০৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
জিও নিউজের সম্প্রচার আবার শুরু, ১৫ দিনের স্থগিতাদেশ বহাল রাখল পেমরা তামিলনাড়ুতে প্রতিদ্বন্দ্বী, দিল্লিতে একজোট? বিজয়ের টিভিকে নিয়ে ডিএমকের আপত্তিতে নতুন জটিলতা ইন্ডিয়া জোটে বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত, নিহত আরও ৭; মোট নিহত ৭১ সন্ত্রাসী ভারতে সেন্সর কাট, যুক্তরাজ্যে আনকাট মুক্তি পাচ্ছে বিজয়ের ‘জন নায়াগন’ বন্যায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৩.২ কেজি চাল ও ২৮ টাকা বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃত বেড়ে ৫১, সাত জেলায় খুলেছে ১,০৪৯ আশ্রয়কেন্দ্র রাজধানীর বাজারে হাঁটুসমান পানি, দোকান ডুবে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর আগে ইরানের হুমকি নিয়ে তার দৃঢ় মন্তব্য বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ৫ দিন পর আবার চালু ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার নিহত, ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভে বাসে আগুন

তামিলনাড়ুতে প্রতিদ্বন্দ্বী, দিল্লিতে একজোট? বিজয়ের টিভিকে নিয়ে ডিএমকের আপত্তিতে নতুন জটিলতা ইন্ডিয়া জোটে

  • Sarakhon Report
  • ০৯:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • 14

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে এবং ডিএমকের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রেখে জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একই মঞ্চে থাকার যে প্রস্তাব উঠেছিল, তা আপাতত প্রত্যাখ্যান করেছে ডিএমকে। ফলে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডিএমকের শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সাবেক মিত্র বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচি (ভিসিকে) যদি জাতীয় পর্যায়ে টিভিকেকে ইন্ডিয়া জোটে দেখতে চায়, তাহলে আগে বিজয়ের সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিজয় নিজেই ডিএমকেকে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরেছেন।

রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির ভিন্ন সমীকরণ

ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান প্রস্তাব করেছিলেন, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও টিভিকে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটে একসঙ্গে থাকতে পারে। তিনি এই মডেলের তুলনা করেন কেরালার ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ও লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে।

তবে ডিএমকে এমপি গণপতি পি. রাজকুমার বলেছেন, কেরালা বা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মডেল তামিলনাড়ুতে কার্যকর হবে না। তাঁর মতে, সংসদে কোনো সদস্য না থাকা একটি দলকে ইন্ডিয়া জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নও বিবেচনার দাবি রাখে।

ডিএমকের আরেক নেতা টি.কে.এস. এলাঙ্গোভানও বলেন, বিজয় যখন প্রকাশ্যে ডিএমকেকে রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে বর্ণনা করেন, তখন একই জোটে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

কারুর ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা

এই রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই কারুর সফরকে কেন্দ্র করে ডিএমকে ও বিজয়ের মধ্যে নতুন বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত বছরের এক সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রথমবার ওই এলাকায় গিয়ে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেন বিজয়।

সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ডিএমকে সরকারের অধীনে পুলিশ জনসমাগমের ব্যাপারে যথাযথ সতর্কতা দেয়নি। ডিএমকে এই অভিযোগকে ‘ভুল প্রচার’ ও ‘অতিরঞ্জিত নাটকীয়তা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মধ্যস্থতার চেষ্টা অব্যাহত

বিতর্কের মধ্যেও ভিসিকে প্রধান থিরুমাভালাভান তাঁর অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তাঁর মতে, বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হলে জাতীয় স্বার্থে ডিএমকে ও টিভিকে—উভয় দলেরই ইন্ডিয়া জোটে থাকা প্রয়োজন।

কংগ্রেস সাংসদ জ্যোতিমণিও এই মতকে সমর্থন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। টিভিকে ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব অর্জন করলে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে এই মধ্যস্থতার উদ্যোগ টিভিকের সব মিত্রের সমর্থন পায়নি। মারুমালার্চি দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগমের (এমডিএমকে) প্রধান ভাইকো থিরুমাভালাভানের অবস্থানকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করলেও পরে জানান, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

বিরোধের সূচনা যেভাবে

বর্তমান পরিস্থিতির সূত্রপাত মে মাসে। বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস দীর্ঘ নয় বছরের জোট ভেঙে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকারকে সমর্থন দেয়। এরপর ডিএমকে ঘোষণা করে, ইন্ডিয়া জোটের আগের কাঠামো আর কার্যকর নেই এবং তারা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলবে।

পরবর্তীতে ডিএমকে লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করে সংসদে তাদের সদস্যদের কংগ্রেসের আসন থেকে আলাদা বসানোর ব্যবস্থা করতে। একই সময়ে ভিসিকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএমও টিভিকে সরকারকে সমর্থন দেয়। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।

পরে জুনে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও ডিএমকে অংশ নেয়নি। তবে একই মাসের শেষদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো বিরোধী দলগুলোর যৌথ চিঠিতে ডিএমকে স্বাক্ষর করে, যা দলটির জাতীয় বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি—এমন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তামিলনাড়ু কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর সংসদ সদস্যদের ইন্ডিয়া জোটে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ চলছে। জোটের কাঠামো ও সমন্বয় কমিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন শিবির।

