১০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইউএই-এর খাদ্য সহায়তা কেনিয়ার খরা আক্রান্ত অঞ্চলে পৌঁছালো রাজপরিবারের উত্তরাধিকারের লাইন থেকে অ্যান্ড্রু বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের হাতে আফগান ভূমিকায় বাজৌরের আত্মঘাতী হামলা: পাকিস্তান কাবুলকে দিল কড়া ডেমার্চে ব্রিটেনের তরুণ প্রজন্ম সংকটে—চাকরি, বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ অস্ট্রেলিয়ার শেষ ম্যাচে মার্শের ঝড়, ওমানকে ৯ উইকেটে হারালো টাই২০ বিশ্বকাপে রমজানে গাজার সন্তানদের জন্য পুনর্বাসন ও সহায়তা উদ্যোগ শুরু করল দ্য বিগ হার্ট ফাউন্ডেশন জাপানের মূল্যস্ফীতি দুই বছরে সর্বনিম্নে, সুদের সিদ্ধান্তে নতুন জটিলতা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ: “হ্যাঁ -না” এখনই নয় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রদ্ধাঞ্জলি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে উত্তপ্ত পটুয়াখালী

আফগান ভূমিকায় বাজৌরের আত্মঘাতী হামলা: পাকিস্তান কাবুলকে দিল কড়া ডেমার্চে

পাকিস্তান আফগানিস্তানের তালিবান শাসিত সরকারের প্রতি কড়া কূটনৈতিক নোটিস জারি করেছে। কিয়বর পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজৌর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সোমবার সংঘটিত আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন সৈনিক ও এক শিশু নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। হামলার পরিকল্পনা ও সমর্থন আফগান মাটির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আফগান প্রতিনিধিকে ডাকা হলো

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামাবাদে আফগান স্থায়ী প্রতিনিধির উপাধ্যক্ষকে ডাকা হয় এবং আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ পেশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যারা এই হামলার পেছনে রয়েছেন তাদের অবস্থান যেখানেই হোক, পাকিস্তান তাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং ধ্বংস করতে নিজেকে সম্পূর্ণ অধিকারী মনে করে, যাতে আমাদের সৈনিক, নাগরিক ও সীমান্ত সুরক্ষিত থাকে।”

হামলায় নিহত ও আফগান সংশ্লিষ্টতা

ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, বাজৌরের মালাঙ্গি পোস্টে একটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য শহীদ হন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানের পর ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। আফগান নাগরিক আহমদ, যিনি ক্বারি আবদুল্লাহ আবু জার নামেও পরিচিত, এই আত্মঘাতী হামলার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের বালখ প্রদেশের বাসিন্দা এবং ত্রিপক্ষীয় তালিবান স্পেশাল ফোর্সের প্রাক্তন সদস্য ছিলেন।

ত্রাস ও সীমান্তগত সমর্থনের প্রমাণ

এই ঘটনা পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে আফগান নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয় এবং আফগান তালিবান সরকারের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতার ইঙ্গিত প্রদান করে। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সংঘটিত সন্ত্রাসের নকশা প্রায়শই আফগানিস্তান থেকে বাস্তবায়িত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ৬ তারিখের ইসলামাবাদের ইমামবারগাহ হামলা, তসলাই আত্মঘাতী হামলা, ইসলামাবাদ জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সে ও ফেডারেল কন্ট্রোল হেডকোয়ার্টারে হামলাও আফগান মাটিতে পরিকল্পিত হয়।

হতাহত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, ইসলামাবাদে ইমামবারগাহে ফেব্রুয়ারি ৬ তারিখে সংঘটিত আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৪০ জনের পরিবারকে মোট ৭ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে। ৩৬ জন শহীদ ইসলামাবাদের বাসিন্দা, এবং চারজন শহরের বাইরে বাস করা পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি প্রদান করা হয়েছে।

এই ঘটনায় পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভূমিকার প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সীমান্ত ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউএই-এর খাদ্য সহায়তা কেনিয়ার খরা আক্রান্ত অঞ্চলে পৌঁছালো

আফগান ভূমিকায় বাজৌরের আত্মঘাতী হামলা: পাকিস্তান কাবুলকে দিল কড়া ডেমার্চে

০৮:৩০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তান আফগানিস্তানের তালিবান শাসিত সরকারের প্রতি কড়া কূটনৈতিক নোটিস জারি করেছে। কিয়বর পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজৌর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সোমবার সংঘটিত আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন সৈনিক ও এক শিশু নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। হামলার পরিকল্পনা ও সমর্থন আফগান মাটির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আফগান প্রতিনিধিকে ডাকা হলো

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামাবাদে আফগান স্থায়ী প্রতিনিধির উপাধ্যক্ষকে ডাকা হয় এবং আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ পেশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যারা এই হামলার পেছনে রয়েছেন তাদের অবস্থান যেখানেই হোক, পাকিস্তান তাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং ধ্বংস করতে নিজেকে সম্পূর্ণ অধিকারী মনে করে, যাতে আমাদের সৈনিক, নাগরিক ও সীমান্ত সুরক্ষিত থাকে।”

হামলায় নিহত ও আফগান সংশ্লিষ্টতা

ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, বাজৌরের মালাঙ্গি পোস্টে একটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য শহীদ হন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানের পর ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। আফগান নাগরিক আহমদ, যিনি ক্বারি আবদুল্লাহ আবু জার নামেও পরিচিত, এই আত্মঘাতী হামলার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের বালখ প্রদেশের বাসিন্দা এবং ত্রিপক্ষীয় তালিবান স্পেশাল ফোর্সের প্রাক্তন সদস্য ছিলেন।

ত্রাস ও সীমান্তগত সমর্থনের প্রমাণ

এই ঘটনা পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে আফগান নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয় এবং আফগান তালিবান সরকারের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতার ইঙ্গিত প্রদান করে। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সংঘটিত সন্ত্রাসের নকশা প্রায়শই আফগানিস্তান থেকে বাস্তবায়িত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ৬ তারিখের ইসলামাবাদের ইমামবারগাহ হামলা, তসলাই আত্মঘাতী হামলা, ইসলামাবাদ জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সে ও ফেডারেল কন্ট্রোল হেডকোয়ার্টারে হামলাও আফগান মাটিতে পরিকল্পিত হয়।

হতাহত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, ইসলামাবাদে ইমামবারগাহে ফেব্রুয়ারি ৬ তারিখে সংঘটিত আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৪০ জনের পরিবারকে মোট ৭ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে। ৩৬ জন শহীদ ইসলামাবাদের বাসিন্দা, এবং চারজন শহরের বাইরে বাস করা পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি প্রদান করা হয়েছে।

এই ঘটনায় পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভূমিকার প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সীমান্ত ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে।