০৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
জিও নিউজের সম্প্রচার আবার শুরু, ১৫ দিনের স্থগিতাদেশ বহাল রাখল পেমরা তামিলনাড়ুতে প্রতিদ্বন্দ্বী, দিল্লিতে একজোট? বিজয়ের টিভিকে নিয়ে ডিএমকের আপত্তিতে নতুন জটিলতা ইন্ডিয়া জোটে বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত, নিহত আরও ৭; মোট নিহত ৭১ সন্ত্রাসী ভারতে সেন্সর কাট, যুক্তরাজ্যে আনকাট মুক্তি পাচ্ছে বিজয়ের ‘জন নায়াগন’ বন্যায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৩.২ কেজি চাল ও ২৮ টাকা বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃত বেড়ে ৫১, সাত জেলায় খুলেছে ১,০৪৯ আশ্রয়কেন্দ্র রাজধানীর বাজারে হাঁটুসমান পানি, দোকান ডুবে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর আগে ইরানের হুমকি নিয়ে তার দৃঢ় মন্তব্য বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ৫ দিন পর আবার চালু ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার নিহত, ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভে বাসে আগুন

বন্যায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৩.২ কেজি চাল ও ২৮ টাকা

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাতটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাত জেলার মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মিলিয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা জেলার পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।

ত্রাণ বরাদ্দের হিসাব

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর জন্য মোট ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মোট সংখ্যার সঙ্গে বরাদ্দের তুলনা করলে দেখা যায়, ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ টাকা এবং মাথাপিছু চালের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি। বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় এ বরাদ্দ পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস

সরকার জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও দুর্গত মানুষের সহায়তায় কাজ করছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রমও প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে খাদ্য, বাসস্থান এবং জীবিকা পুনরুদ্ধারে আরও বড় পরিসরের সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি হতে পারে।

বন্যায় সাত জেলায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি হিসাবে মাথাপিছু বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩.২ কেজি চাল ও প্রায় ২৮ টাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিও নিউজের সম্প্রচার আবার শুরু, ১৫ দিনের স্থগিতাদেশ বহাল রাখল পেমরা

বন্যায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৩.২ কেজি চাল ও ২৮ টাকা

০৯:২২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাতটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাত জেলার মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মিলিয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা জেলার পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।

ত্রাণ বরাদ্দের হিসাব

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর জন্য মোট ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মোট সংখ্যার সঙ্গে বরাদ্দের তুলনা করলে দেখা যায়, ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ টাকা এবং মাথাপিছু চালের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি। বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় এ বরাদ্দ পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস

সরকার জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও দুর্গত মানুষের সহায়তায় কাজ করছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রমও প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে খাদ্য, বাসস্থান এবং জীবিকা পুনরুদ্ধারে আরও বড় পরিসরের সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি হতে পারে।

বন্যায় সাত জেলায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি হিসাবে মাথাপিছু বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩.২ কেজি চাল ও প্রায় ২৮ টাকা।