জাতীয় রাজনীতিতে টিভিকের অবস্থান

টিভিকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেয়নি, কারণ দলটি সে বছরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের বাস্তব প্রভাব এখনো সীমিত। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই দলটির প্রকৃত রাজনৈতিক ও সাংসদীয় শক্তি যাচাই হবে। তবে তামিলনাড়ুতে তাদের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন ইতোমধ্যেই জাতীয় বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তামিলনাড়ুতে টিভিকেকে ঘিরে ইন্ডিয়া জোটে নতুন টানাপোড়েন। রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জাতীয় রাজনীতিতে ঐক্যের প্রস্তাব আপাতত নাকচ করেছে ডিএমকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিও নিউজের সম্প্রচার আবার শুরু, ১৫ দিনের স্থগিতাদেশ বহাল রাখল পেমরা

তামিলনাড়ুতে প্রতিদ্বন্দ্বী, দিল্লিতে একজোট? বিজয়ের টিভিকে নিয়ে ডিএমকের আপত্তিতে নতুন জটিলতা ইন্ডিয়া জোটে

০৯:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে এবং ডিএমকের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রেখে জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একই মঞ্চে থাকার যে প্রস্তাব উঠেছিল, তা আপাতত প্রত্যাখ্যান করেছে ডিএমকে। ফলে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডিএমকের শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সাবেক মিত্র বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচি (ভিসিকে) যদি জাতীয় পর্যায়ে টিভিকেকে ইন্ডিয়া জোটে দেখতে চায়, তাহলে আগে বিজয়ের সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিজয় নিজেই ডিএমকেকে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরেছেন।

রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির ভিন্ন সমীকরণ

ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান প্রস্তাব করেছিলেন, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও টিভিকে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটে একসঙ্গে থাকতে পারে। তিনি এই মডেলের তুলনা করেন কেরালার ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ও লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে।

তবে ডিএমকে এমপি গণপতি পি. রাজকুমার বলেছেন, কেরালা বা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মডেল তামিলনাড়ুতে কার্যকর হবে না। তাঁর মতে, সংসদে কোনো সদস্য না থাকা একটি দলকে ইন্ডিয়া জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নও বিবেচনার দাবি রাখে।

ডিএমকের আরেক নেতা টি.কে.এস. এলাঙ্গোভানও বলেন, বিজয় যখন প্রকাশ্যে ডিএমকেকে রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে বর্ণনা করেন, তখন একই জোটে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

কারুর ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা

এই রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই কারুর সফরকে কেন্দ্র করে ডিএমকে ও বিজয়ের মধ্যে নতুন বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত বছরের এক সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রথমবার ওই এলাকায় গিয়ে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেন বিজয়।

সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ডিএমকে সরকারের অধীনে পুলিশ জনসমাগমের ব্যাপারে যথাযথ সতর্কতা দেয়নি। ডিএমকে এই অভিযোগকে ‘ভুল প্রচার’ ও ‘অতিরঞ্জিত নাটকীয়তা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মধ্যস্থতার চেষ্টা অব্যাহত

বিতর্কের মধ্যেও ভিসিকে প্রধান থিরুমাভালাভান তাঁর অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তাঁর মতে, বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হলে জাতীয় স্বার্থে ডিএমকে ও টিভিকে—উভয় দলেরই ইন্ডিয়া জোটে থাকা প্রয়োজন।

কংগ্রেস সাংসদ জ্যোতিমণিও এই মতকে সমর্থন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। টিভিকে ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব অর্জন করলে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে এই মধ্যস্থতার উদ্যোগ টিভিকের সব মিত্রের সমর্থন পায়নি। মারুমালার্চি দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগমের (এমডিএমকে) প্রধান ভাইকো থিরুমাভালাভানের অবস্থানকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করলেও পরে জানান, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

বিরোধের সূচনা যেভাবে

বর্তমান পরিস্থিতির সূত্রপাত মে মাসে। বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস দীর্ঘ নয় বছরের জোট ভেঙে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকারকে সমর্থন দেয়। এরপর ডিএমকে ঘোষণা করে, ইন্ডিয়া জোটের আগের কাঠামো আর কার্যকর নেই এবং তারা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলবে।

পরবর্তীতে ডিএমকে লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করে সংসদে তাদের সদস্যদের কংগ্রেসের আসন থেকে আলাদা বসানোর ব্যবস্থা করতে। একই সময়ে ভিসিকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএমও টিভিকে সরকারকে সমর্থন দেয়। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।

পরে জুনে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও ডিএমকে অংশ নেয়নি। তবে একই মাসের শেষদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো বিরোধী দলগুলোর যৌথ চিঠিতে ডিএমকে স্বাক্ষর করে, যা দলটির জাতীয় বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি—এমন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তামিলনাড়ু কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর সংসদ সদস্যদের ইন্ডিয়া জোটে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ চলছে। জোটের কাঠামো ও সমন্বয় কমিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন শিবির।

জাতীয় রাজনীতিতে টিভিকের অবস্থান

টিভিকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেয়নি, কারণ দলটি সে বছরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের বাস্তব প্রভাব এখনো সীমিত। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই দলটির প্রকৃত রাজনৈতিক ও সাংসদীয় শক্তি যাচাই হবে। তবে তামিলনাড়ুতে তাদের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন ইতোমধ্যেই জাতীয় বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তামিলনাড়ুতে টিভিকেকে ঘিরে ইন্ডিয়া জোটে নতুন টানাপোড়েন। রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জাতীয় রাজনীতিতে ঐক্যের প্রস্তাব আপাতত নাকচ করেছে ডিএমকে।