০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ইসরায়েলের নতুন হামলায় আবারও উত্তপ্ত দক্ষিণ লেবানন কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত আরও দুইজন পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের, “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে” চীনা মালিকানায় গেল ১২০ বছরের জার্মান টেক্সটাইল যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সরকারের ‘মেরুদণ্ড’ থাকলে মার্কিন চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে: ফজলুর রহমান অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে হলিউডের জোয়ার, বিশ্ব চলচ্চিত্রের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে কুইন্সল্যান্ড বাংলাদেশকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের সিমুলেটর দিল পাকিস্তান, বাড়ছে সামরিক সহযোগিতার জল্পনা বিএসএফের হাতে আটক ১০ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল ভারত, হালুয়াঘাটে বিজিবির কাছে হস্তান্তর হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে: নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী

রাশিয়ার অর্থনীতি মৃত্যুর অঞ্চলে প্রবেশ করেছে: যুদ্ধ, বাজেট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সংকট

রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশের পঞ্চম বছরে, দেশটির অর্থনীতি এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে যাকে “মাউন্টেনিয়ারদের মৃত্যুর অঞ্চল” বলা হয়—৮,০০০ মিটার উচ্চতার সেই জায়গা যেখানে মানুষের শরীর নিজের শক্তি দ্রুত ক্ষয় করে এবং পুনরায় তৈরি করতে পারছে না। রাশিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে এমন এক নেতিবাচক সমতায় আটকে রয়েছে যা নিজেকে ধরে রাখার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।

Ajayi - ECONOMIST ARTICLE: Russia's economy has entered the death zone By Alexandra  Prokopenko As russia's war against Ukraine enters its fifth year, the  economy that sustains it has been transformed in

অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অবস্থা

রাশিয়ার রপ্তানি আয় কমছে, এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে বাজেট ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৫ সালে অর্থনীতি মাত্র ১% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং চলতি বছরের পূর্বাভাস আরও খারাপ। গত চার বছরে রাশিয়ার অর্থনীতি দুটি ভিন্ন ধরণের সিস্টেমে বিভক্ত হয়েছে। প্রথমটি হলো সামরিক এবং সামরিক-সংলগ্ন শিল্প: এরা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মতো, যারা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাচ্ছে, শ্রমিক, মূলধন এবং আমদানি প্রথমে পাচ্ছে। দ্বিতীয় সিস্টেমে রয়েছে বেসামরিক ব্যবসা, ছোট প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা শিল্প। এগুলো প্রান্তিক অবস্থায়, অর্থাৎ ‘ঠান্ডায়’ ফেলে রাখা হয়েছে।

সামরিক ভাড়ার অর্থনীতি

রাশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এটি যা জ্বালানি ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতি এখন “সামরিক ভাড়া” বা বাজেট স্থানান্তরের ওপর চলে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পে অর্থায়ন করে, যা মজুরি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি করে। এটি ২০০০-এর দশকের তেলের অর্থায়নের মতো কাজ করে, কিন্তু মূল পার্থক্য হলো তেল আয় বিদেশ থেকে আসতো এবং অর্থনীতি জুড়ে বাস্তব প্রভাব ফেলতো। সামরিক ভাড়া সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ পুনর্বণ্টন, যা ধ্বংসের জন্য তৈরি সম্পদের দিকে যাচ্ছে। অর্থাৎ অর্থনীতি নিজের শক্তি ব্যবহার করে নিজেরই পেশী ক্ষয় করছে।

এই পরিস্থিতি কোনো চক্রাকারে মন্দা নয় যা মুদ্রানীতি বা বাজেট নীতি দিয়ে ঠিক করা যায়। সাধারণ মন্দার মতো এটি বিশ্রামে ঠিক হয় না। বরং এটি উচ্চতার অসুখের মতো—যত বেশি সময় থাকবেন, ততই অবস্থা খারাপ হবে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: যেসব প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর

অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের অঙ্কন

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাত এখন জিডিপির ৮% দখল করছে। সংকটমুক্তভাবে সামরিক শক্তি হ্রাস করতে চাইলে পাঁচটি শর্ত একসাথে পূরণ করতে হবে: ক্রেমলিনের নিরাপত্তা আশ্বস্ত করা, ব্যাপক সামরিক অপসারণ ও পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি অ্যাক্সেসের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, প্রতিরক্ষা ক্রয় ব্যবস্থায় দক্ষতার অগ্রাধিকার, এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনঃবণ্টিত সম্পদ শোষণ করার সক্ষমতা। এই পাঁচটি শর্ত একসাথে পূরণের সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি।

বাজেট ঘাটতি এবং তেলের চাপ

অর্থনৈতিক অক্সিজেন কমছে। ২০২৫ সালে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ২.৬% এ পৌঁছেছে, যা মহামারির পর থেকে সর্বাধিক। সরকারি ঋণের সুদব্যয় এই বছর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের চেয়ে বেশি হবে।

