চীনা বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছেন। তারা প্রথমবারের মতো কোয়ান্টাম সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী অবস্থা—প্রিথার্মালাইজেশন—সরা
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ৭৮-কিউবিটের সুপারকন্ডাক্টিং প্রসেসর ‘চুয়াং-ৎসু ২.০’ ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে গবেষকেরা কোয়ান্টাম ডিকোহেরেন্সের গতি নিয়ন্ত্রণ বা ‘টিউন’ করার নতুন উপায় দেখাতে পেরেছেন, যা জটিল কোয়ান্টাম পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় বড় সহায়ক হতে পারে।
কোয়ান্টাম সিস্টেমে ভারসাম্যে ফেরার প্রক্রিয়া
কোনো কোয়ান্টাম সিস্টেমে বাহ্যিক প্রভাব পড়লে সেটি স্বাভাবিকভাবে আবার ভারসাম্যে ফিরে যেতে চায়। এ সময় সিস্টেমের শক্তি ও তথ্য ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমানভাবে বণ্টিত হয়। বিষয়টি অনেকটা দোলককে ঠেলা দেওয়ার মতো—প্রথমে দুলতে থাকে, পরে ধীরে ধীরে থেমে যায়।
কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই প্রযুক্তি নির্ভুলভাবে তথ্য ধরে রাখার ওপর নির্ভরশীল। যদি কোয়ান্টাম সিস্টেম খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়, তাহলে গণনার ফল সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ে। আরও বড় সমস্যা হলো, এই প্রক্রিয়া কত সময় নেয় বা কোন উপাদান এতে প্রভাব ফেলে—তা বিদ্যমান ধ্রুপদি কম্পিউটার দিয়ে নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।
গবেষণায় নতুন মধ্যবর্তী ধাপের সন্ধান
চীনের বিজ্ঞান একাডেমির পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা ২৮ জানুয়ারি ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই বিবর্তনের সময় একটি অপ্রত্যাশিত মধ্যবর্তী ধাপ প্রথমবার শনাক্ত করার কথা জানান। এই ধাপটি স্বল্পস্থায়ী হলেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
গবেষকদের মতে, এই নিয়ন্ত্রণযোগ্য মধ্যবর্তী অবস্থা ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণের একটি কার্যকর পথ খুলে দিতে পারে। ফলে আরও নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















