টোকিও থেকে জানানো হয়েছে, জাপানের বার্ষিক মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি জানুয়ারিতে দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। এটি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দুই শতাংশের লক্ষ্য পূরণের সমান, কিন্তু ধীর গতির মূল্যস্ফীতি সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলতে পারে।
মূল্যস্ফীতির বর্তমান অবস্থা
গত জানুয়ারিতে কোর ভোক্তা মূল্যস্ফীতি, যা সতেজ খাবার বাদে হিসাব করা হয়, ২ শতাংশে নেমেছে। এটি ডিসেম্বরের ২.৪ শতাংশের তুলনায় কম এবং দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতির বৃদ্ধি। খাবার ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করলে মূল্যস্ফীতি ২.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ব্যাংকের লক্ষ্য অনুযায়ী উপরে থাকলেও গত মাসের তুলনায় কম।
এই ধীর মূল্যস্ফীতির মূল কারণ হিসেবে সরকারের জ্বালানি ভর্তুকি, গ্যাসোলিন করের ছাড় এবং গত বছরের খাবারের মূল্যের প্রভাবকে উল্লেখ করা হচ্ছে। সমগ্র ভোক্তা মূল্যস্ফীতি, যা সব জিনিস যোগ করে হিসাব করা হয়, তা জানুয়ারিতে ১.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি প্রায় চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুই শতাংশ লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে নিচে নেমেছে।
সুদ নীতি ও অর্থনীতির প্রভাব
মূল্যস্ফীতির ধীর গতি ব্যাংক অফ জাপানের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের মধ্যভাগে ব্যাংক মূল সুদের হার বাড়াতে পারে, তবে মার্চ বা এপ্রিলেও এটি খুব সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, ব্যাংক ও সরকার একযোগে এমন নীতি গ্রহণ করবে যাতে দাম ও বেতন দুটোই টেকসইভাবে বৃদ্ধি পায়।
মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে অর্থনীতির অন্যান্য খাত যেমন রপ্তানি ও শিল্পের আত্মবিশ্বাস এখনও মিশ্র সংকেত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