অতএব, তেলের মূল্যও চাপ বাড়াচ্ছে। রাশিয়ার প্রধান ধরনের ইউরালস ক্রুড ব্রেন্টের তুলনায় ২৫-৩০% কম দামে বিক্রি হচ্ছে, যার ফলে রপ্তানি আয় ২০২০ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে যাচ্ছে। তবে এ অবস্থা মূলত রাশিয়ার নয়; এটি চীনের ধীরগতি, ইউরোপের স্থবিরতা এবং আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের প্রতিফলন। উচ্চতার পাতলা বাতাস এখানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: যে সংকটে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত - BBC News বাংলা

রাজনৈতিক এবং কৌশলগত প্রভাব

এই জটিল প্রেক্ষাপটে ক্রেমলিনের উদ্দেশ্য ও কৌশল প্রভাবিত হচ্ছে। সাধারণ অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী খারাপ পরিস্থিতি আলোচনার দিকে ঠেলে দিতে পারে, কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিন নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থাও দেখছেন। ইউরোপের রাজনৈতিক বিভাজন, ইউক্রেনের পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপ ক্রেমলিনের যুদ্ধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক করে তুলছে।

এছাড়াও, রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ব্যাপক বিশ্বাস আছে যে, যুদ্ধ যেভাবেই শেষ হোক, পশ্চিমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাশিয়াকে স্থায়ীভাবে সীমাবদ্ধ করা এবং তার উন্নয়ন সম্ভাবনা হত্যা করা। চার বছরের সংঘর্ষ দুই পক্ষের মধ্যে পথ নির্ধারণ করেছে। যদি দুই পক্ষই স্থায়ী সংঘাত প্রত্যাশা করে, তাহলে এটি একমাত্র স্থিতিশীল ফলাফল হিসেবে রূপ নেয়।

দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল

রাশিয়া সম্ভবত ভবিষ্যতেও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু কোনো অ্যালপাইন শীর্ষারোহী মৃত্যুর অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেঁচে থাকতে পারে না। ক্রেমলিনের জন্য অর্থনৈতিক অবক্ষয় এড়াতে যুদ্ধ শেষ করা অপরিহার্য। প্রতি অতিরিক্ত বছর এখানে কাটানো বাজেটিক সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙন এবং এমন ক্ষতি বাড়ায় যা পরবর্তীতে কোনো নীতি দিয়ে ঠিক করা সম্ভব নয়।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: আগামীতে যে পাঁচটি ঘটনা ঘটতে পারে, একটি বিশ্লেষণ -  BBC News বাংলা

পশ্চিমা নীতি নির্ধারকদের প্রশ্ন হলো, অবশেষে যখন অবনমন শুরু হবে, তখন কোন ধরনের রাশিয়া সামনে আসবে, এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের নতুন হামলায় আবারও উত্তপ্ত দক্ষিণ লেবানন

রাশিয়ার অর্থনীতি মৃত্যুর অঞ্চলে প্রবেশ করেছে: যুদ্ধ, বাজেট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সংকট

০৬:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশের পঞ্চম বছরে, দেশটির অর্থনীতি এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে যাকে “মাউন্টেনিয়ারদের মৃত্যুর অঞ্চল” বলা হয়—৮,০০০ মিটার উচ্চতার সেই জায়গা যেখানে মানুষের শরীর নিজের শক্তি দ্রুত ক্ষয় করে এবং পুনরায় তৈরি করতে পারছে না। রাশিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে এমন এক নেতিবাচক সমতায় আটকে রয়েছে যা নিজেকে ধরে রাখার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।

Ajayi - ECONOMIST ARTICLE: Russia's economy has entered the death zone By Alexandra  Prokopenko As russia's war against Ukraine enters its fifth year, the  economy that sustains it has been transformed in

অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অবস্থা

রাশিয়ার রপ্তানি আয় কমছে, এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে বাজেট ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৫ সালে অর্থনীতি মাত্র ১% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং চলতি বছরের পূর্বাভাস আরও খারাপ। গত চার বছরে রাশিয়ার অর্থনীতি দুটি ভিন্ন ধরণের সিস্টেমে বিভক্ত হয়েছে। প্রথমটি হলো সামরিক এবং সামরিক-সংলগ্ন শিল্প: এরা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মতো, যারা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাচ্ছে, শ্রমিক, মূলধন এবং আমদানি প্রথমে পাচ্ছে। দ্বিতীয় সিস্টেমে রয়েছে বেসামরিক ব্যবসা, ছোট প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা শিল্প। এগুলো প্রান্তিক অবস্থায়, অর্থাৎ ‘ঠান্ডায়’ ফেলে রাখা হয়েছে।

