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকানদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি ডেকে আনতে পারে।

কী ছিল ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট’ সিদ্ধান্ত

২০০৯ সালে Environmental Protection Agency বা ইপিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত দেয়। সেখানে বলা হয়, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও এইচএফসি সহ ছয় ধরনের গ্রিনহাউস গ্যাস মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য হুমকি। বহু বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়িয়েই যুক্তরাষ্ট্রে জলবায়ু সংক্রান্ত বহু ফেডারেল নিয়ম তৈরি হয়।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা আছে, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা ইপিএর বাধ্যবাধকতা। সেই আইনি ভিত্তিই এখন বাতিল করতে চাইছেন ট্রাম্প।

Environmental Defense Fund

নিয়ন্ত্রণ কেন দুর্বল হবে

এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে ইপিএকে যানবাহনের নির্গমন মানদণ্ড এবং তেল-গ্যাস খাতে নির্গমন সীমা নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যখন বলছে এসব গ্যাস মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়, তখন নিয়ন্ত্রণের বাধ্যবাধকতাও কার্যত উধাও হয়ে যায়।

পরিবেশবাদী সংগঠন Environmental Defense Fund সতর্ক করেছে, এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে আদালত একদিকে বলেছিল গ্রিনহাউস গ্যাস ইপিএর নিয়ন্ত্রণাধীন দূষণ, আবার অন্যদিকে বড় নীতিগত ক্ষমতা ব্যবহারে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদনের কথা বলেছিল।

ফলে আইনি লড়াই জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

Documents Show E.P.A. Wants to Erase Greenhouse Gas Limits on Power Plants - The New York Times

অর্থনৈতিক লাভ না বাড়তি খরচ

ইপিএর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকানদের মোট ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের ওপর চাপ কমবে এবং মানুষকে বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে কম বাধ্য হতে হবে।

তবে সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, বেশি পেট্রল ব্যবহারের কারণে ২০৩৫ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়লে দাবানল বেশি ঘন ও তীব্র হয় এবং ভূমিস্তরের ওজোনও দ্রুত তৈরি হয়, যা শ্বাসযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

পরিবেশবাদীদের হিসাব বলছে, এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে শতকের মাঝামাঝি সময়ে কয়েক দশ হাজার অতিরিক্ত অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে।

গাড়ি শিল্পে নতুন মোড়

মার্কিন সংবিধানকে কি চ্যালেঞ্জ করছেন ট্রাম্প

গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই মার্কিন গাড়ি নির্মাতারা আবার দহন ইঞ্জিনচালিত গাড়ির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান Jefferies–এর বিশ্লেষক Philippe Houchois বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য নীতিগত সহায়তা এখন দুর্বল। তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই দেশটিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি কমতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, এতে চীন ও ইউরোপের নির্মাতাদের তুলনায় আমেরিকান কোম্পানিগুলো পিছিয়ে পড়তে পারে।

জনমতের সঙ্গে দ্বন্দ্ব

ট্রাম্প এই নীতিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট Barack Obama যুগের ‘বিপর্যয়কর’ নীতি বলে অভিহিত করেছেন। তবে Yale University–এর এক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত মার্কিন ভোটারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মনে করেন সরকারকে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে দূষণ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু নীতি, জনস্বাস্থ্য ও শিল্পখাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান, অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বর্ণ জিতিয়ে ইতিহাস গড়লেন আলিসা লিউ

ট্রাম্পের ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট’ বাতিল: জলবায়ু নীতিতে বড় ধাক্কা, কতটা ঝুঁকিতে আমেরিকা?

০২:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশটির জলবায়ু নীতির ভিত্তিই নড়বড়ে করে দিতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রণ শিথিলের পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংস্থা প্রধান Lee Zeldin। অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকানদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি ডেকে আনতে পারে।

কী ছিল ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট’ সিদ্ধান্ত

২০০৯ সালে Environmental Protection Agency বা ইপিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত দেয়। সেখানে বলা হয়, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও এইচএফসি সহ ছয় ধরনের গ্রিনহাউস গ্যাস মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য হুমকি। বহু বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়িয়েই যুক্তরাষ্ট্রে জলবায়ু সংক্রান্ত বহু ফেডারেল নিয়ম তৈরি হয়।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা আছে, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা ইপিএর বাধ্যবাধকতা। সেই আইনি ভিত্তিই এখন বাতিল করতে চাইছেন ট্রাম্প।

Environmental Defense Fund

নিয়ন্ত্রণ কেন দুর্বল হবে

এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে ইপিএকে যানবাহনের নির্গমন মানদণ্ড এবং তেল-গ্যাস খাতে নির্গমন সীমা নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যখন বলছে এসব গ্যাস মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়, তখন নিয়ন্ত্রণের বাধ্যবাধকতাও কার্যত উধাও হয়ে যায়।

পরিবেশবাদী সংগঠন Environmental Defense Fund সতর্ক করেছে, এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে আদালত একদিকে বলেছিল গ্রিনহাউস গ্যাস ইপিএর নিয়ন্ত্রণাধীন দূষণ, আবার অন্যদিকে বড় নীতিগত ক্ষমতা ব্যবহারে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদনের কথা বলেছিল।

ফলে আইনি লড়াই জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

Documents Show E.P.A. Wants to Erase Greenhouse Gas Limits on Power Plants - The New York Times

অর্থনৈতিক লাভ না বাড়তি খরচ

ইপিএর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকানদের মোট ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের ওপর চাপ কমবে এবং মানুষকে বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে কম বাধ্য হতে হবে।

তবে সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, বেশি পেট্রল ব্যবহারের কারণে ২০৩৫ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়লে দাবানল বেশি ঘন ও তীব্র হয় এবং ভূমিস্তরের ওজোনও দ্রুত তৈরি হয়, যা শ্বাসযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

পরিবেশবাদীদের হিসাব বলছে, এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে শতকের মাঝামাঝি সময়ে কয়েক দশ হাজার অতিরিক্ত অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে।

গাড়ি শিল্পে নতুন মোড়

মার্কিন সংবিধানকে কি চ্যালেঞ্জ করছেন ট্রাম্প

গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই মার্কিন গাড়ি নির্মাতারা আবার দহন ইঞ্জিনচালিত গাড়ির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান Jefferies–এর বিশ্লেষক Philippe Houchois বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য নীতিগত সহায়তা এখন দুর্বল। তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই দেশটিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি কমতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, এতে চীন ও ইউরোপের নির্মাতাদের তুলনায় আমেরিকান কোম্পানিগুলো পিছিয়ে পড়তে পারে।

জনমতের সঙ্গে দ্বন্দ্ব

ট্রাম্প এই নীতিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট Barack Obama যুগের ‘বিপর্যয়কর’ নীতি বলে অভিহিত করেছেন। তবে Yale University–এর এক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত মার্কিন ভোটারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মনে করেন সরকারকে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে দূষণ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু নীতি, জনস্বাস্থ্য ও শিল্পখাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।