বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কর্মসংস্থান landscape সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে। সদ্য স্নাতক, হতাশ কর্মী বা কর্মজীবনে ফিরে আসা অভিভাবক, সবাই একই সমস্যার মুখোমুখি: কোন দক্ষতা চাহিদার সাথে মিলে যায় এবং কীভাবে নিয়োগকর্তাকে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। পারম্পরিক শিক্ষাগত ট্রান্সক্রিপ্ট বা সনদপত্র আজকাল অনেকটা মূল্যহীন হয়ে গেছে। সংস্থাগুলো জানে যে গ্রেড বা সার্টিফিকেট সবসময় দক্ষতার নিশ্চয়তা দেয় না। দীর্ঘ সময় কাজ থেকে দূরে থাকা অভিভাবককেও নিয়োগকর্তারা সন্দেহের চোখে দেখে, ভাবতে পারে কাজের দক্ষতা হ্রাস পেয়েছে।
কাজের বাজারে এমন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) আগমনের কারণে। নিয়োগকর্তারা জানে না কোন কাজ মানুষ করবে, কোন কাজ হবে মানব-AI টিম বা কেবল AI দ্বারা। ফলে চাকরি প্রার্থীরা যে দক্ষতা অর্জন করতে চায়, তা কি ভবিষ্যতের চাহিদার সাথে মিলে যাবে, তা অনিশ্চিত। এই তথ্যগত অসাম্যকেই বাজারের ব্যর্থতা বলা যায়।

সরকারকে এখানে হস্তক্ষেপের প্রলোভন থাকে। অনেক সময় দেখা যায় সরকার কম্পিউটার বিজ্ঞান বা নির্দিষ্ট কোর্সের উপর গুরুত্ব দিতে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু AI যুগের প্রাথমিক ফলাফল দেখায় যে এমন দক্ষতার চাহিদা প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে না।
কেন একজন শিক্ষার্থী, হতাশ কর্মী বা পুনঃপ্রবেশকারী অভিভাবক কী করতে পারে? সহজ উত্তর হলো: আমরা সবাই এখন উদ্যোক্তা। আমাদের হতে হবে বাজার-দৃস্টিকোণ সম্পন্ন, দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম, এবং নতুন, কখনো কখনো অনিশ্চিত পরিবেশে কাজ করতে আগ্রহী। ক্যারিয়ারের প্রথাগত ধাপ ভেঙে গেছে, তার পরিবর্তে এসেছে ক্যারিয়ার ফ্লাইহুইল—যেখানে সময়মতো অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ ও নমনীয় কাজের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে হয়।

যে কেউ—AI বিশেষজ্ঞ বা সরকারি অর্থনীতিবিদও—নির্দিষ্ট দক্ষতা ভবিষ্যতের উচ্চ-মূল্যের চাকরি নিশ্চিত করবে তা বলতে পারে না। তাই সবারই ঝুঁকি নিতে হবে, দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে বাজারে নিজেকে মূল্যবান করে তুলতে হবে। রাজনৈতিক নেতা কেবল এই উদ্যোক্তা মানসিকতাকে সমর্থন করতে পারেন, নির্দিষ্ট দক্ষতার পূর্বাভাস দিতে নয়।
তিনটি প্রস্তাব এ উদ্যোক্তা শক্তি সঠিক পথে পরিচালনার সুযোগ দিতে পারে। প্রথমত, দক্ষতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ বা apprenticeships বাড়াতে হবে, যেমন সার্ভিস সাউথ ক্যারোলিনার রেজিস্টার্ড এপ্রেন্টিসশিপ উদ্যোগে দেখা যায়। এখানে মানুষ শেখার সময় বেতনপ্রাপ্ত অবস্থায় কাজ পায় এবং সংস্থাগুলো বাস্তব সময়ে প্রতিভা যাচাই করতে পারে। দ্বিতীয়ত, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষতা-ভিত্তিক মূল্যায়ন তৈরি করতে উৎসাহিত করা উচিত, যাতে চাকরিপ্রার্থী তাদের দক্ষতা সহজে প্রমাণ করতে পারে এবং নিয়োগকর্তা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তৃতীয়ত, কঠোর নিয়োগ আইন পুনর্গঠন বা বাতিল করা জরুরি, যা কর্মী ও সংস্থার মধ্যে সৃজনশীল ও নমনীয় সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে, আমরা সবাই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যতকে নিরাপদ করতে পারি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