সামরিক ভাড়ার অর্থনীতি

রাশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এটি যা জ্বালানি ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতি এখন “সামরিক ভাড়া” বা বাজেট স্থানান্তরের ওপর চলে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পে অর্থায়ন করে, যা মজুরি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি করে। এটি ২০০০-এর দশকের তেলের অর্থায়নের মতো কাজ করে, কিন্তু মূল পার্থক্য হলো তেল আয় বিদেশ থেকে আসতো এবং অর্থনীতি জুড়ে বাস্তব প্রভাব ফেলতো। সামরিক ভাড়া সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ পুনর্বণ্টন, যা ধ্বংসের জন্য তৈরি সম্পদের দিকে যাচ্ছে। অর্থাৎ অর্থনীতি নিজের শক্তি ব্যবহার করে নিজেরই পেশী ক্ষয় করছে।

এই পরিস্থিতি কোনো চক্রাকারে মন্দা নয় যা মুদ্রানীতি বা বাজেট নীতি দিয়ে ঠিক করা যায়। সাধারণ মন্দার মতো এটি বিশ্রামে ঠিক হয় না। বরং এটি উচ্চতার অসুখের মতো—যত বেশি সময় থাকবেন, ততই অবস্থা খারাপ হবে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: যেসব প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর

অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের অঙ্কন

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাত এখন জিডিপির ৮% দখল করছে। সংকটমুক্তভাবে সামরিক শক্তি হ্রাস করতে চাইলে পাঁচটি শর্ত একসাথে পূরণ করতে হবে: ক্রেমলিনের নিরাপত্তা আশ্বস্ত করা, ব্যাপক সামরিক অপসারণ ও পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি অ্যাক্সেসের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, প্রতিরক্ষা ক্রয় ব্যবস্থায় দক্ষতার অগ্রাধিকার, এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনঃবণ্টিত সম্পদ শোষণ করার সক্ষমতা। এই পাঁচটি শর্ত একসাথে পূরণের সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি।

বাজেট ঘাটতি এবং তেলের চাপ

অর্থনৈতিক অক্সিজেন কমছে। ২০২৫ সালে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ২.৬% এ পৌঁছেছে, যা মহামারির পর থেকে সর্বাধিক। সরকারি ঋণের সুদব্যয় এই বছর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের চেয়ে বেশি হবে।

অতএব, তেলের মূল্যও চাপ বাড়াচ্ছে। রাশিয়ার প্রধান ধরনের ইউরালস ক্রুড ব্রেন্টের তুলনায় ২৫-৩০% কম দামে বিক্রি হচ্ছে, যার ফলে রপ্তানি আয় ২০২০ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে যাচ্ছে। তবে এ অবস্থা মূলত রাশিয়ার নয়; এটি চীনের ধীরগতি, ইউরোপের স্থবিরতা এবং আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের প্রতিফলন। উচ্চতার পাতলা বাতাস এখানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: যে সংকটে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত - BBC News বাংলা

রাজনৈতিক এবং কৌশলগত প্রভাব

এই জটিল প্রেক্ষাপটে ক্রেমলিনের উদ্দেশ্য ও কৌশল প্রভাবিত হচ্ছে। সাধারণ অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী খারাপ পরিস্থিতি আলোচনার দিকে ঠেলে দিতে পারে, কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিন নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থাও দেখছেন। ইউরোপের রাজনৈতিক বিভাজন, ইউক্রেনের পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপ ক্রেমলিনের যুদ্ধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক করে তুলছে।

এছাড়াও, রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ব্যাপক বিশ্বাস আছে যে, যুদ্ধ যেভাবেই শেষ হোক, পশ্চিমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাশিয়াকে স্থায়ীভাবে সীমাবদ্ধ করা এবং তার উন্নয়ন সম্ভাবনা হত্যা করা। চার বছরের সংঘর্ষ দুই পক্ষের মধ্যে পথ নির্ধারণ করেছে। যদি দুই পক্ষই স্থায়ী সংঘাত প্রত্যাশা করে, তাহলে এটি একমাত্র স্থিতিশীল ফলাফল হিসেবে রূপ নেয়।

দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল

রাশিয়া সম্ভবত ভবিষ্যতেও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু কোনো অ্যালপাইন শীর্ষারোহী মৃত্যুর অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেঁচে থাকতে পারে না। ক্রেমলিনের জন্য অর্থনৈতিক অবক্ষয় এড়াতে যুদ্ধ শেষ করা অপরিহার্য। প্রতি অতিরিক্ত বছর এখানে কাটানো বাজেটিক সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙন এবং এমন ক্ষতি বাড়ায় যা পরবর্তীতে কোনো নীতি দিয়ে ঠিক করা সম্ভব নয়।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: আগামীতে যে পাঁচটি ঘটনা ঘটতে পারে, একটি বিশ্লেষণ -  BBC News বাংলা

পশ্চিমা নীতি নির্ধারকদের প্রশ্ন হলো, অবশেষে যখন অবনমন শুরু হবে, তখন কোন ধরনের রাশিয়া সামনে আসবে, এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।