কারাকাস, ভেনেজুয়েলা — ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার একটি সাধারণ ক্ষমা আইন স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে রাজনীতিক, কর্মী, আইনজীবীসহ শত শত বন্দি মুক্তি পেতে পারেন। এই সিদ্ধান্ত কার্যত স্বীকার করে যে সরকার রাজনৈতিক কারণে বহু মানুষকে কারাগারে আটকে রেখেছিল।
নীতিগত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে কয়েক দশক ধরে কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক বন্দি থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। নতুন এই আইন সেই অবস্থান থেকে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মাসে রাজধানী কারাকাসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর এটিই সর্বশেষ নীতি পরিবর্তন।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গত মাসের শেষ দিকে বিলটি উত্থাপন করেন এবং আইনসভায় পাস হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এতে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরের সময় তিনি বলেন, এ পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব “কিছুটা অসহিষ্ণুতা ছেড়ে দিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজনীতির জন্য নতুন পথ খুলছে।”

কারা উপকৃত হতে পারেন
আইনটি বিরোধী দলের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিকসহ শাসক দলের লক্ষ্যবস্তু হওয়া অনেকের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনার সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য করার যে প্রবণতা ভেনেজুয়েলা দেখিয়েছে, এই পদক্ষেপকে তার ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গত মাসেই দেশটি তাদের তেল শিল্প সংক্রান্ত আইনেও বড় পরিবর্তন আনে।
আইনের আওতা ও প্রেক্ষাপট
এই আইনের লক্ষ্য ১৯৯৯ সাল থেকে রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত “অপরাধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের” জন্য সাধারণ ও পূর্ণ ক্ষমা প্রদান করা। এর মধ্যে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত।
ওই নির্বাচনের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্করাও ছিল।
আইন পাসে বিতর্ক ও সমঝোতা
গত সপ্তাহে আইনটি নিয়ে বিতর্ক স্থগিত হয়েছিল, কারণ আইনপ্রণেতারা কিছু বিষয়ে একমত হতে পারেননি। বিশেষ করে যারা গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়েছেন, তারা সাধারণ ক্ষমা পাবেন কি না—এ নিয়ে মতভেদ ছিল। শাসক দলের কিছু অনুগত সদস্য বিরোধীদের ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করেন।
অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা দেশে ফিরে না এসে আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের পক্ষে সাধারণ ক্ষমার আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে অচলাবস্থা কাটে এবং বৃহস্পতিবার বিলটি পাস হয়।
বিরোধীদের সতর্ক আশাবাদ
সাধারণ ক্ষমা দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রধান দাবি ছিল। তবে তারা প্রস্তাবটিকে সতর্ক আশাবাদ নিয়ে দেখছে এবং যোগ্যতা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিরোধী আইনপ্রণেতা নোরা ব্রাচো বিতর্কে বলেন, “এটি নিখুঁত নয়, কিন্তু বড় একটি অগ্রগতি। এতে বহু ভেনেজুয়েলাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে।”
বন্দি মুক্তির ধীরগতি নিয়ে সমালোচনা
ভেনেজুয়েলাভিত্তিক বন্দি অধিকার সংগঠন ফোরো পেনালের হিসাব অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে বর্তমানে ৬০০-র বেশি মানুষ আটক রয়েছেন।
মাদুরো গ্রেপ্তারের পর রদ্রিগেজ সরকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্দি মুক্তির ঘোষণা দেয়। তবে স্বজন ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা মুক্তির ধীরগতির সমালোচনা করেছেন। ফোরো পেনালের হিসাবে এখন পর্যন্ত ৪৪৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রিয়জনের মুক্তির আশায় অনেক পরিবার দিন ধরে আটক কেন্দ্রগুলোর বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার থেকে অনশন কর্মসূচিও শুরু করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















