সারাদেশে গ্যাসের স্বল্পতা রমজানে সাধারণ মানুষ এবং শিল্পকারখানার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দৈনিক চাহিদা ৪০০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুট। মগবাজারের সামান্তা রহমান গত কয়েক মাস ধরে দিনের বেলা গ্যাস পাচ্ছেন না। রাতে সামান্য পাওয়া গেলেও চাপ থাকে অপর্যাপ্ত। ইফতার ও সাহরির খাবার তৈরি করতে তিনি বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকেছেন। ঢাকার পাশাপাশি দেশের বড় অংশে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কম হওয়ায় রান্নায় দ্বিগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে।
এলপিজি বাজারেও নৈরাজ্য
পাইপলাইনের অভাবে অনেকেই এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন। তবু সেখানে দাম নিয়ন্ত্রণে নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪০০–৫০০ টাকা বেশি খরচ করে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ২৪০০ থেকে ১৮০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সিএনজি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রভাব
গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। চালকরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তেজগাঁও এলাকার অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে পুরো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্পকারখানাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পতার প্রভাব পড়েছে। সাভারের এফসিআই বিডি কারখানার মেইনটেন্যান্স ম্যানেজার মোখলেছুর রহমান বলেন, গ্যাস না থাকায় বয়লার, ড্রায়ারসহ যন্ত্র চালানো যাচ্ছে না। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন কর্মপরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ
রমজানে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় তিন ঘণ্টা বাড়িয়ে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা করা হয়েছে। নতুন সরকার ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও পাঁচ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০টি নতুন কূপ খনন এবং দিনে ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়াও কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে চতুর্থ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















