০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারে প্রথমবার সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফলভাবে অপসারণ টিউমার যুক্তরাজ্যে ফিরলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান, সন্তানদের নিয়ে নতুন আবাস গড়ার প্রস্তুতি এইচ-১বি ভিসার অবসানেই কি ভারতীয়দের নতুন সুযোগ? শৈশবের চিনি খাওয়ার অভ্যাসে কি বাড়তে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি? সেপ্টেম্বরের পর্দা মাতাবে নয়টি আলোচিত ধারাবাহিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ মেয়ের প্রথম জন্মদিনে স্পেন ভ্রমণ, কিন্তু এক বছরের শিশুর জন্য বদলে গেল পুরো পরিকল্পনা বন্ধুকে ধার দেওয়া টাকা ফেরত না পেলে কী করবেন—বন্ধুত্ব বাঁচাবেন, নাকি টাকা ফেরত চাইবেন? বাড়িতে বার্ধক্য কাটাতে ৬ সন্তান ও ৩ লাখ ডলারের সঞ্চয়: এক পরিবারের কঠিন বাস্তবতা গ্রিসে চার বছর: ছুটির স্বপ্নের আড়ালে যে বাস্তবতা

৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু চরম দারিদ্র্যের মধ্যে, সমাধান অপেক্ষা করছে নীতি পরিবর্তনের

যুক্তরাজ্যের চকচকে জীবনের আড়ালে ক্রমেই গভীর হচ্ছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির আর্থিক সংকট। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। শুধু বাংলাদেশি শিশু নয়, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর পরিস্থিতিও সংকটাপন্ন। এই ‘বস্তুগত বঞ্চনা’ বর্তমানে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

দারিদ্র্য পরিমাপে পরিবর্তন আসছে

আগামী মার্চ থেকে যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য নির্ধারণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি) ট্যাক্স রেকর্ড এবং বেনিফিট পেমেন্টের তথ্য সমন্বয় করে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডেটাসেট’ ব্যবহার করবে। সরকারের ধারণা, এতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে ‘অতি গভীর দারিদ্র্যের’ প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে, যদিও আনুষ্ঠানিক সংখ্যায় কিছুটা কম দেখাতে পারে।

65% of British Bangladeshi Children Trapped in 'Deep Poverty'

 

শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য, কিন্তু শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধতা

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য কমিউনিটির তুলনায় শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। কিন্তু এই শিক্ষাগত সাফল্য উচ্চ বেতনের চাকরিতে রূপান্তরিত হচ্ছে না। গবেষকরা এটিকে ‘ভাঙা সামাজিক অগ্রগতি প্রতিশ্রুতি’ বা ‘ব্রোকেন সোশ্যাল মোবিলিটি প্রমিস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শ্রমবাজারে বিদ্যমান ‘জাতিগত বৈষম্য’ এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব বাংলাদেশি পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের চক্রে আটকে রেখেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি এমন পরিবারে বাস করেন যেখানে সব সদস্য কর্মসংস্থানে যুক্ত নন।

পাকিস্তানি পরিবারগুলোর দারিদ্র্য এবং নীতি পরিবর্তনের প্রভাব

ব্রিটিশ পাকিস্তানি পরিবারগুলোর ৫৯ শতাংশ বর্তমানে দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন—দুই সন্তান পর্যন্ত বেনিফিট সীমা বাতিল—তাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারগুলোর তুলনায় পাকিস্তানি পরিবারগুলোর ৪১ শতাংশের তিন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে। নতুন নীতির প্রভাবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ হাজার হাজার পাকিস্তানি শিশুকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

চরম দারিদ্র্যসীমায়' ৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু - The Daily Ajker  Prottasha - Your Trusted News Portal

মুসলিম সম্প্রদায়ে ‘গুপ্ত ক্ষুধা’

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ক্রাইসিস অব বিলঙ্গিং’ প্রতিবেদনে ব্রিটিশ মুসলিমদের মধ্যে এক ‘গুপ্ত ক্ষুধা’র কথা উঠে এসেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ ব্রিটিশ মুসলিম পরিবার জরুরি গৃহস্থালি বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। চরম সংকটে থাকা সত্ত্বেও ৯৫ শতাংশ লোকই লোকলজ্জার কারণে সরকারি বা দাতব্য সহায়তা নিতে চান না। এই ‘অদৃশ্য দারিদ্র্য’ কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান মুসলিমদের মধ্যে আরও প্রকট।

