দেশের সাত জেলায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের প্রভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ১,০৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ জন।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলা ও প্রাণহানির চিত্র
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে, যেখানে ২৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন।
৫৯ উপজেলা পানির নিচে
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার প্রভাবে ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে ১,০৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে হাজারো মানুষ অবস্থান করছেন এবং তাদের জন্য খাদ্যসহ জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ত্রাণ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ৭ জুলাই থেকে দেশের ৬৪ জেলার জন্য ধাপে ধাপে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
রোববার চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির জন্য নতুন করে অতিরিক্ত বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম পেয়েছে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল। রাঙামাটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্রিক টন চাল।

১১ জেলায় বিজিবির উদ্ধার কার্যক্রম
বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় ১১ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীটি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুরে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জরুরি নির্দেশনা
রোববার প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান ভারী বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করা, দ্রুত ত্রাণ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ আট বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে বিভিন্ন এলাকার ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
চট্টগ্রামে পরিস্থিতির উন্নতি, ট্রেন চলাচল শুরু
বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় রোববার চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। রেললাইনের ওপর থেকে বন্যার পানি সরে যাওয়ায় দুপুরে ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করে।
তবে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ এখনো দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
বন্যায় মৃত ৫১, সাত জেলায় ১,০৪৯ আশ্রয়কেন্দ্র; সরকার ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















