পটুয়াখালীর মারিচবুনিয়া ইউনিয়নে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছে।
অভিযোগ জানাতে সংবাদ সম্মেলন
শনিবার দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গোপাল মাঝি। তিনি জানান, সদর উপজেলার মারিচবুনিয়া মৌজায় তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ রেকর্ডভুক্ত ও ভোগদখলকৃত জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চলছে।
গোপাল মাঝির অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জাকির ভূইয়া, সুমন পায়দা, নাসির আকন, হারুন মাতবর, জাফর ভূইয়া ও নিজাম পায়দাসহ কয়েকজন তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, জাকির ভূইয়া আগে আওয়ামী লীগ-এর নেতা ছিলেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষক দল-এর সদস্য।
হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ
লিখিত বক্তব্যে গোপাল মাঝি জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। এতে তিনি ও তার ভাই গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন আছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার কাছ থেকে নগদ দুই লাখ বিশ হাজার টাকা ও দুটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনায় জাকির ভূইয়া, সুমন পায়দা ও নাসির আকনকে আসামি করে আরও সাত-আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার দাবি করেন তিনি।
সংখ্যালঘু হওয়ায় হয়রানির অভিযোগ
গোপাল মাঝির ভাষ্য, সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি তার সন্তানদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভারত চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযুক্তের পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জাকির ভূইয়া দাবি করেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার জামাতা সুমন ওই জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও তিনি জানান এবং কাউকে ভারত যেতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পুলিশের অবস্থান
পটুয়াখালী সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং আগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ভারত চলে যাওয়ার হুমকির বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