মূল চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

আগামী মাসে চালু হতে যাচ্ছে ‘ডিপ মেটেরিয়াল পোভার্টি’ বা গভীর বস্তুগত দারিদ্র্য পরিমাপের নতুন সূচক। সমালোচকরা বলছেন, কেবল পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সংখ্যা কম দেখালে সমস্যার সমাধান হবে না। লন্ডন ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের উচ্চ আবাসন ব্যয় এবং মুসলিম নারীদের কর্মসংস্থানের বাধা দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারে প্রথমবার সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফলভাবে অপসারণ টিউমার

৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু চরম দারিদ্র্যের মধ্যে, সমাধান অপেক্ষা করছে নীতি পরিবর্তনের

০২:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্যের চকচকে জীবনের আড়ালে ক্রমেই গভীর হচ্ছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির আর্থিক সংকট। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। শুধু বাংলাদেশি শিশু নয়, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর পরিস্থিতিও সংকটাপন্ন। এই ‘বস্তুগত বঞ্চনা’ বর্তমানে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

দারিদ্র্য পরিমাপে পরিবর্তন আসছে

আগামী মার্চ থেকে যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য নির্ধারণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি) ট্যাক্স রেকর্ড এবং বেনিফিট পেমেন্টের তথ্য সমন্বয় করে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডেটাসেট’ ব্যবহার করবে। সরকারের ধারণা, এতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে ‘অতি গভীর দারিদ্র্যের’ প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে, যদিও আনুষ্ঠানিক সংখ্যায় কিছুটা কম দেখাতে পারে।

65% of British Bangladeshi Children Trapped in 'Deep Poverty'

 

শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য, কিন্তু শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধতা

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য কমিউনিটির তুলনায় শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। কিন্তু এই শিক্ষাগত সাফল্য উচ্চ বেতনের চাকরিতে রূপান্তরিত হচ্ছে না। গবেষকরা এটিকে ‘ভাঙা সামাজিক অগ্রগতি প্রতিশ্রুতি’ বা ‘ব্রোকেন সোশ্যাল মোবিলিটি প্রমিস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শ্রমবাজারে বিদ্যমান ‘জাতিগত বৈষম্য’ এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব বাংলাদেশি পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের চক্রে আটকে রেখেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি এমন পরিবারে বাস করেন যেখানে সব সদস্য কর্মসংস্থানে যুক্ত নন।

পাকিস্তানি পরিবারগুলোর দারিদ্র্য এবং নীতি পরিবর্তনের প্রভাব

ব্রিটিশ পাকিস্তানি পরিবারগুলোর ৫৯ শতাংশ বর্তমানে দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন—দুই সন্তান পর্যন্ত বেনিফিট সীমা বাতিল—তাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারগুলোর তুলনায় পাকিস্তানি পরিবারগুলোর ৪১ শতাংশের তিন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে। নতুন নীতির প্রভাবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ হাজার হাজার পাকিস্তানি শিশুকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

চরম দারিদ্র্যসীমায়' ৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু - The Daily Ajker  Prottasha - Your Trusted News Portal

মুসলিম সম্প্রদায়ে ‘গুপ্ত ক্ষুধা’

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ক্রাইসিস অব বিলঙ্গিং’ প্রতিবেদনে ব্রিটিশ মুসলিমদের মধ্যে এক ‘গুপ্ত ক্ষুধা’র কথা উঠে এসেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ ব্রিটিশ মুসলিম পরিবার জরুরি গৃহস্থালি বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। চরম সংকটে থাকা সত্ত্বেও ৯৫ শতাংশ লোকই লোকলজ্জার কারণে সরকারি বা দাতব্য সহায়তা নিতে চান না। এই ‘অদৃশ্য দারিদ্র্য’ কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান মুসলিমদের মধ্যে আরও প্রকট।

মূল চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

আগামী মাসে চালু হতে যাচ্ছে ‘ডিপ মেটেরিয়াল পোভার্টি’ বা গভীর বস্তুগত দারিদ্র্য পরিমাপের নতুন সূচক। সমালোচকরা বলছেন, কেবল পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সংখ্যা কম দেখালে সমস্যার সমাধান হবে না। লন্ডন ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের উচ্চ আবাসন ব্যয় এবং মুসলিম নারীদের কর্মসংস্থানের বাধা দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।